সকাল ১১:৩০:০০
| সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশ সদস্য আহত, মাটিতে ফেলে পেটানোর ঘটনা মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ২৮ দিনে, বছরের পর বছর ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

দুই দিনে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলন—কারা নিলো, হদিস নেই অনেক প্রকল্পের

দুই দিনে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলন—কারা নিলো, হদিস নেই অনেক প্রকল্পের
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

চাঁদপুর প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে যখন অস্থির পরিস্থিতি চলছিল, ঠিক সেই সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে টেন্ডার ছাড়াই বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়। কোথাও কোনও কাজ না করেই, আবার কোথাও নামমাত্র বা আংশিক কাজ করে পুরো প্রকল্প সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া নথি অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মাত্র দুই দিনে ২১টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটোয়ারী অপসারণের ঠিক একদিন আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ইস্যু করা হয় ১৭টি চেক। এসব চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।

এর চার দিন আগে, অর্থাৎ ১৪ আগস্ট, চারটি প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। ১৪ ও ১৮ আগস্টের নথিতে থাকা অর্থের অঙ্ক যোগ করলে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। যদিও জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যে এই দুই দিনের উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলা হয়েছে।

নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রকল্পে কোনও কাজই হয়নি। আবার কোথাও আংশিক কাজ হলেও পুরো কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল দেওয়া হয়েছে। কোনও কোনও ঠিকাদার আবার দাবি করেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ ও বিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আরও পাঁচটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল। তবে চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। পরে চেকগুলো বাতিল করা হয়।

১৪ আগস্ট চার প্রকল্পে ১৬ লাখ টাকা

অনুসন্ধানে পাওয়া নথি অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে চারটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।

এরপর চেয়ারম্যান অপসারণের আগের দিন, ১৮ আগস্ট বিভিন্ন প্রকল্পের নামে আরও ১৭টি চেক ইস্যু করা হয়। এসব চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।

অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড়ের ঘটনা ঘটে।

এই ১৭টি চেকের মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে একদিনেই সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল দেওয়ার তথ্যও রয়েছে।

হলরুমের কাজে প্রায় ১৬ লাখ টাকার বিল নিয়ে প্রশ্ন

নথিতে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে জেলা পরিষদের হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ এবং ভবন সংস্কার ও রংকরণ প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মেসার্স শরীফ অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স আরিফুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজের নামে নেওয়া এই দুটি প্রকল্পের মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাস্তবে কোনও কাজ না করেই প্রকল্প দুটির বিপরীতে পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

যা বলছেন ঠিকাদার

মেসার্স শরীফ অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী শরীফ মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, তিনি জেলা পরিষদের হলরুমের কোনও কাজ করেননি—এ বিষয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিত।

তবে তিনি জানান, তার লাইসেন্সে অন্যরা দুই-তিনটি কাজ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদারি কাজের ক্ষেত্রে একজনের লাইসেন্সে আরেকজন কাজ করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে ওই নির্দিষ্ট কাজটি কে করেছেন, সে বিষয়ে তাকে খোঁজ নিতে হবে।

এর একদিন পর অবশ্য তিনি নিজের আগের বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, তার লাইসেন্সে কাজ হয়েছে বলেই তার নামে বিল হয়েছে এবং তারাই কাজটি করেছেন।

অন্যদিকে হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ প্রকল্পের ঠিকাদার আরিফুল ইসলাম বলেন, ওই দুটি কাজ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। কাজগুলো কী ছিল, সেটিও তিনি বলতে পারবেন না। প্রকল্প পাসের প্রক্রিয়াও তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, জেলা পরিষদের প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাকে ফোন করে সকালে চেক নিয়ে যেতে বলেন এবং বিকালে টাকা ফেরত নেওয়ার কথা জানান।

আরিফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা উত্তোলনের পর ওই দিন বিকালেই প্রায় ১৮ লাখ টাকা প্রকৌশলী তার কাছ থেকে নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, সহজ-সরলভাবে তিনি তার লাইসেন্সে কাজ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। ঠিকাদারি সেক্টরে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। তবে প্রকল্প সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

তিনি বলেন, যদি কাজ না করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি এর বিচার দাবি করেন।

