সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে পিএসসির সঙ্গে আলোচনা চলছে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক | জেটিভি নিউজ বাংলা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য থাকা সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদে দ্রুত নিয়োগ দিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরও কার্যকর হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়োগবিধি এবং সরকারি কর্ম কমিশনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে তৈরি হবে। ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
লার্নিং টয়েসে খেলতে খেলতে শেখা
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শিশুদের খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের প্রকৃত শিখনদক্ষতা যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন উপকরণ বিতরণ করেন। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের শিখনদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রাথমিক স্তরের মৌলিক পঠন ও গণনাদক্ষতা যাচাই করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্য করেন, শিখন উপকরণ ব্যবহার করে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন ধারণা ও বিষয় সহজে বুঝতে পারছে। শ্রেণিকক্ষে প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো কোনো বিষয় বোঝাতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগলেও খেলনা ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা সহজেই বিষয়গুলো বুঝতে পারছে।
এ ধরনের উপকরণ শিশুদের শেখার আগ্রহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, আনন্দময় পরিবেশে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি হলে শিশুরা পাঠদানে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয় সহজে আয়ত্ত করতে পারে।
শুধু অবকাঠামো নয়, শিক্ষার্থীদের শিখনদক্ষতা যাচাই জরুরি
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিশু শ্রেণিকক্ষে কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় শুধু অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করলেই হবে না; পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কতটুকু শিখতে পারছে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, শিক্ষার মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখনদক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও পাঠদানের কার্যকারিতা মূল্যায়নের পাশাপাশি শিশুদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
গণিত ও ইংরেজিতে ঘাটতি চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব
প্রাথমিক স্তরে গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক শিখনদক্ষতার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কোন বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, তা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শ্রেণিভিত্তিক শিখনফল যাচাইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও ঘাটতি শনাক্ত করা সম্ভব।
একই সঙ্গে শিশুদের উপযোগী আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে এসব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কার্যকর শিখন উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা
বিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিখন উপকরণসহ কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতিগুলো কীভাবে আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা বিবেচনা করা হবে বলে জানান ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের প্রকৃত শিখনফল নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি শিশুদের মৌলিক পঠন, গণনা, গণিত ও ইংরেজির দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
পুরান ঢাকার মাহুতুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষকদের উপস্থিতি, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের শিখনদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি শিখন উপকরণ ব্যবহার করে শিশুদের শেখার আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে…….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম