চট্টগ্রামে ২০০ কিশোর গ্যাং, নিয়ন্ত্রণে ৬৪ ‘বড় ভাই’: হৃদয় হত্যার পর ফের আলোচনায় ভয়ংকর নেটওয়ার্ক
জেটিভি নিউজ বাংলা | চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় কিশোর হৃদয় (১৬) হত্যাকাণ্ডের পর আবারও সামনে এসেছে নগরীর কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ নামের দুই কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের জেরেই হৃদয়কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে চট্টগ্রাম নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তৃত কাঠামো, তাদের কথিত ‘বড় ভাই’ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের ২০২৪ সালের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, নগরের ১৬টি থানায় অন্তত ২০০টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। এসব গ্রুপে সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। আর এসব কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতা বা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে পাঁচজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ৬৪ জন ‘বড় ভাইয়ের’ তালিকা করেছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
তবে ২০২৪ সালের পর কিশোর গ্যাংয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আর হালনাগাদ হয়নি। ফলে বর্তমানে কতটি গ্যাং সক্রিয়, তাদের সদস্য সংখ্যা কত এবং আগের তালিকার কতজনের পরিবর্তে নতুন কারা যুক্ত হয়েছে—এসব বিষয়ে রয়েছে তথ্যের ঘাটতি।
হৃদয় হত্যায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব
পুলিশ ও কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক সদস্যের তথ্য অনুযায়ী, খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় গত ১ অক্টোবর রাতে ১৬ বছর বয়সী মো. হৃদয়কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, নিহত হৃদয় ‘ফাইভ স্টার’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া আটজন ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের সদস্য।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, দুই গ্রুপের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই হৃদয়কে তার বাসা থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আট কিশোরকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ‘ফাইভ স্টার’ গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন বিজয়, কামরান ও শান্ত। আর ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা। রকিবুল ইসলাম ওরফে পিচ্চিও ‘সেভেন স্টার’ গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের নেতৃত্বে বগা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে চট্টগ্রাম নগরের একটি কিশোর গ্যাংয়ের কথিত ‘বড় ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এলাকায় ‘বগা’ নামে পরিচিত।
বগা নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবেও পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং একটি কিশোর গ্যাংয়ের কথিত বড় ভাই হিসেবে বগার নাম পুলিশের তালিকায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও তার নাম এসেছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের দাবি, প্রভাবশালী ও কথিত রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে তাকে গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মেয়রের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান ঘিরে উত্তেজনা

এদিকে বগাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র কার্যালয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের কাছে গোপন তথ্য আসে, বগা ওই সময় নগর ভবনের মেয়র কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। তথ্যের ভিত্তিতে খুলশী থানা-পুলিশ সেখানে যায়। প্রথমে পুলিশ নগর ভবন ঘিরে ফেলে। পরে বগাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পুলিশকে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও মেয়রের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার ফয়সাল আহমেদ উপস্থিত হন। পরে মেয়রের হস্তক্ষেপের পর পুলিশ অভিযান বন্ধ করে নগর ভবন থেকে ফিরে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে পুলিশের অভিযান বন্ধ হওয়ার পুরো বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২০০ কিশোর গ্যাংয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ সদস্য
চট্টগ্রাম নগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। ২০১৮ সালে নগরের জামালখানে দুই কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধে ছুরিকাঘাতে কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আদনান ইসফার নিহত হওয়ার পর কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ে।
এর পরের বছর প্রথমবারের মতো কিশোর গ্যাং এবং তাদের কথিত গডফাদারদের তালিকা তৈরি করে সিএমপি।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মার্চে ওই তালিকা হালনাগাদ করা হয়।
পুলিশের সেই তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ১৬টি থানায় অন্তত ২০০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় ছিল। এসব গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন।
তথ্য অনুযায়ী, নগরের উত্তর ও দক্ষিণ জোনের অধীনে ছিল ১১৯টি কিশোর গ্যাং। আর পশ্চিম ও বন্দর জোনে ছিল বাকি ৮১টি গ্যাং।
এসব কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতা, নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে পাঁচজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ৬৪ জন ‘বড় ভাইয়ের’ তালিকাও করেছিল পুলিশ।
তবে ২০২৪ সালের পর ওই তালিকা আর পূর্ণাঙ্গভাবে হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে বর্তমান সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের প্রকৃত সংখ্যা, সদস্য সংখ্যা এবং তাদের কথিত পৃষ্ঠপোষকদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
নগরজুড়ে আলোচনায় একাধিক কিশোর গ্যাং
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় নতুন নতুন গ্রুপ ও সদস্যদের নাম সামনে এসেছে।
হালিশহরের ‘বিংগু’ ও ‘পাইথন’, খুলশী-পাহাড়তলী এলাকার ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’, বাকলিয়ার ‘মুরাদ’ ও ‘জসিম’ গ্রুপ, জামালখান ও গনি বেকারি এলাকার ‘ডেঞ্জার’ গ্রুপ, মুরাদপুরের ‘এমবিএস’, পাঁচলাইশের ‘কেবি’, ‘এনএস’, ‘এক্সমার্ক’, ‘ট্রিপল নাইন’ ও ‘ডট’ গ্যাং এবং চকবাজারের ‘ফোর জিরো সেভেন’সহ আমবাগান-ডেবারপাড় এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপের নাম সাম্প্রতিক অপরাধের ঘটনায় উঠে এসেছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, ইট-বালু সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাতের হকার নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই এবং অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি ভাড়াটে খুনি হিসেবেও কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কথিত ‘বড় ভাইদের’ নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব গ্রুপকে ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এসব কথিত বড় ভাইয়ের কারও কারও সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ওঠাবসা রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ওয়াহিদুল হত্যায়ও ছিল কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।
২০২৫ সালের ১৬ মে হালিশহরের নয়াবাজার এলাকায় ওয়াহিদুল হক ওরফে সাব্বিরের (১৮) ওপর হামলা করা হয়। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় দিন পর তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের ভাষ্য, দুই কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের কারণে ওয়াহিদুলকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওয়াহিদুল ‘বিংগু’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। প্রতিপক্ষ ‘পাইথন’ গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে প্রকাশ্যে তার ওপর ছুরিকাঘাত করা হয়।
আহত অবস্থায় ওয়াহিদুল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাকে আবারও মারধর করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওয়াহিদুলের বাবা মোহাম্মদ এসহাক অভিযোগ করেন, তার ছেলে ‘পাইথন’ গ্যাংয়ে যোগ দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।
বাকলিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
সম্প্রতি চট্টগ্রামের বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডে মাদক কারবার ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘মুরাদ’ ও ‘জসিম’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় দুই গ্রুপের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও যুক্ত ছিল। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে।
মুরাদের বিরুদ্ধেও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ছাদ থেকে ফেলে কলেজছাত্র হত্যা
এর আগে গত ১২ এপ্রিল বাকলিয়ায় কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে মারধরের পর আটতলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায়ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে ওই ঘটনায় কিশোর অপরাধীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে।
শুধু চট্টগ্রাম নগর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের অভিযান অব্যাহত
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নগর ও জেলায় অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম জানিয়েছেন, জেলাতেও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদও জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের বড় ভাইদের বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তাদের ছাড়িয়ে নিতে কেউ তদবির করেনি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধীদের ব্যাপারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে ‘বড় ভাইদের’ ভূমিকা নিয়ে
হৃদয় হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। পুলিশের পুরোনো তালিকায় ২০০ কিশোর গ্যাং এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ সদস্যের তথ্য থাকলেও বর্তমানে এসব গ্রুপের কতগুলো সক্রিয়, কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং তাদের পেছনে কারা রয়েছে—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে কিশোরদের সামনে রেখে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগের কারণে কথিত ‘বড় ভাইদের’ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, কেবল কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; তাদের পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রণকারীদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
হৃদয় হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বিষয়টিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস, সংযোগ…..
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম