সকাল ১১:৩০:০০
| বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ২৮ দিনে, বছরের পর বছর ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা মায়ের এক থাপ্পড়ে অভিমান করে পাবনা থেকে ঢাকায় দুই শিশু, সাভারে উদ্ধার হতবাক পুলিশ প্রসাশন কক্সবাজারে সন্ধ্যার পর অকারণে বাইরে ঘুরলেই আটক ও গ্রেপ্তার হতে পারে শিক্ষার্থীরা, কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজির
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

সৌরবিদ্যুতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা প্রণোদনা, চট্টগ্রামে নেট মিটারিংয়ে প্রশিক্ষণের ঘাটতি

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সৌরবিদ্যুতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা প্রণোদনা, চট্টগ্রামে নেট মিটারিংয়ে প্রশিক্ষণের ঘাটতি

আবেদন করেও দুই বছরেও সংযোগ পাননি রাউজানের প্রকৌশলী

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে গ্রাহক প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিন বছর পর্যন্ত এ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগে বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ার কথা। বিশেষ করে দিনের বেলায় উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকায় নেট মিটারিং ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে।

তবে সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের মাঠপর্যায়ে দেখা দিয়েছে প্রস্তুতির ঘাটতির অভিযোগ। বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেরই নেট মিটারিং বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা ও প্রশিক্ষণ নেই বলে জানা গেছে। এমনকি দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কেউ কেউ নিজেরাই স্বীকার করেছেন, নেট মিটারিং সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই।

ফলে সরকার যখন গ্রাহকদের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করছে, তখন সেই গ্রাহকরা নেট মিটারের জন্য আবেদন করলে মাঠপর্যায়ে তা কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এরই একটি উদাহরণ রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন। প্রায় দুই বছর আগে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর নোয়াপাড়া জোনাল অফিসে নেট মিটারের সংযোগের জন্য আবেদন করেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ পাননি।

নেট মিটারিং কী

নেট মিটারিং হলো এমন একটি বিদ্যুৎ হিসাব ও বিলিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে গ্রাহক নিজের স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে প্রথমে নিজের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করেন। উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ নিজের ব্যবহারের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিতরণ গ্রিডে সরবরাহ করা যায়।

এ ব্যবস্থায় একটি বিশেষ ধরনের দ্বিমুখী বা বাই-ডাইরেকশনাল মিটার ব্যবহার করা হয়। এই মিটার একই সঙ্গে গ্রাহক জাতীয় গ্রিড থেকে কত ইউনিট বিদ্যুৎ নিচ্ছেন এবং গ্রাহকের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে কত ইউনিট বিদ্যুৎ যাচ্ছে—তার হিসাব রাখে।

অর্থাৎ, গ্রাহক একদিকে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, অন্যদিকে নিজের ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল তৈরির সময় এই দুই দিকের হিসাব সমন্বয় করা হয়।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, নেট মিটারিং ব্যবস্থায় গ্রাহকের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের হিসাব মাসিক বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। সরকার ২০২৫ সালে নেট মিটারিং নির্দেশিকা হালনাগাদ করেছে।

কীভাবে কাজ করে নেট মিটার

বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়।

ধরা যাক, কোনো শিল্পকারখানার ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে দিনে ১ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো। এর মধ্যে কারখানাটি নিজস্ব কাজে ব্যবহার করল ৭০০ ইউনিট। ফলে অতিরিক্ত ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ অব্যবহৃত থেকে গেল।

নেট মিটারিং ব্যবস্থায় এই অতিরিক্ত ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। দ্বিমুখী মিটারে ওই বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের হিসাব জমা থাকবে। পরে গ্রাহক যখন জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, তখন গ্রিডে আগে সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এ কারণে নেট মিটারিং শুধু সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগই তৈরি করে না, বরং গ্রাহকের জন্য উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কাজে লাগানোর একটি আর্থিক ব্যবস্থাও তৈরি করে।

বিদ্যুৎ বিল কমানোর সুযোগ

নেট মিটারিং ব্যবস্থার অন্যতম বড় সুবিধা হলো বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ। শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন, অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং বড় আবাসিক স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে গ্রাহকরা নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ পূরণ করতে পারেন।

ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ নিতে হয়। পাশাপাশি উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে তার হিসাব বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ থাকে।

জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে পারে

গ্রীষ্মকালে দিনের বেলায় সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। একই সময়ে সূর্যের আলো থাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগও বেশি থাকে।

এ কারণে দিনের ব্যস্ত সময়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি ব্যবহার এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলে গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

এর ফলে লোডশেডিং ও বিদ্যুতের ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রেও নেট মিটারিং ভূমিকা রাখতে পারে।

জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ এখনো গ্যাস, কয়লা ও তেলনির্ভর। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে এলএনজি, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এর ফলে একদিকে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার কমতে পারে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সৌরবিদ্যুৎ কিনবে সরকার

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে সরকার এবার বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেকের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের ধারাবাহিকতায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এরপর নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে গ্রাহক পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন।

অর্থাৎ, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে প্রণোদনার আওতায় আসা গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন।

প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক অথবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। নগদ অর্থে এ সুবিধা দেওয়া হবে না।

আর ২৮ ফেব্রুয়ারির পর স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

সরকারের ঘোষণা, কিন্তু মাঠে প্রস্তুতি কতটা?

