প্রথম স্ত্রী থাকতে শ্যালিকাকে বিয়ে, টিকটকার মাসুদ রানাকে ঘিরে চাঞ্চল্য; মাতাজি হাটে মারধর
জেটিভি নিউজ বাংলা | নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে আলোচিত টিকটকার মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় অনেকেই। এরই জেরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি হাট এলাকায় মাসুদ রানা ও তাঁর দুই স্ত্রীকে অবরোধ করেন উত্তেজিত লোকজন। এ সময় মাসুদ রানার মুখে চুনকালি মাখিয়ে জুতার মালা পরানো হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।
দাম্পত্য জীবন রক্ষার যুক্তিতে শ্যালিকাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিকটকার মাসুদ রানা ও তাঁর স্ত্রী মৌসুমীর দাম্পত্য জীবন রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে মৌসুমীর ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন মাসুদ। তাঁর মূল বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বাচাড়ীগ্রামে। তবে বর্তমানে তিনি বদলগাছী উপজেলায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বদলগাছী উপজেলায় মাসুদ রানার ভাড়া বাসায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ও বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। মাসুদ রানা তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ আয়োজনের বিষয়টি প্রকাশ করেন। বিয়ের অনুষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় তাঁরই ছোট বোনকে বিয়ে করার বিষয়টি সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়।
ধর্মীয় বিধান নিয়ে আলেমদের বক্তব্য
এদিকে, মাসুদ রানার এ বিয়েকে ধর্মীয় বিধান ও পারিবারিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও আলেমরা।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষ একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে রাখতে পারেন না। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একই সময়ে বিয়ে করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে ধর্মীয় গবেষক ও আলেম মুফতি শরিফুল ইসলাম জানান, আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন, তা নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ। প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা এবং তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।
তিনি আরও জানান, স্ত্রী মারা গেলে অথবা শরিয়তসম্মতভাবে তালাকের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হলে এবং সংশ্লিষ্ট ইদ্দত-সংক্রান্ত বিধান পূরণ হওয়ার পর ওই নারীর বোনকে বিয়ে করা বৈধ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা, ক্ষোভ
মাসুদ রানার বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তি ও সমালোচনামূলক মন্তব্য দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মাতাজি হাটে অবরোধ, মুখে চুনকালি ও মারধর
ঘটনার একপর্যায়ে সোমবার রাত ৮টার দিকে দুই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মহাদেবপুর থেকে বদলগাছীর ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন মাসুদ রানা। পথে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি হাট এলাকায় উত্তেজিত জনতা তাঁদের অবরোধ করে।
পরে মাসুদ রানার মুখে চুনকালি মাখিয়ে তাঁকে জুতার মালা পরানো হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিয়ে নিয়ে মাসুদ রানার বক্তব্য
টিকটকার মাসুদ রানা এবং স্ত্রী ও শ্যালিকা পূর্ণিমা বউ সেজেছে
এ বিষয়ে টিকটকার মাসুদ রানা বলেন, শ্যালিকা পূর্ণিমাকে নিয়ে অনেক আগে থেকেই টিকটক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এখনো দেখা যাচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ অবস্থায় পূর্ণিমাকে অন্যত্র বিয়ে দিতে গেলে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হতো। সে কারণেই প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সঙ্গে পরামর্শ করে এবং তাঁর উপস্থিতিতেই পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন তিনি।
মাসুদ রানা গত কয়েক দিন ধরে এমন বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে। তবে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে তিনি এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় আলোচনা অব্যাহত
প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগ, এ বিষয়ে মাসুদ রানার দেওয়া ব্যাখ্যা, ধর্মীয় বিধান নিয়ে আলেমদের বক্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে মাতাজি হাট এলাকায় তাঁকে অবরোধ করে অপদস্থ ও মারধরের ঘটনা—সব মিলিয়ে নওগাঁর বদলগাছী ও মহাদেবপুর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে…….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম