রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম দেশে, ৯ ফ্লাইটে আসবে আরও ২১১ অ্যাসেম্বলি
জেটিভি নিউজ বাংলা, ডেস্ক রিপোর্ট
ছবি সংগৃহীত
সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে এসে পৌঁছেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন চালান। রাশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করা ইউরেনিয়ামবাহী বিমানটি বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে ভারত হয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বিমানটি পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালানটি বুঝে নেন। এরপর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ইউরেনিয়ামের মতো পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ কারণে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় রাতেই চালানটি রূপপুরে নেওয়ার কথা রয়েছে।
৯টি ফ্লাইটে আসবে আরও ২১১টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহের এই প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৯টি ফ্লাইটে দেশে আসবে আরও ২১১টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি।
এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনা হবে।
অর্থাৎ পরবর্তী ধাপে প্রথম ও দ্বিতীয়—দুই ইউনিটের জন্যই প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়া থেকে এসব ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে কয়েকটি দেশের ওপর দিয়ে।
চালানগুলো রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসবে। নির্ধারিত রুটে পর্যায়ক্রমে এসব ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে পৌঁছানোর পর তা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে।
এর আগে ২০২৩ সালে এসেছিল প্রথম ইউনিটের জ্বালানি
রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আসার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল।
পরবর্তীতে চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে। চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি স্থাপন করলেই সরাসরি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় না। এর আগে কেন্দ্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কারিগরি সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হয়। রূপপুরেও সেই ধারাবাহিক প্রস্তুতি চলছে।
স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের প্রথম দুই পরীক্ষা সফল
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষাও চলছে।
কেন্দ্রটির স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের প্রথম দুটি পরীক্ষা সফল হয়েছে। তবে তৃতীয় ভালভের পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। এ কারণে তৃতীয় ভালভটি আবার পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তৃতীয় পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়; বরং পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় একটি ভালভের পুনরায় পরীক্ষা প্রয়োজন হয়েছে।
‘বড় কোনো সমস্যা নয়’: প্রকল্প পরিচালক
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এটি বড় কোনো সমস্যা নয়। প্রধান বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। তৃতীয় ভালভের বিষয়টিও দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।
প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া গেলেও সেটিকে কেন্দ্রের সামগ্রিক কার্যক্রমে বড় ধরনের জটিলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে তৃতীয় ভালভটি পুনরায় পরীক্ষা করা হবে।
ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে রূপপুর
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপন, ইউরেনিয়ামের নতুন চালান দেশে আসা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ও কারিগরি সরঞ্জামের পরীক্ষা—সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিরাপত্তা ও কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রূপপুর প্রকল্পে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ইতোমধ্যে চুল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে। এখন নতুন ইউরেনিয়াম চালান দেশে আসার পাশাপাশি আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে আরও ৯টি ফ্লাইটে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ২১১টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আসার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের তৃতীয় পরীক্ষাটি পুনরায় সম্পন্ন করার প্রস্তুতিও চলছে। এসব প্রস্তুতি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধাপ শেষ হওয়ার পরই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস, সংযোগ…..
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম