ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে সিডিআর-এনআইডিসহ গোপন তথ্য বিক্রি, সিটিটিসির অভিযানে গ্রেফতার ১
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থের বিনিময়ে মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, জন্মনিবন্ধনের তথ্য, এসএমএস কনটেন্টসহ বিভিন্ন গোপন ও সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম অমিত পাল। রাজধানীর মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন ধরনের গোপন ও সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ডেটা অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল।
বিজ্ঞাপনে মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মনিবন্ধনের তথ্য, এসএমএস কনটেন্ট এবং এলসিএল/এলআরএল বিক্রির বিষয় প্রচার করা হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচার বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয় সিটিটিসি।
সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিমের শনাক্ত
ডিএমপি জানায়, সিটিটিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস টিম প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া ফেসবুক আইডির ব্যক্তিকে শনাক্ত করে।
তদন্ত ও তথ্য বিশ্লেষণের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সিটিটিসির সদস্যরা মগবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে অমিত পালকে গ্রেফতার করা হয়।
স্মার্টফোন ও ৪০ পাতার স্ক্রিনশট জব্দ
পুলিশের অভিযানে অমিত পালের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পর্যালোচনা করে তথ্য কেনাবেচা এবং লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যের ৪০ পাতা স্ক্রিনশট আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, এসব স্ক্রিনশটে ডেটা বিক্রি ও লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সাইবার অপরাধের অভিযোগ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত অমিত পাল দীর্ঘদিন ধরে সাইবার স্পেসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
তার বিরুদ্ধে অবৈধ ই-ট্রানজেকশন পরিচালনারও অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা তার ব্যবহৃত ডিভাইস, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং জব্দ করা স্ক্রিনশটসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করছেন বলে জানা গেছে। এসব তথ্যের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ডেটা সংগ্রহ, বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রমনা থানায় মামলা
এ ঘটনায় গ্রেফতার অমিত পালের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রেফতার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, সাইবার স্পেসে ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্যের অবৈধ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস,সংযোগ…….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম