সকাল ১১:৩০:০০
| বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনারের বড় বোনের মৃত্যুতে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল ও জেটিভি নিউজ বাংলার শোক প্রকাশ মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশ সদস্য আহত, মাটিতে ফেলে পেটানোর ঘটনা মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি, অ্যাম্বুলেন্স মাত্র ২৩টি; বাড়ছে বন্দিমৃত্যু

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি, অ্যাম্বুলেন্স মাত্র ২৩টি; বাড়ছে বন্দিমৃত্যু

 

দেশের ৬৮টি কারাগারে বন্দি রাখার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার। অথচ সর্বশেষ ৮ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এসব কারাগারে বন্দি ছিল প্রায় এক লাখ। ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বন্দির চাপের পাশাপাশি কারাগারগুলোতে রয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্সের সংকট। ৬৮টি কারাগারের বিপরীতে কারা অধিদফতরের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ২৩টি।

কারাগারের ভেতরে হঠাৎ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোকের উপসর্গ কিংবা অন্য কোনও গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে একজন বন্দির নিজের পছন্দ অনুযায়ী দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকে না। চিকিৎসক পাওয়া, কারা হাসপাতাল থেকে রেফার করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা এবং এরপর বাইরের হাসপাতালে পৌঁছানো— পুরো প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করতে হয় বন্দিকে।

চিকিৎসক ও নার্স সংকটের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের অপ্রতুলতা এবং ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দির চাপ যুক্ত হওয়ায় জরুরি চিকিৎসার এই পুরো প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ হয়ে উঠছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট কিংবা অন্য কোনও গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত বন্দিকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া না গেলে জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন টাইম’-এর একটি অংশ প্রশাসনিক ও পরিবহন ব্যবস্থার জটিলতার মধ্যেই চলে যায়। ফলে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আট মাসে ৯৭ বন্দির মৃত্যুর তথ্য

বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের কারাগারগুলোতে ৯৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৬১ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বন্দিমৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে কারাবন্দি মারা গেছেন ৭৩ জন। সংগঠনটির এই পরিসংখ্যানের উৎস দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ।

অন্যদিকে কারা অধিদফতরের হিসাবের পরিধি আরও বড়। অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৩৯০ জন বন্দি মারা যান। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন।

৬৮ কারাগারের বিপরীতে অ্যাম্বুলেন্স মাত্র ২৩টি

দেশে বর্তমানে কারাগার রয়েছে ৬৮টি। এর বিপরীতে কারা অধিদফতরের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ২৩টি। অর্থাৎ সব কারাগারের জন্য আলাদা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা নেই।

কারা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুরুতর অসুস্থ বন্দিকে কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানোর সময় এই সংকট সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়। নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স না থাকলে বিকল্প গাড়ির ব্যবস্থা করতে হয়। একইসঙ্গে নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং রোগী স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় বাড়তি সময় লাগে। এতে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার পাশাপাশি পথে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনে ৪৪টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

ভারপ্রাপ্ত কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে কারা অধিদফতরের ২৩টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পর আরও ৪৪টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কিছু পর্যবেক্ষণ নিষ্পত্তি হলে অনুমোদনের পর ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, নতুন অ্যাম্বুলেন্সগুলো পাওয়া গেলে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৫১, নিয়মিত আছেন মাত্র ১০ জন

কারা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৮টি কারাগারের জন্য চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৫১টি। কিন্তু নিয়মিত চিকিৎসক আছেন মাত্র ১০ জন।

ডিপ্লোমা নার্সের সংকটও দীর্ঘদিনের। বিপুলসংখ্যক বন্দির বিপরীতে চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা এবং রাতের জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত আইজি প্রিজন্স চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে একটি গণমাধ্যমকে বলেন, চিকিৎসক সংকট, নিয়মিত চিকিৎসক না থাকা এবং ডিপ্লোমা নার্সের ঘাটতির বাস্তব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে সংকট কাটানোর চেষ্টা চলছে। তবে চিকিৎসক নিয়োগ ও পদায়নের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষকে তাদের ওপর নির্ভর করতে হয়।

নার্স সংকট কিছুটা কমাতে সম্প্রতি সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে কারা অধিদফতরে ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। নিয়োগসংক্রান্ত বাকি প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা বন্দিদের চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হবেন।

রাতে চিকিৎসা সংকট সবচেয়ে প্রকট

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, কারাগারে চিকিৎসক সংকট নতুন কোনও সমস্যা নয়। তবে রাতের জরুরি চিকিৎসায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, কারাগারে চিকিৎসক সংকট দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রাতের বেলায় চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত অপ্রতুল। কোনও বন্দি গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরের হাসপাতালে পাঠাতেও দেরি হয়। এর সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স সংকট যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

তার অভিযোগ, কারাগারে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীরও ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষ উদ্বেগের জায়গা হিসেবে গ্রেফতারের আগে বা গ্রেফতারের সময় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এমন কাউকে কারাগারে পাঠানোর পর যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা না হলে তার শারীরিক ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

নূর খান লিটন বলেন, কারাগারে অসুস্থ বন্দিদের রাখার জায়গাও সীমিত। একইসঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, কখনও কখনও প্রকৃত অসুস্থ নন— এমন বন্দিরা প্রভাব বা অর্থের বিনিময়ে কারা চিকিৎসাকেন্দ্রের সুবিধা পেয়ে থাকেন। এ ধরনের অনিয়ম হলে প্রকৃত অসুস্থ বন্দির চিকিৎসার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে যায়।

তার মতে, কারাবিধি সংস্কার, কারা হাসপাতালের আধুনিকায়ন, রাতের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং গুরুতর রোগীকে দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।

ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার, বন্দি প্রায় এক লাখ

চিকিৎসা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে অতিরিক্ত বন্দির চাপ। কারা কর্তৃপক্ষের হিসাবে দেশের কারাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার। অথচ বর্তমানে বন্দির সংখ্যা এক লাখের বেশি বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন্স।

কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, কারাগারগুলোতে প্রায় ৪৫ হাজার বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে। সেখানে যদি প্রায় এক লাখ বন্দি থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হয়। চিকিৎসাসেবা যথাযথভাবে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত বন্দির কারণে আবাসন, খাবার, স্যানিটেশন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ প্রতিটি ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয় বলেও জানান তিনি।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, একই জায়গায় ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত মানুষ থাকলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। একইসঙ্গে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত বন্দিদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

বন্দিমৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মানবাধিকারকর্মী ইজাজুল ইসলামের মতে, বন্দিমৃত্যুর পেছনে একটি নয়, পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে।

একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অসুস্থ বন্দিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে না পারা, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত বন্দি, চিকিৎসক ও নার্সের সংকট, ওষুধের ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে না পারা— সব মিলিয়েই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

এর সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের বিষয়গুলোও যুক্ত বলে মনে করেন তিনি।

ইজাজুল ইসলাম বলেন, কারাগারে থাকা ব্যক্তির স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে, কিন্তু তার জীবন, মর্যাদা ও স্বাস্থ্যসেবার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক মৃত্যু শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়— এটি জীবনের অধিকার, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

বিশেষ করে হাজতিদের মৃত্যুর ঘটনা আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। কারণ বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত একজন হাজতি আইনের চোখে দোষী সাব্যস্ত নন।

তিনি বলেন, কারাগারে প্রবেশের সময় প্রত্যেক বন্দির পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা, পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করতে হবে। গুরুতর অসুস্থ বন্দিকে দ্রুত বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রতিটি মৃত্যুর কারণ স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত এবং কারাগারের স্বাস্থ্য ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত প্রকাশের ওপরও গুরুত্ব দেন এই মানবাধিকারকর্মী।

বন্দিদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৪৫ বছর বা তার বেশি

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কারাগারে থাকা বন্দিদের প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স ৪৫ বছর বা তার বেশি।

ভারপ্রাপ্ত কারা মহাপরিদর্শক বলেন, এই বয়সে একজন মানুষের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। কারাগারের সীমিত পরিবেশ ও মানসিক চাপ সেই ঝুঁকিকে আরও বাড়াতে পারে।

তিনি বলেন, কারাগারে আটক ব্যক্তিরা একটি বদ্ধ পরিবেশে থাকেন। স্বাধীনভাবে হাঁটাচলার সুযোগ সীমিত। মানসিক চাপও থাকে। ফলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

প্রায় ৩০ শতাংশ বন্দি মাদকাসক্ত বা মাদক সংশ্লিষ্ট

কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে থাকা বন্দিদের প্রায় ৩০ শতাংশ মাদকাসক্ত অথবা মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।

মাদকাসক্ত বন্দিদের অনেকের ক্ষেত্রে সাধারণ শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি আসক্তি নিরাময় ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হয়। কিন্তু কারা হাসপাতালগুলোতে এ ধরনের সমন্বিত চিকিৎসার সক্ষমতা এখনও সীমিত।

‘মৃত্যুর সংখ্যা শুধু মোট সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করা যাবে না’

বন্দিমৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এক লাখের বেশি বন্দির বিপরীতে মৃত্যুর সংখ্যাকে শুধু মোট সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করলে হবে না।

ভারপ্রাপ্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, যেকোনও মৃত্যুই অনাকাঙ্ক্ষিত। কারাগারগুলোতে বর্তমানে এক লাখের বেশি বন্দি রয়েছেন। সেই অনুপাতে মৃত্যুর সংখ্যা খুব বেশি বলে মনে হচ্ছে না। তবে তারা কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু চান না।

তিনি বলেন, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজন হলে বন্দিকে কারাগারের বাইরে সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তবে কারাগারে বন্দির সংখ্যা, চিকিৎসক-নার্সের ঘাটতি, অ্যাম্বুলেন্সের অপ্রতুলতা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা— সব মিলিয়ে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা ও বন্দিমৃত্যুর বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরুরি চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো, পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক-নার্স নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি বন্দিমৃত্যুর কারণ স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করাই হতে পারে পরিস্থিতি মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য,সাহস, সংযোগ……

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য