এসএসসি-এইচএসসির খাতা মূল্যায়নে কঠোর হচ্ছে সরকার
ইচ্ছাকৃত কম-বেশি নম্বরে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, পুনর্নিরীক্ষণে আসছে নতুন নীতিমালা
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে কঠোর হচ্ছে সরকার। উত্তরপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে কম-বেশি নম্বর দেওয়া, মূল্যায়নে গাফিলতি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় কয়েকজন পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে সংশোধিত আইনও পাস হয়েছে। এখন ওই আইনের আলোকে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণকে আরও সুনির্দিষ্ট করতে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হওয়ায় ভবিষ্যতে কোন ধরনের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, কোন ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে এবং কী ধরনের অসঙ্গতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে—এসব বিষয় নির্দিষ্ট করে নতুন নীতিমালা তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার।
১২ লাখের বেশি আবেদন, পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে নতুন ভাবনা
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ফল প্রকাশের পরদিন ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে এসব আবেদন গ্রহণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ১২ লাখের বেশি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ায় বিদ্যমান প্রক্রিয়ার সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সরকারকে। এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা সময়সাপেক্ষ ও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ফলে ভবিষ্যতে কোন ধরনের খাতা বা কোন ধরনের ফলাফলের ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে, সেটি নীতিমালার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পিত নতুন নীতিমালায় পুনর্নিরীক্ষণের আওতা নির্ধারণ করা হলে একদিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য মূল্যায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় বিপুলসংখ্যক আবেদন সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
৭ জুলাই পাস হয়েছে সংশোধিত আইন
উত্তরপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে কম-বেশি নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রেখে গত ৭ জুলাই সংশোধিত আইন পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।
‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের সংশোধিত আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদানকারী পরীক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ কোনো পরীক্ষক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রে প্রকৃত প্রাপ্য নম্বরের তুলনায় বেশি বা কম নম্বর দেন এবং বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে কোনো পরীক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধে দণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্রে নম্বরের অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ শুধু একজনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে শাস্তি নয়, নম্বরের অসঙ্গতি যাচাইয়ের জন্য তৃতীয় পরীক্ষকের মূল্যায়নও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
১৯৮০ সালের আইন হালনাগাদ
নতুন সংশোধিত আইনটি প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত ১৯৮০ সালের ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) অ্যাক্ট’ হালনাগাদ করেছে।
১৯৮০ সালে প্রণীত আইনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধ করা। সময়ের সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থায় নতুন ধরনের অনিয়মের বিষয় সামনে আসায় আইনটি সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
সংশোধিত আইনে তাই শুধু প্রচলিত পরীক্ষার অনিয়ম নয়, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও নতুন শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
ডিজিটাল জালিয়াতিতেও সর্বোচ্চ ৫ বছরের শাস্তি
সংশোধিত আইনে পাবলিক পরীক্ষার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া পরীক্ষার ডাটাবেইজে প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য বিকৃত করা কিংবা পরীক্ষার রেকর্ডে কারসাজি করার মতো ডিজিটাল অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষায় সংগঠিতভাবে জালিয়াতি করা কিংবা জালিয়াতির জন্য চক্র গঠন করলেও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
ফলে নতুন আইনে পাবলিক পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থাপনায়—প্রশ্নপত্র থেকে শুরু করে উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল প্রস্তুত এবং ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা—অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
নতুন নীতিমালা কেন প্রয়োজন
উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা এর আগেই জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক।
তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন নীতিমালায় কোন ধরনের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে, তার আওতা নির্দিষ্ট করা হবে।
মূলত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ার বিষয়টি সামনে রেখেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
১৭ আগস্ট মন্ত্রীর বক্তব্য
এর আগে গত ১৭ আগস্ট ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘কিউএস (সাইমন্ডস কুয়াকোয়ারেল্লি) বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসএসসির উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য অসংখ্য আবেদন জমা পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখেরও বেশি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী আরও বলেন, এই অবস্থা দেখে মনে হয় প্রায় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখের অধিক খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়েছে। এত বিপুলসংখ্যক খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিষয়। তাই খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে কোন ধরনের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আসবে, সেটি নির্দিষ্ট করা হবে।
২০২৫ সালের পরীক্ষায় আট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আট পরীক্ষককে পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ২৬ জুলাই বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত উত্তরপত্রের ওএমআর অংশ পরীক্ষার্থীদের দিয়ে পূরণ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর আট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শাস্তি পাওয়া আট পরীক্ষকের মধ্যে চারজন এসএসসি এবং চারজন এইচএসসি পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এ ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, উত্তরপত্র মূল্যায়ন বা পরীক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কিংবা নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সামনে এসএসসি ও এইচএসসিতে আরও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা
সরকারের পরিকল্পিত নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে পরবর্তী এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করার সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে সংশোধিত আইনের আওতায় উত্তরপত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে কম-বেশি নম্বর দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এর ফলে একজন পরীক্ষকের মূল্যায়নে কোনো শিক্ষার্থী অযথা বঞ্চিত হলে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করার জন্য আরও সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো থাকবে।
মূল্যায়নে জবাবদিহি বাড়ানোর পরিকল্পনা
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১২ লাখের বেশি পুনর্নিরীক্ষণ আবেদনের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে ভবিষ্যতের পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়ন, পুনর্মূল্যায়ন এবং পরীক্ষকদের জবাবদিহির কাঠামো আরও নির্দিষ্ট করার দিকে যেতে পারে সরকার।
একদিকে বিপুলসংখ্যক পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় পরীক্ষকদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিও আরও স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষকের গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত অনিয়মের কারণে বঞ্চিত হবে না। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষার্থী যেন প্রকৃত প্রাপ্যতার চেয়ে বেশি নম্বরও না পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
‘কেউ বঞ্চিত হোক, আবার অতিমূল্যায়িতও হোক—তা চাই না’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় পরীক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন আইন পাস হয়েছে, নীতিমালা তৈরি হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড মিলে নীতিমালা প্রস্তুত করবে। সরকার নীতিমালা চূড়ান্ত করে জারি করলে নীতিমালার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, তারা কোনো পরীক্ষার্থীকে বঞ্চিত করতে চান না। আবার কেউ যাতে অতিমূল্যায়িত না হয়, সেটিও চান না। সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
অর্থাৎ সরকারের নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—একজন শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষকের ভুল, গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত অনিয়মের কারণে বঞ্চিত না হয় এবং একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী যেন অনিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত সুবিধাও না পায়।
নতুন ব্যবস্থায় যা পরিবর্তন হতে পারে
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ১২ লাখের বেশি পুনর্নিরীক্ষণ আবেদনের অভিজ্ঞতা এবং ২০২৫ সালের পরীক্ষায় পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—দুই ঘটনাই উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
নতুন নীতিমালা হলে পুনর্নিরীক্ষণের আওতা নির্দিষ্ট করার পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের দায়িত্ব, নম্বরের অসঙ্গতি যাচাই, অনিয়মের তদন্ত এবং প্রমাণিত অভিযোগে শাস্তির বিষয়গুলো আরও সুস্পষ্ট হতে পারে।
এর পাশাপাশি সংশোধিত আইনের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে কম-বেশি নম্বর দেওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান কার্যকর করার আইনি ভিত্তিও তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এখন থেকে সঠিক মূল্যায়ন, পরীক্ষকের জবাবদিহি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই এগোতে চাইছে সরকার।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস, সংযোগ….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম