দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক ডিএমপি, ২৫৭ মণ্ডপে দায়িত্বে ২১০০ পুলিশ সদস্য
ঢাকা প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলো সেজেছে নানা রঙে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, নাশকতা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর রাজধানীতে আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ উৎসব উদযাপিত হয়। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ উৎসব যেন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, এ বছর ঢাকা মহানগরে মোট ২৫৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপের গুরুত্ব, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মণ্ডপগুলোকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে আর্চওয়ে, যাতে নিরাপত্তা তল্লাশি কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের সদস্যদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ২ হাজার ১০০ সদস্য রাজধানীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবেন।
পূজামণ্ডপের আশপাশে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তুর ওপর সতর্ক নজরদারি এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএমপির সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, ডগ স্কোয়াড এবং ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
বিজয়া দশমীতে বিসর্জন শোভাযাত্রায় বিশেষ নিরাপত্তা
বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পথ, জনসমাগম এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য যেকোনো আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট কিংবা উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা করলে সমন্বিতভাবে তা প্রতিহত করা হবে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
গুজব ও অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার
ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা দেখা যায়। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা উচিত নয়। কোনো সন্দেহজনক ঘটনা কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।
নাশকতার আশঙ্কা নেই, তবে প্রস্তুত পুলিশ
আসন্ন ডিসেম্বরকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে দুর্গাপূজায় নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা কিংবা ভীতি সৃষ্টির বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে যেকোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা বা আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরে নয়টি বৃহৎ পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপের প্রতিটিতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মিলিয়ে ৫০ জন করে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য মণ্ডপে শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
কন্ট্রোলরুম থেকে ২৫৭ মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি
ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিএমপির কন্ট্রোলরুম থেকে ২৪ ঘণ্টা রাজধানীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমেও ডিএমপি কন্ট্রোলরুম থেকে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, পূজামণ্ডপভিত্তিক নিরাপত্তা, সার্বক্ষণিক নজরদারি, টহল কার্যক্রম, বিশেষায়িত ইউনিটের প্রস্তুতি এবং সাইবার মনিটরিংয়ের সমন্বয়ে এবারের দুর্গোৎসব নিরাপদ রাখতে কাজ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে…….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম