ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে নতুন বাধা, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে কী পরিবর্তন আসছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জেটিভি নিউজ বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির বাণিজ্যনীতি ও শুল্কব্যবস্থায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি খাতেও।
বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের পোশাকের অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে বিদ্যমান অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক শিগগিরই প্রত্যাহার হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, কংগ্রেসের দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে এখনো শুল্ক আরোপের নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। ফলে কংগ্রেসে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে বলেই বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে শুল্ক কমে যাবে, এমনটা মনে করার সুযোগ নেই।
তার মতে, ২০২৭ সালের জন্য রফতানি আদেশ গ্রহণ, উৎপাদন পরিকল্পনা এবং পোশাকের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কারণ, মার্কিন শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তবে শুল্ক প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে সতর্ক থাকতে হবে।
শিগগিরই শুল্ক কমার সম্ভাবনা কম
বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আমদানি শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পাল্টা শুল্ক বাতিল এবং অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য শিগগিরই শুল্কমুক্ত সুবিধা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। কারণ, বর্তমান শুল্কব্যবস্থার সঙ্গে কংগ্রেসের আগে দেওয়া নির্বাহী ক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলেও প্রেসিডেন্ট এককভাবে কিছু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে নতুন করে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির বিরোধিতা করেছে। যেসব বাণিজ্যিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, সেগুলো পাস করানো এখন তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।
অর্থাৎ, নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা তৈরি হলেও আগে থেকে কার্যকর থাকা অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার হওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
বাণিজ্যনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরলে লাভবান হতে পারে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এতে পণ্যের অর্ডার, মূল্য নির্ধারণ, উৎপাদন পরিকল্পনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা দেখা দেয়।
বিশেষ করে কম দামের মৌলিক পোশাক রফতানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ এ ধরনের অনিশ্চয়তার প্রভাব বেশি অনুভব করে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি স্থিতিশীল হলে ক্রেতারা আগেভাগেই তাদের অর্ডার পরিকল্পনা করতে পারবেন। এতে বাংলাদেশের মতো পোশাক সরবরাহকারী দেশগুলো সুবিধা পেতে পারে।
কারণ, মার্কিন ক্রেতারা যখন ভবিষ্যতের শুল্ক, আমদানি ব্যয় ও বাণিজ্যিক নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন, তখন তারা দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়াদেশ দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। এতে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোও উৎপাদন ও রফতানি পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম সুতা ব্যবহারে রয়েছে বিশেষ সুবিধা
বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রফতানির জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা।
এই সুবিধার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে পোশাক তৈরি ও রফতানি করলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়।
এতে একদিকে বাংলাদেশের রফতানিকারকেরা অতিরিক্ত শুল্কের চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদনকারীরাও উপকৃত হন। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানের সঙ্গেও এই সুবিধা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে এ সুবিধার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর আওতায় শুধু অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়; প্রচলিত আমদানি শুল্ক বহাল থাকে। এ ছাড়া সুবিধাটির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণের কোটা নির্ধারিত রয়েছে এবং এর মেয়াদ তিন বছর।
ফলে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকদের জন্য এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে সব ধরনের শুল্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বাড়তে পারে মার্কিন নজরদারি
বাংলাদেশের পোশাক রফতানি খাতের জন্য আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে শ্রমিকদের অধিকার, মজুরি, কর্মপরিবেশ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে কারখানার শ্রমিকদের অধিকার, কর্মপরিবেশ এবং পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে নজরদারি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে আরোপিত শুল্কের বিরোধিতা করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে। এ কারণে এ ধরনের শুল্ক ও নজরদারি ব্যবস্থা বহাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, শ্রম অধিকারসংক্রান্ত সমস্যার কারণে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা হারিয়েছিল। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা আবারও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোকে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই চলবে না, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ নথি সংরক্ষণ করতে হবে।
বিশেষ করে তুলা ও সুতা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোন কোন প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে—এসব তথ্য যাচাইযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।
ইউএসটিআরের তদন্তে নতুন ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাক খাত
কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে বাণিজ্যনীতি নিয়ে মতবিরোধ বাড়লে প্রেসিডেন্ট প্রশাসন নিজস্ব নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারে আরও সক্রিয় হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এ ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর—ইউএসটিআরের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে চলমান তদন্ত।
এই তদন্তে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতাবলে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়।
অর্থাৎ, কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করলেও ইউএসটিআরের তদন্ত এবং নির্বাহী ক্ষমতাবলে নেওয়া বাণিজ্যিক পদক্ষেপ রফতানি খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকতে পারে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে পোশাক রফতানির পরিবহন ব্যয়
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকের কর্মসময়
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধঝুঁকির কারণে প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত ২ হাজার থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেস যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারলে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা ফিরে এলে পরিবহন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে শুধু পরিবহন ব্যয় কমলেই বাংলাদেশের পোশাক রফতানির সব সমস্যা সমাধান হবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দুর্বল চাহিদা এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের দাম কমানোর চাপও রফতানিকারকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে রয়েছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশটির বাজারে পোশাকের চাহিদা এবং ক্রেতারা কী দামে পণ্য কিনতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ধরে রাখতে রফতানিকারকদের করণীয়
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের বেশ কিছু বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এর মধ্যে রয়েছে—
১. যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম সুতা ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো।
২. পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত তুলা, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ নথি সংরক্ষণ করা।
৩. শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
৪. উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখা।
৫. আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও সরবরাহ ব্যবস্থাসংক্রান্ত নিয়মকানুন অনুসরণ করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবসা ধরে রাখতে এখন শুধু কম দামে পোশাক উৎপাদন করলেই চলবে না। উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, শ্রমিকদের অধিকার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তাৎক্ষণিক শুল্ক প্রত্যাহার নয়, বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন করে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং মার্কিন বাণিজ্যনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বর্তমানে কার্যকর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক দ্রুত প্রত্যাহার হয়ে যাবে। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা, ইউএসটিআরের চলমান তদন্ত, শ্রম অধিকারসংক্রান্ত নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের রফতানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, ক্রেতাদের মূল্য কমানোর চাপ এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতায় আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে।
তাই আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অবস্থান ধরে রাখতে শুল্কঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, কাঁচামালের উৎসের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে……..
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম