সকাল ১১:৩০:০০
| রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বেশি ক্ষতিকর: আইনমন্ত্রী খুলনায় ১০ মাসে ৭১ খুন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আরও ৬; আতঙ্কে নগরবাসী  অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ, নিবন্ধনেই কি থামবে সড়কের নৈরাজ্য? পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ, ৯ মাসে মামলা ৪৪০টি ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবসে জাসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গ্রাম পুলিশের ভাগ্যবদলে প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা, বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা ভাঙ্গায় দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি হচ্ছে নিলামে, মূল্য নির্ধারণ ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকার বেশি আজিমপুর সরকারি কলোনি ছাড়তে ভাড়াটিয়াদের নির্দেশ, বিপাকে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

খুলনায় ১০ মাসে ৭১ খুন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আরও ৬; আতঙ্কে নগরবাসী 

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

খুলনায় ১০ মাসে ৭১ খুন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আরও ৬; আতঙ্কে নগরবাসী

জেলা ও মহানগরীতে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড ৭৭টি; রূপসায় সর্বোচ্চ ১২ জন নিহত, আলোচনায় নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জেটিভি নিউজ বাংলা

খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্রমেই বাড়ছে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও আতঙ্ক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৭৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খুলনা মহানগরীতে ৩৮টি এবং জেলার নয়টি থানা এলাকায় ৩৯টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা জেলা ও মহানগরীতে ৭১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯টি। সে হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে সাতজনের বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে জেলা এলাকায় ৩৬টি এবং মহানগরীতে ৩৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে নভেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই জেলা ও মহানগরীতে আরও ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফলে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত মোট হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭টিতে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তল্লাশি, অস্ত্র উদ্ধার, বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হলেও হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা থামানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে।

রূপসায় সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড, মহানগরীতে শীর্ষে সদর থানা

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনা জেলার নয়টি থানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রূপসা এলাকায়। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে সেখানে ১২ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে মহানগরীর আটটি থানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে খুলনা সদর থানা এলাকায়। এখানে নিহত হয়েছেন আটজন।

জেলা ও মহানগরী পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ৩৬টি এবং মহানগরীতে ৩৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। মাসভিত্তিক হিসাবে জেলায় সবচেয়ে বেশি সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে মার্চ মাসে। অন্যদিকে মহানগরীতে সর্বোচ্চ ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেপ্টেম্বরে।

নভেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেও জেলা ও মহানগরীতে তিনটি করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৩৯টি এবং মহানগরীতে ৩৮টি হত্যাকাণ্ডের হিসাব পাওয়া গেছে।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জেলা ও মহানগরীতে বিভিন্ন অভিযানে মোট ৭৮টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে জেলা পুলিশ উদ্ধার করেছে ২৬টি এবং মহানগর পুলিশ উদ্ধার করেছে ৫২টি অস্ত্র।

অস্ত্র উদ্ধারের এসব ঘটনায় মোট ১৮৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ২৯ জন এবং মহানগর পুলিশের হাতে ১৫৮ জন। মহানগরীতে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৩ জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে যেসব কারণ দেখছে পুলিশ

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনায় সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা এবং রাজনৈতিক ও স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার বিরোধ অন্যতম।

বিশেষ করে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা থেকে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এসব বিরোধের জেরে অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

আলোচনায় নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপ

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘুরেফিরে নয়টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রের দাবি, এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে জনবহুল এলাকাতেও প্রকাশ্যে গুলি চালাতে দ্বিধা করছে না।

পুলিশের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় সক্রিয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর বি কোম্পানি, শেখ পলাশের পলাশ গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ, আশিক বাহিনী, হুমায়ুন কবিরের হুমা বাহিনী, শেখ সাইদুর রহমান ওরফে শাওনের টেংকি শাওন গ্রুপ, আরমান শেখের আরমান গ্রুপ, শাকিল শেখের শাকিল গ্রুপ এবং নাসিম গ্রুপ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলোর দাবি, পুরো খুলনা শহরেই বি কোম্পানি বা বাবু গ্রুপের আধিপত্য রয়েছে। নূর আজিম ও আশিক গ্রুপ সক্রিয় খুলনা সদর ও লবণচরা থানা এলাকায়। শাওন গ্রুপের তৎপরতা রয়েছে সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুর এলাকায়। অন্যদিকে আরমান গ্রুপ ও হুমা বাহিনীর আধিপত্য রয়েছে দৌলতপুর এবং খানজাহান আলী থানা এলাকায়।

এ ছাড়া নাসিম গ্রুপের প্রধান নাসিমুল গণিকে গত ৪ অক্টোবর দিঘলিয়া উপজেলায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

নাসিম গ্রুপ

 

গত কয়েক মাসে খুলনা সদর, লবণচরা ও হরিণটানা এলাকায় গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটেছে।

অন্যদিকে জেলা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলাতেও ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর কারও কারও বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় আধিপত্য, জমি, মাছের ঘের, বালুর ব্যবসা, পরিবহন এবং ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দেয়। এসব বিরোধের জেরেও সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জেলা পুলিশের হিসাবে ১০ মাসে ৩৬ হত্যাকাণ্ড

খুলনা জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার নয়টি থানা এলাকায় ৩৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩৬টি মামলা হয়েছে।

এসব মামলায় ৫১ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৭৬ থেকে ৭৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ২৯ জন।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ মাসে সর্বোচ্চ সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জুলাইয়ে পাঁচটি, জানুয়ারি, এপ্রিল ও সেপ্টেম্বরে চারটি করে, মে ও অক্টোবরে তিনটি করে এবং ফেব্রুয়ারি, জুন ও আগস্টে দুটি করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এর বাইরে নভেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই জেলায় আরও তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সব মিলিয়ে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা জেলার নয়টি থানা এলাকায় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯টিতে।

থানাভিত্তিক হিসাবে রূপসায় সবচেয়ে বেশি ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দিঘলিয়ায় পাঁচজন, পাইকগাছায় পাঁচজন, কয়রায় পাঁচজন, তেরখাদায় দুজন, ডুমুরিয়ায় তিনজন, বটিয়াঘাটায় তিনজন এবং ফুলতলায় একজন নিহত হয়েছেন। তবে দাকোপ থানায় এ সময়ে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।

অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন অভিযানে সাতটি একনলা বন্দুক, সাতটি পাইপগান, একটি দোনলা বন্দুক, পাঁচটি ওয়ান শুটারগান, পাঁচটি পিস্তল এবং একটি রিভলভার উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৭৫ রাউন্ড বন্দুকের কার্তুজ, ১০টি কার্তুজের খোসা, দুটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড লেট বুলেট, ৬০ রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি, একটি লোহার হাতুড়ি, চাইনিজ কুড়ালসদৃশ পাঁচটি লোহার বস্তু, একটি ধারালো হাসুয়া, সাতটি কাঠের হকিস্টিক এবং একটি পুরোনো রামদা।

এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় ১৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, খুলনায় ২০২১ সালে ৩০টি, ২০২২ সালে ২২টি, ২০২৩ সালে ২১টি, ২০২৪ সালে ৩১টি এবং ২০২৫ সালে ৪৯টি হত্যা মামলা হয়েছিল। চলতি বছর মাত্র ১০ মাসেই জেলায় ৩৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মহানগরীতে ১০ মাসে ৩৫ হত্যাকাণ্ড, রহস্য উদঘাটন ৩২টির

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মহানগরীর আটটি থানা এলাকায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ১৫৮ জন। তাদের মধ্যে ৪৩ জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কেএমপির দাবি, ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩২টির রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। বাকি তিনটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত সাতটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। তদন্তাধীন রয়েছে আরও ২৮টি মামলা।

হত্যাকাণ্ডের কারণ বিশ্লেষণে কেএমপি জানিয়েছে, মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৩টি, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে ১১টি, চোর সন্দেহে তিনটি, ইজিবাইক চুরির ঘটনায় দুটি, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে একটি এবং বাড়িভাড়াকে কেন্দ্র করে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এ ছাড়া চারটি হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো অজ্ঞাত। এর মধ্যে দুটি মরদেহ নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। কেএমপির তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীতে সংঘটিত ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১৪টিতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। আগস্টে পাঁচটি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও অক্টোবরে চারটি করে, মে, জুন ও জুলাইয়ে তিনটি করে, এপ্রিলে দুটি এবং জানুয়ারিতে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নভেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেও মহানগরীতে আরও তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ফলে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত মহানগরীতে মোট হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টিতে।

থানাভিত্তিক পরিসংখ্যানে খুলনা সদর থানায় সর্বোচ্চ আটটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। লবণচরা থানায় সাতটি, দৌলতপুরে পাঁচটি, আড়ংঘাটায় চারটি, সোনাডাঙ্গা মডেল, হরিণটানা ও খালিশপুর থানায় তিনটি করে এবং খানজাহান আলী থানায় দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মহানগরীতে ১০ মাসে ১ হাজার ২৮৫ মামলা

হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি মহানগরীতে অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। কেএমপির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মহানগরীর আটটি থানায় বিভিন্ন অপরাধে মোট ১ হাজার ২৮৫টি মামলা হয়েছে।

এর মধ্যে খুনের মামলা ৩৫টি, ধর্ষণ ২৫টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৮১টি, অপহরণ ১১টি, পুলিশের ওপর হামলা সাতটি, সিঁধেল চুরি ২৬টি, গাড়িসহ অন্যান্য চুরি ১৩১টি, সড়ক দুর্ঘটনা ১৭টি, দস্যুতা ২৭টি, দ্রুত বিচার আইনে পাঁচটি, ডাকাতি চারটি এবং দাঙ্গার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধে ৩৫৭টি মামলা হয়েছে। দেশি-বিদেশি ৫২টি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় হয়েছে আরও ৪৮টি মামলা।

মাসভিত্তিক মামলার পরিসংখ্যানে মে ও জুন মাসে সর্বোচ্চ ১৪৯টি করে মামলা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১৪৫টি, অক্টোবরে ১৪৩টি, জুলাইয়ে ১৩৮টি, আগস্টে ১৩৬টি, জানুয়ারিতে ১১৫টি, এপ্রিলে ১১৪টি এবং মার্চে ১০৫টি মামলা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে কম ৯১টি মামলা হয়েছে।

কেএমপির দেওয়া ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহানগরীতে ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২২ সালে ১৯টি, ২০২৩ সালে ১৭টি, ২০২৪ সালে ২৯টি এবং ২০২৫ সালে ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছিল। চলতি বছর প্রথম ১০ মাসেই ৩৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নভেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনের হিসাব যুক্ত হলে তা ৩৮টিতে পৌঁছেছে।

রূপসায় একের পর এক খুন, নিরাপত্তাহীনতায় স্থানীয়রা

খুলনা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে রূপসা উপজেলায়। সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর দুপুরে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকায় আঠারোবেকি নদীর চর থেকে মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫) ও রেজাউল করিম (৩০) নামের দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সোহাগ রূপসার আইচগাতী এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি ঝালকাঠির রাজাপুর গ্রামের আবদুল্লাহর ছেলে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজন খুলনার অপরাধজগতের বি কোম্পানি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের শরীরে গভীর ক্ষত ও গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে অন্য কোথাও তাদের হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে জোয়ার-ভাটার টানে মরদেহ দুটি আঠারোবেকি নদীর চরে আটকে পড়ে।

গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনিমহল গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে বসে থাকা আক্তার ঢালী (৬৪) নামের এক বৃদ্ধকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর ৫১ দিন আগে গত ১৫ আগস্ট রাত সোয়া ৯টার দিকে একই এলাকার আবদুর রাজ্জাকের মোড়ে তার ছেলে জয় ঢালীকে (২৭) কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে জয়কে হত্যা করা হয়েছিল। আক্তার ঢালীর হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছেলের হত্যা মামলার আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১১ আগস্ট রাতে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের রূপসা ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায় ঢুকে যুবদল কর্মী ফখরুল শেখকে (৩২) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি নৈহাটি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং ইটভাটাটিতে পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। পূর্বশত্রুতা ও স্থানীয় বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

আঠারোবেকি নদী থেকে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধারের পর রূপসার রাজাপুর, নৈহাটি ও আইচগাতী এলাকার বাসিন্দা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, একের পর এক হত্যাকাণ্ডের কারণে সন্ধ্যার পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা কিংবা রাস্তায় বের হতেও ভয় পাচ্ছেন তারা। মাদক ও অপরাধী চক্র নির্মূল করে স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রূপসার সচেতন বাসিন্দাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তারা এলাকায় সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ চান।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, আঠারোবেকি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া দুই যুবকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছে। অপরাধে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল অভিযান চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিন ডুমুরিয়ায় গুলি করে হত্যা

গত ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরের দিন ডুমুরিয়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তরিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ঘের ব্যবসায়ী নিহত হন। দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়নের আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় গফফার সানার চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। তরিকুল ওই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আবদুস সালামের ছেলে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাওন নামের এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে লিজ নেওয়া ঘের থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন তরিকুল। এ সময় হেলমেট ও মাস্ক পরা কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে দোকানে ঢোকে। তারা খুব কাছ থেকে তরিকুলের মাথায় গুলি করে।

গুলির শব্দে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। এরপর মোটরসাইকেলে করে খুলনা-দৌলতপুর সড়কের দিকে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গুলিতে ঘটনাস্থলেই তরিকুলের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ডুমুরিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং এলাকা ঘিরে রাখে। ডুমুরিয়া থানার ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সমন্বিত টহল ও তল্লাশির পরিকল্পনা

খুলনা জেলার পুলিশ সুপার ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সন্ত্রাস দমনে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। থানাগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল জোরদার এবং সমন্বিত চেকপোস্ট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মোটরসাইকেল তল্লাশির আওতাও বাড়ানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা দুর্গম ও সরু সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। এক থানার এলাকায় অপরাধ করে অন্য থানায় চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ কারণে বিভিন্ন থানার মধ্যে সমন্বয় করে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’

কেএমপির কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ শক্ত অবস্থান নিয়েছে। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে এবং বেশির ভাগ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধীরা অস্ত্র নিয়ে চলাচলে মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। গলিপথ দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় মোটরসাইকেলকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক।

সূত্র:  খুলনা জেলা পুলিশ এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পরিসংখ্যান।

 

জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে……. 

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য