সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খানের নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাভারে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি
ডেস্ক রিপোর্ট
ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকার সাভারে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ‘দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে সাভার উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ বিশেষ কর্মসূচিতে উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। কর্মসূচির আওতায় অফিস প্রাঙ্গণ, আশপাশের এলাকা এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচির ব্যানারে ‘দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ বাস্তবায়ন উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি’ উল্লেখ করা হয়। এ সময় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, যেখানে-সেখানে পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত ধ্বংস করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ গুরুত্ব
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। ফলে বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা নির্মাণাধীন স্থাপনার আশপাশে সামান্য পরিমাণ পানি জমে থাকলেও তা মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।
এ কারণে নিয়মিতভাবে ফুলের টব, টবের নিচের প্লেট, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, পুরোনো টায়ার, বালতি, ড্রাম, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি যাতে কোনো পাত্র বা স্থাপনার অংশে দীর্ঘ সময় জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ নিয়মিত পরিদর্শন করে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা দ্রুত পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জনসচেতনতার ওপর জোর
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা বলেন, শুধু মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
বিশেষ করে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, অফিস, দোকানপাট ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় পাত্র বা আবর্জনা যথাযথভাবে সরিয়ে ফেলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আশপাশের কেউ যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একদিনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া জরুরি। কারণ বর্ষা ও বৃষ্টিপাতের সময় বিভিন্ন স্থানে নতুন করে পানি জমে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তাই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খানের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডেঙ্গুর ঝুঁকিও অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে সবাইকে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে…..
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম