শিশুদের প্রতিভা বিকাশে ২০২৮ সালের মধ্যে উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আশা প্রধানমন্ত্রীর
ডেস্ক রিপোর্ট
আজকের শিশুর ভবিষ্যৎই আগামী দিনের জাতির ভবিষ্যৎ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা বিকাশের জন্য শিশুদের উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে সন্তানদের প্রতিভা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয় না।
এ কারণে শিশুদের খেলাধুলা ও সংগীতসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে পারদর্শী করে গড়ে তুলতে সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৮ সালের মধ্যেই এসব উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য— ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।
১৫০ শিশুর অভ্যর্থনায় প্রধানমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে প্রায় ১৫০ জন শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।
শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা যে বিষয়ে নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তাদের সেই বিষয়ে চর্চা করার সুযোগ দিতে হবে। কেউ গান, কেউ কবিতা আবৃত্তি, কেউ খেলাধুলা আবার কেউ চিত্রাঙ্কন বা আর্টসে ভালো করতে পারে।
তিনি বলেন, অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভা চিহ্নিত করে তা বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে সাধ্যমতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘যেকোনো পরিবারের খুঁটি হচ্ছে আজকের শিশু। তাদের মজবুত করে গড়ে তুলতে পারলে তারাই আগামী দিনে হাল ধরবে।’
তিনি আরও বলেন, একসময় এই শিশুরাই তাদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিশ্বের বুকে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।
২২ লাখ শিশুকে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার স্কুল পর্যায় থেকে ২২ লাখ শিশুকে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ছেলে ও মেয়ে—উভয়েরই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ থেকেই হয়তো ভবিষ্যতে পেলের মতো বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি হতে পারে।
শিশু একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রীর শৈশবের স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে তাঁর বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তিনি অনেকবার এই শিশু একাডেমিতে এসেছেন।
এ সময় গ্যালারিতে নিজের গিটার বাজানোর একটি ছবি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।
শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই নিজস্ব প্রতিভা রয়েছে। তাই অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে যে বিষয়ে ভালো লাগে, সেই বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে চর্চা করতে হবে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মরণিকা ‘শৈশব’
অনুষ্ঠানে শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এ ছাড়া ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শিশুদের কথা শোনেন।
পরে শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
শিশু জাদুঘরে সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিশু জাদুঘর ভবনে যান। সেখানে ভবনের নিচতলায় স্থাপিত সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন তিনি।
শিশু অধিকার দিবস এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা, প্রতিভা বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য— ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস, সংযোগ……..
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম