সকাল ১১:৩০:০০
| শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনারের বড় বোনের মৃত্যুতে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল ও জেটিভি নিউজ বাংলার শোক প্রকাশ মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশ সদস্য আহত, মাটিতে ফেলে পেটানোর ঘটনা মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

শাহজালাল বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

শাহজালাল বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

দুজনের বদলে ক্যানোপিতে ৮–১০ স্বজন, চেকপোস্টের সামনে সিএনজি-দালালের দৌরাত্ম্য; জাতীয় কমিটির নির্দেশের এক মাস পরও পরিস্থিতি বদলায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে যেন শৃঙ্খলা হারিয়েছে। যাত্রীর সঙ্গে স্বজনদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, সিএনজি চালক ও গাড়ির দালালদের দৌরাত্ম্য, এলোমেলো গাড়ি পার্কিং, ক্যানোপিতে অতিরিক্ত লোকসমাগম এবং ভিক্ষুক ও অবৈধ লাগেজ র‌্যাপারদের উপস্থিতিতে প্রতিনিয়ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বিমানবন্দরের প্রবেশপথে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একাধিক চেকপোস্ট থাকার পরও কারা বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে প্রবেশ করছে, তা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ৭ আগস্ট বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় উপস্থাপিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এপিবিএনের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজন ক্যানোপিতে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও যথাযথ নজরদারির অভাবে ৮ থেকে ১০ জন পর্যন্ত প্রবেশ করছেন।

এর ফলে ক্যানোপি লোকে-লোকারণ্য হয়ে প্রতিনিয়ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। প্রবেশ গেটে নিরাপত্তা চেকপোস্ট থাকলেও কারা প্রবেশ করছে, তাদের পরিচয় কী এবং তারা কেন প্রবেশ করছে—এসব বিষয়ে যথাযথ জবাবদিহি না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

৬ আগস্টের জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির সভা নিয়েও প্রকাশিত সরকারি তথ্য ও সংবাদ প্রতিবেদনে বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজনের প্রবেশ নিশ্চিত করার সুপারিশের কথা উঠে আসে। একই সঙ্গে ট্রাফিক জট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুক ও অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয় হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু সেই নির্দেশনার প্রায় এক মাস পরও সরেজমিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।


গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এপিবিএনের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

গত ৭ আগস্ট বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দফতরে বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়, বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে এপিবিএনের একাধিক নিরাপত্তা চৌকি রয়েছে। সাধারণ যাত্রী, দর্শনার্থী এবং বিমানবন্দরে আসা লোকজনকে যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তা যাচাই করার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় যাত্রীর স্বজন ছাড়াও বহিরাগত ও অনুমোদনহীন লোকজন হরহামেশাই বিমানবন্দরে প্রবেশ করছে।

এতে শুধু শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে না, বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজন ক্যানোপিতে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও নজরদারির অভাবে ৮ থেকে ১০ জন পর্যন্ত সেখানে ঢুকে পড়ছেন। ফলে ক্যানোপিতে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইডে ট্রাফিক জ্যাম, ক্যানোপিতে অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র‌্যাপারের হয়রানি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও বেবিচকের নিজস্ব গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

এতে যাত্রী হয়রানির পাশাপাশি বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ল্যান্ডসাইডের নিরাপত্তা বিধান এবং এসব কার্যকলাপ বন্ধ করার দায়িত্ব এপিবিএনের ওপর থাকলেও তাদের দায়িত্বে অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


নির্দেশ ছিল কঠোর, বাস্তবায়ন কোথায়?

জাতীয় কমিটির ওই সভায় এসব সমস্যা নিরসনে সুপারিশের পাশাপাশি তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

যাত্রীর সঙ্গে দুজনের বেশি স্বজন যেন ক্যানোপিতে প্রবেশ করতে না পারেন, বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানো, চেকপোস্টে যথাযথ নজরদারি এবং বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু নির্দেশনার এক মাস পরও অভিযোগ রয়েছে, এসবের কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।

বরং সরেজমিনে দেখা গেছে, যাত্রীর সঙ্গে তিন থেকে চারজন তো বটেই, কখনও সাত থেকে আটজন স্বজনও ক্যানোপিতে প্রবেশ করছেন।

কেউ বাধা দিচ্ছেন না।

কেউ জানতে চাইছেন না—কে যাত্রী, কে স্বজন, আর কে বহিরাগত।

সবকিছু এপিবিএন সদস্যদের চোখের সামনেই ঘটছে।


সরেজমিনে ক্যানোপিতে ৮ জন পর্যন্ত স্বজন

জেটিভি নিউজ বাংলার অনুসন্ধানে বিমানবন্দরের বহির্গমন ক্যানোপিতে দেখা যায়, একজন যাত্রীকে বিদায় জানাতে একসঙ্গে অনেক স্বজন প্রবেশ করছেন।

আব্দুল আহাদ নামের এক যাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন। তাকে বিদায় জানাতে এসেছেন তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, মা ও বাবা। তাদের সঙ্গে আরও দুই প্রতিবেশী এসেছেন। একটি হাইয়েস গাড়ি ভাড়া করে তারা বিমানবন্দরে আসেন।

অর্থাৎ একজন যাত্রীর সঙ্গে স্বজন ও পরিচিত মিলিয়ে আটজনের মতো মানুষ ক্যানোপির ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আহাদ বলেন, ‘আমরা এটা জানি না। কেউ আমাদের বলেনি। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। কেউ তো এ বিষয়েও কিছু বললও না।’

আশরাফুল নামের আরেক যাত্রীর সঙ্গেও পাঁচজন এসেছেন বিদায় জানাতে।

বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। যদি জানতাম, অবশ্যই নিয়ম মানতাম।’

এখানে প্রশ্ন উঠছে—যদি বিমানবন্দরে প্রবেশের নিয়ম নির্দিষ্ট থাকে, তাহলে যাত্রী ও স্বজনরা সেটি না জেনেই কীভাবে চেকপোস্ট পার হয়ে ক্যানোপিতে প্রবেশ করছেন?


চেকপোস্ট আছে, নজরদারি কতটা?

বিমানবন্দরের প্রবেশপথে এপিবিএনের চেকপোস্ট রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও সেখানে অবস্থান করেন।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, চেকপোস্টের আশপাশেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষ চলাচল করছেন।

বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে ভেতরে ঢুকতেই দুই পাশের রাস্তার উঁচু ডিভাইডারে কাউকে খাবার খেতে, কাউকে বসে সিগারেট টানতে দেখা যায়।

তারা যাত্রী, স্বজন নাকি বাইরের লোক—এ বিষয়ে কেউ জিজ্ঞাসাও করছেন না।

অথচ এর পাশেই রয়েছে এপিবিএনের চেকপোস্ট।

নিরাপত্তার দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই—বিমানবন্দরের মতো সংরক্ষিত এলাকায় কারা প্রবেশ করছেন এবং তারা কতক্ষণ অবস্থান করছেন, তার নজরদারি যদি চেকপোস্টে না হয়, তাহলে চেকপোস্টের কার্যকারিতা কতটা?


টার্মিনাল ১ ও ২-এ ঠেলাঠেলি, গ্রিন চ্যানেল পর্যন্ত ভিড়

আগমনী অর্থাৎ টার্মিনাল ১ ও ২ এলাকায় গেলে আরও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চোখে পড়ে।

কে কাকে ঠেলে সামনে যাবেন, যেন সেই প্রতিযোগিতা চলছে।

গ্রিন চ্যানেল কিংবা তারও ভেতরে যাওয়ার জন্য সবাই ব্যস্ত। যাত্রীদের সঙ্গে স্বজন, অপেক্ষমাণ লোকজন এবং অন্যান্য ব্যক্তিরাও বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছেন।

একই অবস্থা বহির্গমন এলাকাতেও।

দুই তলায় গেলে সেখানেও শত শত মানুষকে বিক্ষিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

পুরো বিমানবন্দরজুড়েই যাত্রী ও স্বজনদের এমন অবস্থান চোখে পড়ে।

বিমানবন্দরে আসা লোকজনের ভাষ্য, আগে লোকজন এলেও একটি শৃঙ্খলা ছিল। এখন সেই শৃঙ্খলা অনেকটাই অনুপস্থিত।


ফ্লাইট নামলেই ক্যানোপিতে ছুটছেন স্বজনরা

ফ্লাইট নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় আরেক দফা দৌড়ঝাঁপ।

ফ্লাইট নামছে—এমন খবর পেলেই যে যেখানে থাকেন, সেখান থেকে ক্যানোপির ভেতরে চলে আসেন।

ফলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্যানোপিতে অবস্থান করেন।

চাপাচাপির কারণে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, হঠাৎ কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া কতটা সম্ভব—সেটিও প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

অথচ ক্যানোপির এই প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও ভিড় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এপিবিএনের।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে ক্যানোপির ভেতরে কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। এখন ভেতরে প্রবেশের সুযোগ থাকায় সবাই সেখানে আসতে চান।

যাত্রীদের স্বজনদের বাধা দেওয়ার মতোও সেখানে কাউকে দেখা যায় না।

অথচ ক্যানোপির পাশেই বেঞ্চে বসে থাকেন এপিবিএন সদস্যরা।


‘আগে শৃঙ্খলা ছিল, এখন নেই’

বিমানবন্দরে আসা লোকজন বলছেন, আগের তুলনায় এখন বিমানবন্দরের পরিবেশ অনেক বেশি বিশৃঙ্খল।

প্রবাসী যাত্রীদের বসার জায়গা থাকলেও সেখানে খুব বেশি লোকজন যান না। আবার কম লোকের ব্যবস্থার কারণে অনেকে বাইরে বিক্ষিপ্তভাবে বসেন।

এতে বিমানবন্দরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দুটিই নষ্ট হচ্ছে।

হাজার হাজার মানুষের প্রতিদিনের উপস্থিতিতে বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গন অনেকটা সায়েদাবাদ বা গাবতলীর মতো হয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।


সিএনজি চালকদের দৌরাত্ম্য, বিমানবন্দর যেন সিএনজি স্ট্যান্ড

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনের আরেকটি বড় সমস্যা সিএনজি চালকদের অবস্থান।

যাত্রী নিয়ে এসে নামানোর পর দ্রুত চলে যাওয়ার কথা থাকলেও অনেক সিএনজি বিমানবন্দরের বহির্গমন ও আগমনী ক্যানোপির বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে।

কেউ ক্যানোপির ভেতরে দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকছেন, কেউ ক্যানোপির বাইরে অবস্থান করছেন, আবার কেউ কার পার্কিং ও আশপাশের এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।

ক্যানোপির ভেতরে দুই-তিনটি করে সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

গাড়িগুলো সারিবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এলোমেলোভাবে রাখা হচ্ছে।

ফলে দীর্ঘ গাড়ির সারি তৈরি হচ্ছে এবং যাত্রীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এর মধ্যেও সিএনজি চালকরা যাত্রী নেওয়ার জন্য ডাকাডাকি করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে এলোমেলো গাড়ি, অন্যদিকে যাত্রীদের স্বজনদের ভিড়—সব মিলিয়ে ক্যানোপির ভেতরে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ নেই।


এপিবিএনের সদস্যদের সামনেই সিএনজি

ক্যানোপির এক পাশে এপিবিএন সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

সেই পাশেই দুই-তিনটি সিএনজি দাঁড় করিয়ে রাখা।

এলোমেলো গাড়ি, যাত্রীদের স্বজন এবং সিএনজি চালকদের কারণে যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছেন না।

অনেক যাত্রীকে মালামাল হারানোর আশঙ্কায় ট্রলির ওপর থাকা ব্যাগ শক্ত করে ধরে রাখতে দেখা যায়।

ক্যানোপি-২-এর পর ক্যানোপি-১-এ গিয়েও ভেতরে সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

কর্তব্যরত এপিবিএন সদস্যদের সিএনজি কেন দাঁড়িয়ে আছে—এমন প্রশ্ন করা হলে তারা চালককে খুঁজতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজার পরও ওই সিএনজি চালককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উপরের বহিরাঙ্গনের ক্যানোপিতেও একই চিত্র।

যাত্রী নামানোর পর বের হয়ে যাওয়ার রাস্তায় সিএনজি চালকরা গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী খুঁজছেন।

আগমনী ও বহির্গমন ক্যানোপির বাইরেও পুরো বিমানবন্দরজুড়ে তাদের অবস্থান দেখা যায়।

প্রকাশিত সরেজমিন প্রতিবেদনে এ ধরনের সিএনজি অবস্থানের পাশাপাশি চালকদের বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার অভিযোগও উঠে এসেছে।


যাত্রী পেলেই ভাড়া চড়া

শুধু গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখাই নয়, বিমানবন্দরে যাত্রী পাওয়ার পর অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সরেজমিনে রিয়াদ থেকে আসা মনোয়ারুল ইসলাম নামের এক যাত্রী ক্যানোপি-২ থেকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটে যাওয়ার জন্য একটি সিএনজির সঙ্গে কথা বলেন।

সিএনজি চালক তার কাছে ২৫০ টাকা ভাড়া দাবি করেন।

অথচ ক্যানোপি-২ থেকে ৮ নম্বর গেট প্রায় দেখাই যায়।

এ নিয়ে একপর্যায়ে ওই যাত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে সিএনজি চালকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ ধরনের ঘটনায় বিমানবন্দরে নামার পরপরই যাত্রীরা এক ধরনের চাপের মধ্যে পড়ছেন বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।


‘এপিবিএনকে ম্যানেজ করেই’ অবস্থানের অভিযোগ

ক্যানোপির ভেতর থেকে বাইরে বের হওয়ার রাস্তায় দাঁড় করানো সিএনজির চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা যাত্রীর আশায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্নভাবে এপিবিএন সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করে এসব জায়গায় যাত্রীর আশায় বসে থাকেন তারা।

ফলে নিষেধাজ্ঞা বা দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে ক্যানোপির বিভিন্ন জায়গায় সিএনজি অবস্থান করছে।

এতে শুধু যানজটই হচ্ছে না, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।


ক্যানোপিতে গাড়ি, ভেতরে শত শত মানুষ

আগমনী ক্যানোপি-২-এ যাত্রী নিতে একের পর এক গাড়ি প্রবেশ করছে।

গাড়িগুলো সারিবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

ক্যানোপির ভেতরেই এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখার কারণে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।

এর মধ্যে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিগুলো যাত্রী নেওয়ার জন্য ডাকাডাকি করছে।

ফলে যাত্রীরা মালামাল নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছেন না।

একই সঙ্গে যাত্রীর স্বজনরাও এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকছেন।

সব মিলিয়ে ক্যানোপি যেন একটি অস্থায়ী গাড়ি স্ট্যান্ড ও অপেক্ষমাণ মানুষের জায়গায় পরিণত হয়েছে।


নিরাপত্তার চেয়ে ‘খোশগল্প’—সরেজমিনে এমন দৃশ্যও

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যানোপির এক পাশে এপিবিএন সদস্যরা নির্ধারিত স্থানে বসে আছেন।

তাদের সামনে এলোমেলোভাবে সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রীদের স্বজনদের ভিড় থাকলেও অনেক সময় তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

এমনকি গাড়ি সরানো, স্বজনদের নির্ধারিত সীমার বাইরে যেতে বাধা দেওয়া কিংবা বহিরাগতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেও নিয়মিতভাবে দেখা যায়নি।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের চোখের সামনে যদি অনিয়ম চলে, তাহলে বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?


নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের সতর্কতা

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, যাত্রীকে নিতে পরিবারের লোকজন আসবেন—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু একসঙ্গে সবাই ক্যানোপির ভেতরে প্রবেশ করলে সেখানে আর নিরাপত্তা বলতে কিছু থাকে না।

তার মতে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে শত শত মানুষের কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই প্রবেশ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।

তাই এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


এপিবিএনের বক্তব্য: ‘দুজন প্রবেশের চেষ্টা করি’

অভিযোগের বিষয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, যাত্রীর সঙ্গে দুজন প্রবেশের ব্যাপারে তারা চেষ্টা করেন।

তবে একটি গাড়ি তল্লাশি করতে ৪ থেকে ৫ মিনিট সময় লাগে। এতে পেছনে আরও গাড়ির সারি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, গাড়িতে অনেক সময় নারী ও বৃদ্ধ থাকেন। তাদের নামিয়ে দিতেও খারাপ লাগে।

এছাড়া নিয়মিত অভিযান চালিয়ে উপদ্রব করা লোকজনকে আটক করা হয় বলেও জানান তিনি।

অন্য এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এ রকম হওয়ার কথা না। তারপরও খোঁজখবর নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’


বেবিচকের বক্তব্য: ‘বহিরাঙ্গন তদারকি করে এপিবিএন’

বিমানবন্দরের এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিমানবন্দরের সদস্য নিরাপত্তা এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল বলেন, বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনের বিষয়টি তদারকি করে এপিবিএন।

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় পরিষ্কারভাবে নিরাপত্তা বিষয়ে কার কী দায়িত্ব, তা বলে দেওয়া হয়েছে। অথচ এই কমিটির সভার এক মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও যদি বাস্তবায়ন না করে, তবে আর কী বলার আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বেবিচকের সদস্য নিরাপত্তার বক্তব্যের সঙ্গে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনের বক্তব্যও সামঞ্জস্যপূর্ণ—বহিরাঙ্গনের বিষয়টি এপিবিএনের তদারকির মধ্যে পড়লেও অভিযোগ পাওয়ার পর বেবিচক তাদের অবহিত করে বলে তিনি জানান।


প্রশ্ন উঠছে, নির্দেশনার বাস্তবায়ন কোথায়?

বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজনের প্রবেশ, বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক জট নিরসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু প্রায় এক মাস পর সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে—

এক. একজন যাত্রীর সঙ্গে দুজনের বদলে ৫ থেকে ৮ জন পর্যন্ত স্বজন ক্যানোপিতে প্রবেশ করছেন।

দুই. কোথাও কোথাও ৮ থেকে ১০ জন পর্যন্ত প্রবেশের অভিযোগ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তিন. ক্যানোপিতে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না।

চার. সিএনজি চালকরা ক্যানোপির ভেতরে ও বাইরে অবস্থান করছেন।

পাঁচ. এলোমেলো গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যাত্রী চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

ছয়. গাড়ির দালাল, ভিক্ষুক ও অবৈধ লাগেজ র‌্যাপারদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েছে।

সাত. চেকপোস্ট থাকার পরও কারা বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে ঢুকছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আট. ফ্লাইট নামলেই ক্যানোপিতে স্বজনদের ঢল নামছে।

নয়. বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে শত শত মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করছেন।

দশ. নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সংস্থার সদস্যদের সামনেই এসব ঘটছে—এমন অভিযোগ ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণ রয়েছে।


নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকরই কি বড় ঝুঁকি?

একদিকে জাতীয় কমিটির সভায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার কথা বলা হয়েছে।

তারপরও যদি একই জায়গায় অনিয়ন্ত্রিত মানুষ প্রবেশ করেন, ক্যানোপিতে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে, সিএনজি চালকরা যাত্রী খুঁজতে অবস্থান করেন এবং চেকপোস্টের সামনেই এসব কার্যক্রম চলে—তাহলে বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিশেষ করে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কে কোথায় প্রবেশ করছেন, কতক্ষণ অবস্থান করছেন এবং কী উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন—এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি না থাকলে কোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এ কারণে শুধু সভায় নির্দেশনা নয়, মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না—তার নিয়মিত নজরদারি, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেটিভি নিউজ বাংলার অনুসন্ধানে বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনের এই চিত্র সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য