সকাল ১১:৩০:০০
| সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশ সদস্য আহত, মাটিতে ফেলে পেটানোর ঘটনা মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ২৮ দিনে, বছরের পর বছর ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

১৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির আড়ালে কী তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে?

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

১৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির আড়ালে কী তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে?

চীন থেকে পণ্য আসে, রফতানি যায় সামান্য

চীন থেকে বাংলাদেশে আসে বিশাল জাহাজভর্তি পণ্য। শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে শুরু করে নানা ধরনের শিল্প উপকরণ—বাংলাদেশের আমদানি তালিকায় চীনের পণ্যের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে চীনের বন্দরে যায় তুলনামূলক অনেক কম জাহাজ। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে তৈরি হয়েছে বিশাল ব্যবধান।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল প্রায় ১৮ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। একই সময়ে চীনে বাংলাদেশ রফতানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে ওই অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের কোনো একক দেশের সঙ্গে এটিই সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ঘাটতি।

তবে এই হিসাবের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও রয়েছে।

চীন থেকে বাংলাদেশে আসা সব পণ্য দেশের মানুষের সরাসরি ভোগের জন্য নয়। আমদানির বড় একটি অংশ শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণ। এসব পণ্য এনে বাংলাদেশে কারখানা চলছে, উৎপাদন হচ্ছে, নতুন শিল্প সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে এবং সেই উৎপাদনের একটি অংশ আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানিও হচ্ছে।

তাহলে প্রশ্ন হলো—চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কি শুধুই আমদানিনির্ভরতার গল্প, নাকি এই আমদানির একটি অংশ ভবিষ্যতের শিল্প সক্ষমতা তৈরির ভিত্তিও তৈরি করছে?

তিন পর্বের এই অনুসন্ধানের প্রথম পর্বে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে জেটিভি নিউজ বাংলা। দেখা হয়েছে—চীনের পুঁজি ও পণ্য বাংলাদেশে কী ধরনের উৎপাদন তৈরি করছে, চীনের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের সুযোগ কতটা কাজে লাগছে এবং বড় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা কতটা বাস্তব কারখানায় রূপ নিচ্ছে।


প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল প্রায় ১৮ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

একই সময়ে চীনে বাংলাদেশের রফতানি হয়েছে ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

ফলে ওই অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করেছে, তার তুলনায় রফতানির পরিমাণ ছিল খুবই কম।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির পৃথক হিসাবে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কম—প্রায় ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার হিসাব পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় পরিসংখ্যানে কিছুটা ব্যবধান দেখা গেলেও মূল চিত্রে কোনো পরিবর্তন নেই।

বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ পণ্য চীন থেকে কিনছে, বিপরীতে চীনের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি এখনও তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত।

তবে পরবর্তী সময়ে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে চীনের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বেড়ে প্রায় ৮২১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

যদিও এই রফতানির পরিমাণ এখনও চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানির তুলনায় অনেক কম, তবু রফতানি বাড়ার প্রবণতা চীনের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য সম্ভাবনার নতুন জায়গা তৈরি করছে।

এর সঙ্গে জড়িত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—চীন থেকে আমদানি করা কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বাংলাদেশে কত ডলারের নতুন উৎপাদন তৈরি হচ্ছে এবং সেই উৎপাদনের কতটা শেষ পর্যন্ত রফতানি হচ্ছে?


আমদানি কি তৈরি করছে নতুন শিল্প?

চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের বড় অংশ সরাসরি ভোগ্যপণ্য নয়।

এর মধ্যে রয়েছে শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণ।

অর্থাৎ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তার পুরোটা মানুষের সরাসরি ভোগের অর্থ নয়। এর একটি বড় অংশ বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত।

চীন থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দেশে নতুন কারখানা গড়ে উঠছে। কাঁচামাল ব্যবহার করে বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরি হচ্ছে। মধ্যবর্তী পণ্য ব্যবহার করে দেশীয় ও রফতানিমুখী উৎপাদন চালু থাকছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ—সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে শুধু আমদানি-রফতানির হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।

তার মতে, বাংলাদেশের প্রয়োজন চীনের বাজার, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উৎপাদন নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়া। তবে এজন্য বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং বাজার কৌশলও শক্তিশালী করতে হবে।

সিপিডির আরেক বিশিষ্ট ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে শুধু ঋণ ও অবকাঠামো প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রফতানি সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

অন্যথায় বাংলাদেশ শুধু কম খরচের শ্রম ও উৎপাদনঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অর্থাৎ চীন থেকে কত পণ্য বাংলাদেশে আসছে—শুধু সেই হিসাব করলেই হবে না। একই সঙ্গে দেখতে হবে, এসব পণ্য বাংলাদেশের ভেতরে কতটা নতুন উৎপাদন, কর্মসংস্থান, শিল্প সক্ষমতা এবং রফতানি তৈরি করছে।


শুল্ক কমেছে, কিন্তু চীনের বাজার পাওয়া কি সহজ?

চীনের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে শুল্ক সুবিধার কারণে।

চীন ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রায় সব ট্যারিফ লাইনে শূন্য শুল্ক সুবিধা কার্যকর করেছে। ফলে বাংলাদেশও এই সুবিধা পাচ্ছে।

কিন্তু শুল্ক কমলেই যে কোনো দেশের বাজারে প্রবেশ সহজ হয়ে যায় না।

চীনের বাজারে ঢুকতে হলে পণ্যের মান, নকশা, প্যাকেজিং, প্রয়োজনীয় সনদ, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং চীনা ক্রেতার চাহিদা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

বাংলাদেশের রফতানি কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারকেন্দ্রিক। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চীনা ভোক্তা বাজারে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের আলাদা প্রস্তুতি প্রয়োজন।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির—বিসিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, চীন বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করে বলে অনেক উদ্যোক্তা সেখানে প্রতিযোগিতায় যেতে দ্বিধা করেন।

এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যকে সরাসরি চীনের ভোক্তা বাজারে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার হিসাবে, একই ধরনের কাপড় উৎপাদনে চীনের ব্যয় বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কম।

ফলে প্রযুক্তি ও উৎপাদন দক্ষতায় উন্নতি না ঘটালে বাংলাদেশের শিল্পের পক্ষে চীনের বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে।

তবে সম্ভাবনার জায়গাটিও বড়।

খোরশেদ আলম মনে করেন, বছরে ১০০ কোটি ডলারের পোশাক চীনের বাজারে নেওয়া অসম্ভব নয়।

এই লক্ষ্য সামনে রেখে বিসিসিসিআই চীনের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য প্রায় ২০টি প্রদর্শনী বা বিক্রয়কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করছে।


কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম

চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়াতে কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগ।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের প্রদর্শনকেন্দ্র এবং সমপরিমাণ জায়গায় গুদাম চালুর জন্য একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।

চলতি বছরের মধ্যেই এটি চালু হতে পারে বলে তিনি জানান।

এ ধরনের উদ্যোগ চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি উপস্থিতি তৈরির একটি পথ খুলতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত কতটা পণ্য বিক্রি হবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর—পণ্যের দাম, মান, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং চীনা ক্রেতাদের প্রকৃত চাহিদা।

অর্থাৎ প্রদর্শনকেন্দ্র তৈরি হওয়া বাজারে প্রবেশের একটি মাধ্যম হতে পারে; কিন্তু সেটিই রফতানি সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়।


পোশাকের বাইরে কোথায় চীনা বিনিয়োগ?

চীন নিজেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক উৎপাদক।

তাই প্রচলিত তৈরি পোশাকের বাইরে কোন কোন খাতে চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশকে নতুন সক্ষমতা দিতে পারে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক শুধু কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি কেনার সম্পর্ক হয়ে থাকলে সম্ভাবনা সীমিত থাকবে।

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি এনে পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প এবং উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তু, মানবসৃষ্ট তন্তু, প্রযুক্তিগত বস্ত্র, রং ও প্রিন্টিং এবং পোশাকের পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্পে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ।

এ ধরনের বিনিয়োগ এলে পোশাক খাতের কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক পণ্যের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশে উৎপাদনের পরিধিও বাড়তে পারে।

২০২৬ সালের ৪ আগস্ট বিজিএমইএ এবং বাংলাদেশে প্রবাসী চীনা উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন’-এর মধ্যে চীনা বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ এবং বন্ধ বা দুর্বল কারখানায় নতুন পুঁজি ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, চীনের বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ।

তবে সেই বাজারে প্রবেশের জন্য পণ্য, বিপণন ও ব্যবসায়িক কৌশলেও পরিবর্তন আনতে হবে।

তার মতে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাকেন্দ্রিক কাঠামোয় অভ্যস্ত। ফলে চীনের মতো বিশাল বাজারে প্রবেশের জন্য আলাদা কৌশল প্রয়োজন।


বিলিয়ন ডলারের ঘোষণা, কিন্তু কারখানা কতটি?

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ নিয়ে গত কয়েক বছরে বড় বড় অঙ্কের আলোচনা হয়েছে।

শিল্পপার্ক, ইলেকট্রনিকস, বস্ত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে এসেছে বিনিয়োগের ঘোষণা এবং আগ্রহের কথা।

কিন্তু বিনিয়োগের ঘোষণা এবং বাস্তবে চালু হওয়া কারখানা—দুটি এক বিষয় নয়।

শিল্পায়নের বাস্তব প্রমাণ তখনই আসে, যখন জমি পাওয়া যায়, অর্থায়ন আসে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষ হয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিশ্চয়তা থাকে, কারখানা তৈরি হয়, যন্ত্রপাতি বসে, উৎপাদন শুরু হয় এবং সেই পণ্য বাজারে যায়।

অর্থাৎ একটি বিনিয়োগ ঘোষণাকে বাস্তব শিল্পে পরিণত করতে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

এ বিষয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে এর আগে বিভিন্ন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তিনি বিনিয়োগের ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের মধ্যে পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন।

তার বক্তব্যের সারকথা হলো—বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া ইতিবাচক সংকেত হলেও মূল লক্ষ্য শুধু প্রস্তাব পাওয়া নয়; সেই বিনিয়োগকে প্রকল্পে এবং প্রকল্পকে বাস্তব উৎপাদনে রূপ দেওয়া।


গ্যাস নেই, বিনিয়োগ থাকবে কোথায়?

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পথে বড় বাস্তব বাধাগুলোর একটি জ্বালানি।

২০২৬ সালের জুনে আশিক চৌধুরী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, স্থানীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্যই জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসের সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে।

সেখানে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে গড়ে ওঠা তিনটি কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে বছরের পর বছর পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারেনি।

এতে স্পষ্ট হয়—করছাড়, নীতিসুবিধা কিংবা বিনিয়োগের অনুমোদন থাকলেই একটি শিল্পপ্রকল্পের অর্থনৈতিক ফল নিশ্চিত হয় না।

কারখানা নিয়মিত চালানোর মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। আর উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হলে বিনিয়োগের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফলও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে তাই শেষ প্রশ্নটি খুব সরল—কারখানা কি নিয়মিত চলবে?


বাণিজ্য ঘাটতির আড়ালে আসল হিসাব কোথায়?

চীনের পণ্য বাংলাদেশে আসছে, চীনা কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি দেশের শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে, চীনা পুঁজি ও প্রযুক্তি আনার উদ্যোগ চলছে এবং একই সঙ্গে চীনের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ঢোকার সুযোগও বাড়ছে।

ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে শুধু ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না।

একদিকে বিপুল আমদানি বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতার প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে এসব আমদানির একটি অংশ আবার বাংলাদেশের কারখানা, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং রফতানি সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।

মূল বিষয় হলো—চীন থেকে আসা পণ্য কতটা সরাসরি ভোগে যাচ্ছে এবং কতটা দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার হচ্ছে।

একইভাবে চীনা বিনিয়োগের কতটা শুধু ঘোষণা হিসেবে থাকছে আর কতটা বাস্তব কারখানা, উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতায় রূপ নিচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের বাজারে শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। কুনমিংয়ে প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদামের উদ্যোগ, চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টা এবং পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্পে প্রযুক্তি ও পুঁজি আনার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে সম্ভাবনার জায়গা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশের শিল্পকে একই সঙ্গে প্রযুক্তি, উৎপাদন দক্ষতা, পণ্যের বৈচিত্র্য, মান, বিপণন, সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি এবং বিনিয়োগ বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

চীনের পুঁজি বাংলাদেশে আসছে, চীনা পণ্য ও কাঁচামাল দেশের শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে, আবার চীনের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ঢোকার সুযোগও বাড়ছে।

এই সম্পর্কের প্রকৃত অর্থনৈতিক ফল শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে একটি পূর্ণাঙ্গ চক্র কতটা কার্যকরভাবে তৈরি হচ্ছে তার ওপর—

চীন থেকে কাঁচামাল ও প্রযুক্তি → বাংলাদেশে উৎপাদন → মূল্য সংযোজন → নতুন শিল্প সক্ষমতা → বাংলাদেশি পণ্য → চীনের বাজার ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে রফতানি।

এই চক্র যত শক্তিশালী হবে, ততই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ককে শুধু আমদানি-নির্ভরতা হিসেবে না দেখে উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা তৈরির একটি সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে মূল্যায়ন করা যাবে।

তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপ নিতে হলে বিনিয়োগের ঘোষণা থেকে বাস্তব কারখানা, কারখানা থেকে নিয়মিত উৎপাদন এবং উৎপাদন থেকে রফতানি—প্রতিটি ধাপেই কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

—চলবে

তিন পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব
জেটিভি নিউজ বাংলা

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য