একদিনেই ঠিকাদার নজরুলের নামে প্রায় ৭০ লাখ টাকা

১৮ আগস্ট ইস্যু করা চেকগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার চূড়ান্ত বিল দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব প্রকল্পের কয়েকটির কাজ তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

এর মধ্যে বাবুরহাট মার্কেটের সাইট প্রস্তুত ও বালু ভরাটের দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।

তবে শেখ নজরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি যে কাজ করেছেন, শুধু সেই কাজেরই বিল নিয়েছেন।

একদিনে ৭০ লাখ টাকা উত্তোলনের কথা শুনে প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিনি যে কাজ করেছেন তারই বিল নিয়েছেন এবং কাজের বাইরে কোনও বিল নেননি। এ বিষয়ে অফিস বা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, মার্কেটের সাইট প্রস্তুতকরণের জন্য অবকাঠামো অপসারণের কাজে ভেকু ব্যবহারের জন্য প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তার দাবি, তার লাইসেন্স ব্যবহার করে তাকে দিয়ে টাকা উত্তোলন করে অন্যরা লেনদেন করেছেন।

বালু ভরাটের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবুরহাট বাজারের মসজিদের সামনে খাল ভরাট করা হয়েছে। প্রকৌশলী ও নির্বাহী কর্মকর্তা কাজ না দেখে তাকে বিল দিয়েছেন কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার দাবি, কাজ করা ছাড়া তিনি কোনও টাকা নেননি।

তবে বাবুরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন।

তাদের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানের পর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ গাড়ি বালু ফেলা হয়েছিল। ব্যবসায়ীরাও নিজেদের উদ্যোগে কিছু জায়গায় বালু ফেলেছেন। এরপরও পুরো জায়গা ভরাট হয়নি।

ব্যবসায়ীদের হিসাবে, ওই সময়ের বালুর মূল্য হতে পারে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।

আরও ৩৪ লাখ টাকার পাঁচ চেক

নথিতে আরও পাঁচটি চেকের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।

তবে চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফাইলগুলো তার কাছে আসে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ওই ফাইলগুলোর জন্য চেক লিখে চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করেন।

চেকগুলোতে চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

তবে পরবর্তীতে কী কারণে নির্বাহী কর্মকর্তা চেকগুলো বাতিল করেছেন, সে বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তাই বলতে পারবেন বলে জানান হিসাবরক্ষক।

‘ভুয়া প্রজেক্ট তৈরি করে ৩৪ লাখ টাকার চেক’

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সেলিম উল্লাহ সেলিম বলেন, এই পাঁচটি চেকের বিপরীতে কোনও ফাইল নেই, কোনও প্রকল্প নেই।

তার প্রশ্ন, নির্বাহী কর্মকর্তা কেন এসব চেকে স্বাক্ষর করেছিলেন? তার মতে, নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর করার অর্থ প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করা।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে ৩৪ লাখ টাকার পাঁচটি চেক প্রস্তুত করা হয়েছিল।

কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি—‘দু-একটি কাজ মোটেই হয়নি’

জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাটও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ না হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার জানামতে যেসব প্রকল্পের কথা বলে বিল নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অফিসের ভেতর কোনও কাজ হয়নি। অন্যান্য কিছু কাজ আংশিক হয়েছে এবং কয়েকটি কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সব প্রকল্পেই অনিয়ম হয়েছে—এমন নয়; আবার সবকিছু যে সঠিকভাবে হয়েছে, তাও নয়।

তিনি জানান, কাজের সাইট পরিদর্শন ও তদারকির দায়িত্ব প্রকৌশলীর। প্রকৌশলী কাজের পরিমাণ ও বাস্তবায়ন যাচাই করে সার্টিফাই করলে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনও ফাইলে সার্টিফাই লেখা আছে, আবার কোনওটিতে নেই। তবে প্রকৌশলীই বিল প্রস্তুত করেছেন এবং স্বাক্ষর দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সমস্ত প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়।

প্রশাসক বলছেন—‘প্রজেক্ট নেই, কাজ হয়নি’

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সেলিম উল্লাহ সেলিম বলেন, সকল ফাইল জেলা পরিষদের অফিসে বসে স্বাক্ষর করার কথা।

তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অফিসে না বসলেও চার দিনের ব্যবধানে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বিল অনুমোদন হয়ে যায়।

তিনি বলেন, বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে তিনি দেখেছেন—প্রকল্প নেই, কাজ হয়নি। তার অভিযোগ, সম্পূর্ণ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রকল্পের বাস্তবতা এবং কাজের অগ্রগতি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন—‘ভুল করে লেখা হয়েছিল’

চেক বাতিলের বিষয়ে জেলা পরিষদের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, চেকগুলো কীভাবে হয়েছে তা জানার পরই সেগুলো বাতিল করা হয়।

তিনি বলেন, যতদূর তার মনে পড়ে, ওই ফাইলগুলো সঠিক ছিল না এবং ভুল করে লেখা হয়েছিল।

তার দাবি, প্রকৌশলীর প্রত্যয়ন ছাড়া কোনও বিল দেওয়া হয় না।

তিনি আরও বলেন, বরং ঠিকঠাক কাজ না করা এবং ব্যক্তি স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্প—এ ধরনের কয়েকটি প্রকল্প তিনি ৫ আগস্টের পর বাতিল করেছিলেন।

ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান অনেকটা ‘ওয়ান ম্যান শো’। চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীর পছন্দের লোকজন বেশির ভাগ জায়গায় তালিকাভুক্ত হন এবং ঘুরেফিরে ওইসব ঠিকাদারই কাজ পান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শুধু নিয়ম-কানুনগুলো দেখেন এবং এখানে তাদের কোনও ব্যক্তি স্বার্থ নেই।

ঠিকাদারদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, বিল তো তাদের কাছেই গেছে। তারা যদি না জানেন, তাহলে বিলের জন্য আবেদন করলেন কে?

প্রকৌশলীর দাবি—কাজ হওয়ার পরই বিল দেওয়া হয়েছে

জেলা পরিষদের সাবেক প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন প্রকল্পকে পুরোপুরি বাস্তবায়িত দেখিয়ে কাজ বুঝে নেওয়ার সার্টিফিকেট দিয়েছেন।

তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তার দাবি, কাজ হওয়ার পরই বিল দেওয়া হয়েছে এবং কাজ ছাড়া বিল দেওয়ার কথা নয়।

চেকগুলো সম্ভবত আগের চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান তিনি।

ঠিকাদারদের লাইসেন্সে কারা কাজ করলো?

অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কাজের প্রকল্প, বাস্তবায়ন এবং অর্থ উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে।

একাধিক ঠিকাদার বলেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের ধরন, কাজের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের স্থান সম্পর্কে তারা বিস্তারিত জানতেন না বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে জেলা পরিষদের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, বিল ঠিকাদারদের কাছেই গেছে এবং তারা যদি না জানেন, তাহলে বিলের জন্য আবেদন করলেন কে—এই প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।

ফলে কোন ঠিকাদারের লাইসেন্সে কোন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে কাজ কে করেছেন, কে সাইট পরিদর্শন করেছেন, কে কাজ সম্পন্নের প্রত্যয়ন দিয়েছেন এবং উত্তোলিত অর্থ শেষ পর্যন্ত কার হাতে গেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদন্তে দুদক

এসব অভিযোগ সামনে এলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা অন্য কারও বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার।

তিনি বলেন, এখানে যোগদানের পর সম্প্রতি তারা দুদক থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। এ বিষয়ে দুদক তথ্য চেয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুদকের চিঠি পাওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে।

তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি এখন দুদক তদন্ত করছে, তাই তারা যতটুকু সম্ভব প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন। এ কারণে তাদের আলাদাভাবে তদন্ত করার বিষয় থাকবে না।

নথিতে পাওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন, প্রকল্পের কাজ না হওয়ার অভিযোগ, ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের দাবি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যয়ন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য—সব মিলিয়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এখন দুদকের তদন্তেই স্পষ্ট হতে পারে—সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর বাস্তব কাজ কতটুকু হয়েছিল, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন এবং উত্তোলিত অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় বা কার হাতে গেছে।

জেটিভি নিউজ বাংলা | বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য