গাজীপুরে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ: ৫ বছরের প্রেমের পরিণতি, বিয়ে নিয়ে বিরোধে প্রেমিকের হাতে খুন ডলি
হেলেনা বেগম, গাজীপুর
গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য। প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ এবং জমে থাকা ক্ষোভের জেরে প্রেমিক মিশন ইসলামের হাতে খুন হন ডলি আক্তার (৩০)।
হত্যার পর পরিচয় গোপন এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বটি দা ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে ডলির লাশ দ্বিখণ্ডিত করা হয়। পরে লাশের একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
খালের পানিতে সুটকেস ও বস্তা, ভেতরে দ্বিখণ্ডিত লাশ
তারিখ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল
স্থান: ভবানীপুর, জয়দেবপুর, গাজীপুর
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের খালের পানিতে একটি ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখা যায়।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিফকেসের ভেতর ও প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
লাশের অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিভৎস। পরিচয় শনাক্ত করার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অজ্ঞাত নারীর দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে শুরু হয় তদন্ত
পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। এরপর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিশ্বস্ত স্থানীয় সোর্সের সমন্বয়ে শুরু হয় নিবিড় অনুসন্ধান।
তদন্তের একপর্যায়ে শনাক্ত করা হয় নিহত নারীর পরিচয়। একই সঙ্গে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা ঘটনাও।
পিবিআই জানতে পারে, নিহত নারী ডলি আক্তার। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন।
ডলি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে।
স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
একই গার্মেন্টসে চাকরি, সেখান থেকেই প্রেম
পিবিআইয়ের তদন্ত এবং আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
একই গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ডলি প্রায়ই মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন। দীর্ঘদিনের এ সম্পর্কের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিয়ে নিয়ে আলোচনা ও বিরোধ তৈরি হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, পূর্বের বিভিন্ন বিষয় এবং বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিশন ইসলামের মনে ডলির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় মিশন।
৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের বাসায় ডলি
তারিখ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত
পিবিআইয়ের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি আক্তার মিশন ইসলামের ভাড়া বাসায় যান।
সেখানে মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার এবং ডলি আক্তার একসঙ্গে রাতের খাবার খান।
খাওয়া শেষে বানু আক্তার পাশের একটি কক্ষে ঘুমাতে চলে যান। এরপর মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন।
পিবিআই জানায়, ওই সময় পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিশনের মনে জমে থাকা ক্ষোভ আরও বাড়ে। একপর্যায়ে ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সে।
ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যা
আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই রাতে ডলি আক্তারকে ঘুমের ওষুধ এবং অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়।
ওষুধ খাওয়ার পর ডলি ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিশন লুঙ্গি দিয়ে ডলির গলায় পেঁচিয়ে ধরেন।
পরে বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর ডলির মরদেহ চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
সহযোগী আসামি আসামি মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)
সকালে লাশ দেখতে পান মিশনের মা
পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় মিশনের মা বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির লাশ দেখতে পান।
লাশ দেখে বিষয়টি জানার পর মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করা হয়।
মিশন একটি সুটকেস সংগ্রহ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সুটকেসের ভেতরে লাশ রেখে গোপনে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া।
কিন্তু পুরো লাশ সুটকেসের ভেতরে ঢোকানো সম্ভব হয়নি।
এরপর লাশটি গুম করার জন্য আরও ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বটি দা ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে লাশ দ্বিখণ্ডিত
পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, সুটকেসে পুরো লাশ না ধরায় ব্লেড এবং বটি দা ব্যবহার করে কোমর থেকে ডলি আক্তারের লাশ দ্বিখণ্ডিত করা হয়।
এরপর লাশের একাংশ সুটকেসে রাখা হয়।
অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।
লাশের পরিচয় যাতে দ্রুত শনাক্ত করা না যায় এবং মরদেহ গুম করা যায়, সে উদ্দেশ্যেই এভাবে লাশ সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সহযোগী আসামি বানু আক্তার (৪৩)
সহযোগী আসামি বানু আক্তার (৪৩)
বাসা পরিবর্তনের কথা বলে বন্ধুকে ডেকে আনে মিশন
লাশ গুম করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনে।
মিল্টন বাসায় আসার পর সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলে দিতে সহযোগিতা করে।
পরে মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার এবং মিজানুর রহমান মিল্টন মিলে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে প্রথমে রাজেন্দ্রপুরের দিকে যায়।
সেখান থেকে তারা সিএনজি অটোরিকশাযোগে ভবানীপুর এলাকায় যায়।
ভবানীপুর ব্রিজ থেকে খালে ফেলে দেওয়া হয় লাশ
ভবানীপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর মিশন ইসলাম ও মিজানুর রহমান মিল্টন সুটকেস এবং প্লাস্টিকের বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেয়।
এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগে।
সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রয়েছে—এ বিষয়ে তখন তার সন্দেহ তৈরি হয়। সে মিশনের কাছে জানতে চায়, সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রাখা হয়েছে।
একপর্যায়ে মিশন তাকে জানায়, সুটকেস ও বস্তার ভেতরে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকা ডলি আক্তারের লাশ রয়েছে।
এরপর মিশন ও মিল্টন নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়।
অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা
নিহত ডলি আক্তারের বড় ভাই সোহেল (৪৪) বাদী হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা এবং লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্তে নিয়ে পিবিআই দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য, স্থানীয় সোর্স এবং বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
১২ সেপ্টেম্বর তিনজন গ্রেপ্তার
তারিখ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক একটি ভাড়া বাসা থেকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)।
বাসা থেকে বটি দা, এনআইডি, মোবাইল ও জুতা উদ্ধার
আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো মতে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন এবং এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
পাশাপাশি সুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পিবিআই।
তদন্তকারীরা এসব আলামত ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখছেন।
১৪ সেপ্টেম্বর পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলন
তারিখ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থান: পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়, রাজদীঘির উত্তর পাড়, গাজীপুর মহানগর
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার।
তিনি জানান, লাশটি অজ্ঞাত ও অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় প্রথমে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল।
তবে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
‘পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব’
গ্রেফতারকৃত আসামি পরক্রিয়া প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২)
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, তদন্তে পাওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, অপরাধী যত কৌশলেই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেন, পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।
পিবিআই গাজীপুর জেলা এ ঘটনায় তারই একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৬৪ ধারায় তিন আসামির জবানবন্দি
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।
জেটিভি নিউজ বাংলা | গাজীপুর
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম