চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, তবুও চট্টগ্রামে ৬-৯ ঘণ্টা লোডশেডিং
চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যেও মিলছে এর প্রমাণ। কিন্তু উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকার পরও কমছে না লোডশেডিং। বরং তীব্র গরমের মধ্যে নগরীতে দিন-রাত মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। জেলার ১৬টি উপজেলা, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলায় পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব এলাকায় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় একদিকে তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং অনলাইনে কাজ। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে অস্বস্তি বাড়ছে।
চাহিদা ১,৪৩১ মেগাওয়াট, উৎপাদন প্রায় ৩ হাজার
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় ২ হাজার ৭৭৬ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ২ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
অন্যদিকে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪৩১ দশমিক ৯৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১ হাজার ২০৭ দশমিক ৮৯ মেগাওয়াট।
অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি ছিল ২২৪ দশমিক ১০ মেগাওয়াট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হলেও গ্রাহক পর্যায়ে সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
শুধু পিক আওয়ারেই নয়, অফ-পিক আওয়ারেও লোডশেডিং হয়েছে। ওই সময় সর্বোচ্চ ৭৫ দশমিক ৮০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে।
৩০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি প্রায় ৩০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে বড় ভূমিকা রাখছে এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার, সরকারি মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিকলবাহা, জুলদা-২ ও জুলদা-৩সহ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র।
১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ও সন্ধ্যা ৭টার উৎপাদন তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কয়েকটি বড় কেন্দ্রেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
এসএস পাওয়ার
এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার থেকে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। সকাল ১১টায় এই কেন্দ্রের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৮০ মেগাওয়াট।
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র
১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সরকারি মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। সন্ধ্যা ৭টায় উৎপাদন ছিল ৭২২ মেগাওয়াট।
শিকলবাহা
২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সকাল ১১টা ও সন্ধ্যা ৭টা—দুই সময়েই ২১৭ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
জুলদা-২ ও জুলদা-৩
জুলদা-২ কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় ১২ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
অন্যদিকে জুলদা-৩ কেন্দ্র থেকে সকালে ১২ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
দোহাজারী
১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দোহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। তবে সন্ধ্যা ৭টায় এই কেন্দ্র থেকে ৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
এনার্জিপ্যাক
১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এনার্জিপ্যাক কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় ২৫ দশমিক ০১ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
হাটহাজারী
১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সকাল ১১টায় ছিল ৭ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ মেগাওয়াটে।
বিআর পাওয়ার
১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিআর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় ১৭ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
বারাকা
৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বারাকা কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। সন্ধ্যা ৭টায় এই কেন্দ্র থেকে ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
বারাকা কর্ণফুলী
১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বারাকা কর্ণফুলী কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টা ও সন্ধ্যা ৭টা—দুই সময়েই ১৭ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
আনলিমা
১১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার আনলিমা কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় ১৫ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
আনোয়ারা ইউনাইটেড
৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আনোয়ারা ইউনাইটেড বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সকাল ১১টা ও সন্ধ্যা ৭টা—দুই সময়েই ১৬ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
কাপ্তাইয়ের জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও উৎপাদন
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাপ্তাইয়ের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর এসব কেন্দ্র থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
কাপ্তাই-১ নম্বর ইউনিট থেকে সকাল ১১টা ও সন্ধ্যা ৭টায় ৪৬ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
কাপ্তাই-২ নম্বর ইউনিট থেকে সকালে ৪৬ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
কাপ্তাই-৩ থেকে সকাল ১১টায় ৪৬ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
কাপ্তাই-৪ থেকে সকালে ৪০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
অন্যান্য কেন্দ্রের উৎপাদন
এ ছাড়া আরপিসিএল ২৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় ৮ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
ইউনাইটেড পাওয়ার ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় ২ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
তবে কিছু নবায়নযোগ্য ও ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ওই দুই সময়ে উৎপাদন ছিল শূন্য অথবা সীমিত।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার উইন্ড পাওয়ার, বারাকা শিকলবাহা, দেশ এনার্জি, কেপিজেড সোলার-১ ও ২ এবং রাউজান-১ ও ২ থেকে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন পাওয়া যায়নি।
কাপ্তাই সোলার থেকে সকাল ১১টায় ৪ দশমিক ৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সন্ধ্যা ৭টায় উৎপাদন শূন্যে নেমে আসে।
অন্যদিকে টেকনাফ সোলার থেকে সকালে ১৬ দশমিক ৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সন্ধ্যায় কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল না বলে পিডিবি সূত্রে জানা গেছে।
উৎপাদন বেশি হলে সরবরাহে ঘাটতি কেন?
চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণত ১ হাজার ৪৩১ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে থাকে। অথচ স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে এর তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে—চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ার পরও কেন গ্রাহকদের লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরবরাহ করা হয় না। এসব কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। এরপর জাতীয় গ্রিড থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকবর হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত ৩০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। পরে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে চাহিদার তুলনায় গত রবিবার ৭৫ মেগাওয়াট থেকে ২২৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং ছিল।’
গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। দিনের প্রচণ্ড গরমের পর রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে অস্বস্তি আরও বাড়ছে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থী, অনলাইনে কাজ করা মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীরা।
অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ একবার চলে যাওয়ার পর এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে তীব্র গরমে ঘুম, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
নগরীতে ৬-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং
নগরের পাঁচলাইশ থানার সংগীত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কাশবি আক্তার বলেন, ‘দিন-রাতে মিলে ৬-৭ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। প্রতিবার এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এর সঙ্গে গত এক মাস ধরে গ্যাসের সংকটও রয়েছে। দুই দিকেই ভোগান্তি পোহাতে হয়।’
অন্যদিকে নগরের বাকলিয়া থানার এক্সেস রোড সংলগ্ন মৌসুমী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় ৬-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে। রাতে ঘুমাতে গেলেও বিদ্যুৎ থাকে না। একবার গেলে এক-দুই ঘণ্টায়ও আসে না। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ
নগরীর তুলনায় চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া এলাকার বাসিন্দা আহমেদ মুসা বলেন, ‘গ্রামে বিদ্যুতের অবস্থা ভয়াবহ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮-৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্মে যেমন ব্যাঘাত ঘটে, তেমনি গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যাচ্ছে, কিন্তু গ্রাহকের ভোগান্তি কমছে না
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে একদিকে যখন জাতীয় গ্রিডে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে একই অঞ্চলের গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।
১২ সেপ্টেম্বরের পিডিবির উৎপাদন ও সরবরাহের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপাদন ছিল ২ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট। ওই সময় স্থানীয় চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪৩১ দশমিক ৯৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা হয় ১ হাজার ২০৭ দশমিক ৮৯ মেগাওয়াট।
ফলে উৎপাদন, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। জাতীয় গ্রিডের ব্যবস্থাপনা, অঞ্চলভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাই প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা।
তীব্র গরমের মধ্যে দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে নগর ও গ্রামীণ—দুই পর্যায়েই মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সূত্র: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য, সাহস, সংযোগ……
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম