মায়ের এক থাপ্পড়ে অভিমান করে পাবনা থেকে ঢাকায় দুই শিশু, সাভারে উদ্ধার; উদ্বেগে জেটিভি নিউজ বাংলার সম্পাদক ও সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম
ডেস্ক রিপোর্ট, জেটিভি নিউজ বাংলা
পাবনা থেকে ঢাকামুখী যাত্রা করে পথ হারিয়ে সাভারে এসে পড়ে ১৩ বছর বয়সী দুই শিশু। তারা পাবনা জেলার নারায়ণপুর গ্রামের নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের আল মার্কাস নূরানী কিন্ডারগার্টেন ও হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে সাভারের উলাইল ময়লার মোড় এলাকায় এক অটোরিকশাচালক তাদের উদ্ধার করেন। ঘটনাটি শিশুদের পারিবারিক পরিবেশ, মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, পাবনা জেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া দুই শিশু একপর্যায়ে নিজেদের গন্তব্য হারিয়ে ফেলে। পরে সাভারের উলাইল ময়লার মোড় এলাকায় তাদের দেখতে পেয়ে এক অটোরিকশাচালক উদ্ধার করেন। বিষয়টি জেটিভি নিউজ বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক রুমন জোয়ার্দ্দার জনির নজরে এলে তিনি রাত ০৮:২০ মিনিট আনুমানিক শিশু দুটির সঙ্গে যোগাযোগ ও কথা বলেন এবং তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিশু দুটিকে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন জেটিভি নিউজ বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক রুমন জোয়ার্দ্দার জনি।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামকে পলাতক শিশু দুটিকে জেটিভি নিউজ বাংলা এর সম্পাাদক ও প্রকাশক রুমন জোয়ার্দ্দার জনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার এএসআই আব্দুর রহমান পাবনা জেলার নারায়ণপুর, নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের আল মার্কাস নূরানী কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক আব্দুল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। এ সময় শিশু নাইমের পরিচয় ও বাড়ি থেকে পালিয়ে আসার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়।
পরিচালক আব্দুল্লাহ জানান, শিশু নাইমের পিতার নাম নূর আলম এবং মাতার নাম নিলুফার ইয়াসমিন। তিনি অভিযোগ করেন, নাইম মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে গিয়ে টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে নাইমকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।
তবে মাত্র ১৩ বছর বয়সে কী কারণে বাড়ি ছেড়ে এত দূরে চলে এসেছে, সে বিষয়ে নাইমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তার উত্তর ছিল, ‘আমার মা আমাকে একটা থাপ্পড় দিয়েছে, তাই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি।’
শিশু বয়সে মায়ের একটি থাপ্পড়ের কারণে বাড়ি ছেড়ে অজানা গন্তব্যে চলে আসার এমন বক্তব্য শুনে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, এএসআই আব্দুর রহমানসহ উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা হতবাক হয়ে যান।
এদিকে ঘটনাটি জানার পর আগামী প্রজন্মের মানসিক চিন্তাভাবনা, আচরণ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেটিভি নিউজ বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক রুমন জোয়ার্দ্দার জনি।
তিনি মন্তব্য করেন, কীভাবে একটি শিশু সামান্য মায়ের বকুনি কিংবা শাসনে অভিমান করে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে অজানা ও অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে পা বাড়াতে পারে, তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করে। শিশুদের এমন আচরণের পেছনে পারিবারিক পরিবেশ, অভিভাবকদের দায়িত্বশীলতা এবং তাদের মানসিক অবস্থার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া, স্নেহ-ভালোবাসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শাসন ও নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য না রাখা এবং অভিভাবকদের উদাসীনতা শিশুদের আচরণ ও ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পারিবারিক নজরদারি ও দিকনির্দেশনার অভাবে শিশুদের মধ্যে হিংস্রতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং অনিয়ন্ত্রিত মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদেরও শিশুদের আচরণ, মানসিক অবস্থা ও নৈতিক বিকাশের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সন্তানকে শুধু স্বাধীনতা কিংবা শুধু কঠোর শাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শাসন, নিয়ন্ত্রণ, স্নেহ ও ভালোবাসার সমন্বয়ে লালন-পালন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
একটি ছোট্ট অভিমান থেকে দুই শিশুর পাবনা ছেড়ে ঢাকামুখী যাত্রা এবং শেষ পর্যন্ত সাভারে পথ হারিয়ে ফেলার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে…….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম