সকাল ১১:৩০:০০
| রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বেশি ক্ষতিকর: আইনমন্ত্রী খুলনায় ১০ মাসে ৭১ খুন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আরও ৬; আতঙ্কে নগরবাসী  অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ, নিবন্ধনেই কি থামবে সড়কের নৈরাজ্য? পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ, ৯ মাসে মামলা ৪৪০টি ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবসে জাসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গ্রাম পুলিশের ভাগ্যবদলে প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা, বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা ভাঙ্গায় দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি হচ্ছে নিলামে, মূল্য নির্ধারণ ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকার বেশি আজিমপুর সরকারি কলোনি ছাড়তে ভাড়াটিয়াদের নির্দেশ, বিপাকে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ, নিবন্ধনেই কি থামবে সড়কের নৈরাজ্য?

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ, নিবন্ধনেই কি থামবে সড়কের নৈরাজ্য?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জেটিভি নিউজ বাংলা । 

ছবি জেনারেট বাই গুগল

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা কমাতে নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম। রাজধানী ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে আলাদা রঙের অটোরিকশা চলাচলের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ, অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ এবং বুয়েটের অনুমোদিত নকশায় যানবাহন তৈরি বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ রয়েছে।

সরকারের এই পদক্ষেপকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ, প্রতিদিন হাজার হাজার অটোরিকশা সড়কে চলাচল করলেও এসব যানবাহনের চালকদের বড় একটি অংশের নেই কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা পেশাদার লাইসেন্স। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক ও চালকও আলাদা। ফলে শুধু গাড়ির নিবন্ধন করে দুর্ঘটনা, অনিয়ম ও যানজট কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের মতে, নিবন্ধনের পাশাপাশি চালকের পরিচয়, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স, মালিকানা এবং সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হলেও বিদ্যমান অনিয়মের বড় অংশ থেকেই যেতে পারে।

১৩ সিটি করপোরেশনে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু

১৩ সিটি কর্পোরেশনে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু

গত ২ নভেম্বর থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে ১ নভেম্বর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন।

ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে আইনি ভিত্তি তৈরির জন্য স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ১২০ ধারায় ই-রিকশা নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়। এরপর বিধিমালা প্রণয়ন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস পরীক্ষা শেষে নবায়ন করতে দিতে হবে চার হাজার টাকা।

অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।

ই-রিকশা উৎপাদন তদারকি এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য গঠন করা হয়েছে সাত সদস্যের কমিটি। নতুন ই-রিকশা তৈরির ক্ষেত্রে বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিবন্ধন ছাড়া অটোরিকশা চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার এবং ট্রাফিক সংকেত অমান্য করাসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

ঢাকায় আট জোনে আট রঙের অটোরিকশা

ঢাকায় আট জোনে ৮ রঙের আট অটোরিকশা

 

রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনের অটোরিকশার রং হবে আলাদা। নির্ধারিত জোনের বাইরে অন্য জোনে এসব অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে না।

যানজটের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিটি জোনে কতটি অটোরিকশা চলবে, তা নির্ধারণের কথা রয়েছে। তবে রাজধানীতে সর্বমোট কতটি অটোরিকশা নিবন্ধনের অনুমতি দেওয়া হবে, সেই সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে শুধু যানবাহনের নিবন্ধন করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদান এবং কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে নিবন্ধনের আগে চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত না করে পরবর্তী সময়ে এ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক এনআইডিতে পাঁচটি অটোরিকশা, মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন

এক আইডিতে পাচটি অটোরিকশা

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান মনে করেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন অপরিহার্য হলেও বর্তমান বিধিমালায় মালিকানা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া থাকতে হবে। নিবন্ধনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, এর বিকল্প নেই। কিন্তু নিবন্ধন প্রক্রিয়ার আইনি ব্যবস্থাপনায় অনেক দুর্বলতা রয়ে গেছে।’

একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে পাঁচটি অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।

সাইদুর রহমানের ভাষ্য, এ সুযোগের ফলে সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক অটোরিকশা নিবন্ধন করাতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে সেগুলো মহাজনী কায়দায় পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে অটোরিকশার প্রকৃত চালকরা চালকই থেকে যাবেন, আর বর্তমান মালিকরাই মালিকানা ধরে রাখবেন।

তিনি মনে করেন, একজন চালকের নিজের এনআইডির বিপরীতে অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকা উচিত। এতে চালক নিজেই গাড়ির মালিক হতে পারবেন।

যেসব চালকের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাঁদের সরকার ঋণ দিতে পারে। প্রতিদিন অটোরিকশা চালিয়ে উপার্জিত অর্থ থেকে কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে একপর্যায়ে গাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তাঁর মতে, আইনে এমন ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন ছিল।

চালকের লাইসেন্স ছাড়া নিবন্ধন কতটা কার্যকর?

নতুন বিধিমালার আরেকটি বড় দুর্বলতা হিসেবে চালকদের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের বিষয়টি সামনে এনেছেন সাইদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এখন অটোরিকশার নিবন্ধন হবে, অথচ চালকদের নিবন্ধনের বিধান নেই। অর্থাৎ যেকোনও ব্যক্তি প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স ছাড়াই অটোরিকশা চালাতে পারবেন। কৃষিকাজ, ইটভাটা, জোগালের কাজ কিংবা নির্মাণশ্রমে যুক্ত কেউও এ পেশায় আসতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা নেই। অর্থাৎ বিদ্যমান অনিয়মই আইনি প্রক্রিয়ায় বৈধতা পাবে।’

তাঁর মতে, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের বিষয়টি নিবন্ধনের পরের ধাপে রাখার যৌক্তিকতা নেই। শুরুতেই চালকের যোগ্যতা নির্ধারণ করা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, সমস্যা বাড়তে দেওয়ার পর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শুরুতেই সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয় না। অটোরিকশার ক্ষেত্রে সমস্যাটি ইতোমধ্যে চরম নৈরাজ্যের দিকে যাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখনই প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের ব্যবস্থা করতে সমস্যা কোথায়?

একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্যের পাঁচটি এনআইডি থাকলে ২৫টি অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সাইদুর রহমান বলেন, ‘একটি পরিবারের পাঁচজনের পাঁচটি এনআইডি থাকলে ২৫টি অটোরিকশা নেওয়া সম্ভব।’

নিজের পরিবারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের পাঁচজনের পাঁচটি এনআইডি থাকলে আমি ২৫টি অটোরিকশা নিতে পারবো। সেগুলো দিয়ে হয়তো প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকা আয় করতে পারবো।’

তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের সুযোগ বিত্তবানদের হাতে গেলে প্রকৃত চালকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। বরং অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসায়িক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা সড়কে নামার পর চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনাও কঠিন হয়ে পড়বে।

আট জোনে চলাচল, যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে?

রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করে আলাদা রঙের অটোরিকশা চালানোর পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সাইদুর রহমান বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে কোনো যাত্রী ধানমন্ডিতে যেতে চাইলে এবং দুই এলাকা আলাদা জোনের মধ্যে পড়লে একই অটোরিকশায় গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তখন যাত্রীকে অন্য অটোরিকশা নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবায়নে সমস্যা রয়েছে। মোহাম্মদপুরের অটোরিকশায় ধানমন্ডি গেলে, ধানমন্ডি অন্য জোনে পড়লে সেটি সেখানে ঢুকতে পারবে না। তখন যাত্রী কীভাবে যাবেন? রাজধানী কি সেভাবে গড়ে উঠেছে, পর্যাপ্ত রাস্তাঘাট কি তৈরি হয়েছে? এসব বাস্তবায়নে প্রস্তুতি প্রয়োজন।’

তাঁর মতে, রাজধানীর বাস্তব যোগাযোগব্যবস্থা, সড়কের বিন্যাস ও মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রয়োজন বিবেচনা না করে জোনভিত্তিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

তিনি আরও মনে করেন, এসব সিদ্ধান্তের আগে পর্যাপ্ত গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা প্রয়োজন ছিল। নগর পরিকল্পনাবিদ, যানজট বিশেষজ্ঞ, সামাজিক গবেষক, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজ এবং সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

কিউআর কোডে নিবন্ধন ও জোনভিত্তিক সংখ্যা নির্ধারণের পরামর্শ

কিউআর কোডে নিবন্ধন ও জোনভিত্তিক সংখ্যা  নির্ধারণের পরামর্শ

 

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ মনে করেন, অটোরিকশার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ এবং অনিবন্ধিত যান চলাচল বন্ধে নিবন্ধন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধনের বিকল্প নেই। নিবন্ধন থাকলে সংখ্যা জানা যাবে এবং অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা সম্ভব হবে। প্রতিটি অটোরিকশাকে কিউআর কোডের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে, যাতে ঢাকা শহরে কতটি এবং কোন ধরনের অটোরিকশা চলছে, তা জানা যায়।’

তাঁর মতে, শুধু নিবন্ধন করলেই হবে না। প্রতিটি জোনের জন্য অটোরিকশার নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সীমা থাকতে হবে।

কোন এলাকায় কতটি অটোরিকশা চলবে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, সড়কের ধরন এবং ছোট সড়কের পরিমাণ বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জোনের জন্য অবশ্যই সীমা থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, সড়কের ধরন এবং ছোট সড়কের পরিমাণ বিবেচনায় নিবন্ধনের সংখ্যা নির্ধারণ করা যেতে পারে। সবাইকে নিবন্ধন দিলে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।’

এক জোনের অটোরিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে না পারলে যাত্রীদের যাতায়াতে সমস্যা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য অটোরিকশার ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হলে যাত্রীকে একাধিক অটোরিকশা পরিবর্তন করতে হবে; এতে খরচও বাড়বে।’

অর্থাৎ জোনভিত্তিক চলাচলের মাধ্যমে অটোরিকশার ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে।

প্যাডেল রিকশায় মোটর সংযোজন করা পুরোনো গাড়ি নিয়ে জটিলতা

প্যাডেল রিক্সায় মটর সংযোজন করা পুরনো গাড়ি নিয়ে জটিলতা

 

বর্তমানে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্যাডেলচালিত রিকশায় মোটর ও ব্যাটারি সংযোজন করে অসংখ্য অটোরিকশা তৈরি করা হয়েছে। এসব পুরোনো যানবাহন বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘প্যাডেল রিকশা ও বুয়েটের নকশায় তৈরি অটোরিকশার কাঠামো আলাদা।’

তাঁর মতে, প্যাডেলচালিত রিকশায় মোটর সংযোজন করে যেসব অটোরিকশা তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোকে নির্ধারিত নকশায় উন্নীত করা সম্ভব হবে না।

ফলে বর্তমানে চলাচলকারী পুরোনো অটোরিকশাগুলোর ক্ষেত্রে নতুন নকশা বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

নিবন্ধনকে স্বাগত জানাচ্ছেন চালকরা

বিশেষজ্ঞদের নানা প্রশ্ন ও আপত্তি থাকলেও অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন চালকদের কেউ কেউ।

চালক মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘নিবন্ধন হলে চালকদের সুবিধা হবে। বর্তমানে নিবন্ধন ছাড়াই যে যার মতো অটোরিকশা কিনছেন ও চালাচ্ছেন।’

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি আইনকানুন মেনেই গাড়ি (অটোরিকশা) চালাই। আমি পায়ের রিকশা চালিয়েছি। তখনও আইন মেনেই গাড়ি চালিয়েছি। কিন্তু দেখা যায়, ১০০ জন চালকের মধ্যে ৯০ জনই আইন মানেন না। কী আর বলবো… আমি আমার জায়গা থেকে আইন মেনেই চলি। আর আইন মেনে চললে সবারই সুবিধা হবে।’

আরেক চালক মো. আলী হোসেন মনে করেন, অটোরিকশার নিবন্ধন হলে যানবাহনের সংখ্যা কমবে এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘অ্যাক্সিডেন্ট কমাতে হলে নিবন্ধন করা দরকার আছে। নিবন্ধন হলে রিকশা কমবে তখন অ্যাক্সিডেন্টও কমবে।’

তবে তাঁর মতে, অটোরিকশার মালিক এবং চালক একই ব্যক্তি হওয়া উচিত।

আলী হোসেন বলেন, ‘ভালো হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। আর গাড়ি (অটোরিকশা) যার নামে থাকবে, তারই চালানো উচিত। অনেক সময় একজন চালক গাড়ি চালিয়ে বাসায় থাকলে অন্য কেউ গাড়িটি নিয়ে বের হন। কিন্তু তিনি নিয়মিত গাড়ি চালান না। ফলে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা ও নিয়মকানুন সম্পর্কে না বুঝেই নিজের ইচ্ছামতো চালান। এ কারণেই এক্সিডেন্ট হয়।’

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন সমন্বিত ব্যবস্থা

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রমের মাধ্যমে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা ও পরিচয় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে নিবন্ধন, অনুমোদিত নকশায় যানবাহন তৈরি এবং জোনভিত্তিক চলাচল বাস্তবায়িত হলে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে নিবন্ধনের পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত না হলে দক্ষতাহীন চালকদের হাতে অটোরিকশা চলাচলের ঝুঁকি থেকেই যাবে। একইভাবে মালিকানা ব্যবস্থায় প্রকৃত চালকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে নিবন্ধনের সুবিধা মূলত গাড়ির মালিকদের হাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

অন্যদিকে প্রতিটি জোনে যানবাহনের সংখ্যা নির্ধারণ, পুরোনো অটোরিকশার নকশাগত পরিবর্তন এবং এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাত্রীদের যাতায়াতের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সব মিলিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নিবন্ধন কার্যক্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুধু গাড়ির নিবন্ধন নয়, চালকের যোগ্যতা, মালিকানা, যানবাহনের সংখ্যা ও বাস্তবসম্মত চলাচলব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

 

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে…….. 

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য