সরকারি পর্যায়ে যখন নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, তখন এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসগুলোর মাঠপর্যায়ের সক্ষমতার ওপর।

কিন্তু চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর নোয়াপাড়া জোনাল অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পর্যায়ে নেট মিটারিং বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে নেট মিটারিং নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে যাচাই, মিটার স্থাপন এবং গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি

নেট মিটারিং সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ আবু ছায়েমের বক্তব্যেও।

তিনি বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অফিসে নেট মিটারের জন্য কেউ আবেদন করেননি। নেট মিটার সম্পর্কে আমাদেরও স্বচ্ছ ধারণা নেই। ফলে আবেদন এলেও তা বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।’

অর্থাৎ, যে অফিসে গ্রাহকের নেট মিটারিং সংক্রান্ত আবেদন বাস্তবায়নের দায়িত্ব রয়েছে, সেই অফিসের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কর্মকর্তার বক্তব্যেই নেট মিটারিং বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

সমিতি বলছে, প্রশিক্ষণ আছে সীমিত পর্যায়ে

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আলতাফ গওহার চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মেনেই নেট মিটারিংয়ের আবেদন বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নেট মিটারিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেই। তবে আমাদের সমিতির এজিএম (সদস্য সেবা) আরিফ আহমেদ নেট মিটারিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে সমিতির এজিএম (সদস্য সেবা) আরিফ আহমেদ জানান, কয়েক মাস আগে তিনি নেট মিটারিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সমিতির অধীনে নেট মিটারের জন্য কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। আবেদন পাওয়া গেলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা হবে।

দুই বছর আগে আবেদন, এখনো সংযোগ নেই

সরকারের বর্তমান প্রণোদনা ঘোষণার আগে থেকেই নেট মিটারিংয়ের জন্য আবেদন করে অপেক্ষায় রয়েছেন রাউজানের পাহাড়তলী গ্রামের প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন।

প্রায় দুই বছর আগে তিনি চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর নোয়াপাড়া জোনাল অফিসে নেট মিটারের সংযোগের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু এখনো সেই সংযোগ পাননি।

গিয়াস উদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করার পর দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছেন। এ বিষয়ে তার প্রশিক্ষণও রয়েছে।

নিজের বাড়িতেও তিনি তিন কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন। অর্থাৎ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি এ বিষয়ে তার কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

এরপরও নেট মিটারিং সংযোগ পেতে প্রায় দুই বছর ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাকে।

কর্মকর্তাদের ধারণার ঘাটতিই কি কারণ?

গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য, তিনি যখন নেট মিটারের জন্য আবেদন করেন, তখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের নেট মিটার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এ কারণে তার আবেদন বাস্তবায়িত হয়নি।

সরকার এখন নেট মিটারিং ব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করছে এবং অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের বিপরীতে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সংযোগ পাওয়ার জন্য তিনি আবারও চেষ্টা করছেন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য

এদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নেট মিটারের জন্য কোনো গ্রাহক আবেদন করলে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘নেট মিটারের জন্য কেউ আবেদন করলে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিস সহযোগিতা না করলে আমার কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি গ্রাহকদের। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাঠপর্যায়ে নেট মিটারিং বাস্তবায়নকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রণোদনার সুফল পেতে হলে প্রয়োজন মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা

সরকারের ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনার ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়ার সুযোগ গ্রাহকদের জন্য নতুন একটি আর্থিক প্রণোদনা তৈরি করেছে।

কিন্তু গ্রাহক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করার পর নেট মিটারিং সংযোগ না পেলে বা দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন ঝুলে থাকলে এই প্রণোদনার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

রাউজানের প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিনের প্রায় দুই বছর ধরে সংযোগ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নেট মিটারিং সম্পর্কে ‘স্বচ্ছ ধারণা নেই’—এমন বক্তব্য মাঠপর্যায়ের সক্ষমতার বিষয়টি সামনে এনেছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মকর্তা সহযোগিতা করবেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডও জানিয়েছে, কোনো বিদ্যুৎ অফিস সহযোগিতা না করলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফলে সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে গ্রাহকের আবেদন দ্রুত গ্রহণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি যাচাই, দ্বিমুখী মিটার স্থাপন এবং নেট মিটারিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া মাঠপর্যায়ে কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর।

সরকার যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে, তখন একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে—চট্টগ্রামের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সেই প্রশ্নই সামনে আনছে।

 

জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য,সাহস, সংযোগ….. 

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য