মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিল পোশাকশ্রমিকরা, সংঘর্ষে উত্তাল এলাকা; বন্ধ মেট্রো স্টেশন ও যান চলাচল
ঢাকা প্রতিনিধি:
রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন। একই সঙ্গে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রবিবার সকাল থেকেই রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করেন রাজধানীর বিভিন্ন গার্মেন্টসে কর্মরত পোশাকশ্রমিকরা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। শ্রমিকদের দাবি, তাদের মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের এলাকায়। এতে পুরো এলাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ চেষ্টা চালায়। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
পুলিশের এই পদক্ষেপের পর আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে মিরপুরের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে সংঘর্ষ ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয় মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন। ফলে মেট্রোরেল ব্যবহারকারী যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অন্যদিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ কাজ করছে।
পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো মিরপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বন্ধ রয়েছে সড়কে যান চলাচল, অন্যদিকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে……
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম