র্যাব বিলুপ্ত, নতুন আইনে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু এসআরবির
জেটিভি নিউজ বাংলা
ঢাকা | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় গঠিত এই ইউনিটের কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন এসআরবির মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
১৫ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করে। গেজেটে আইনটি ২০২৬ সালের ১৯ নম্বর আইন হিসেবে প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে র্যাব বিলুপ্তির বিষয়টি কার্যকর হয় এবং বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিটের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়।
নতুন ইউনিটের কাছে র্যাবের জনবল-সম্পদ হস্তান্তর
আইনে র্যাবের বিদ্যমান জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুযোগ-সুবিধা এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে র্যাবের তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাবের বই, রেজিস্টার, রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও নতুন ইউনিটের কাছে ন্যস্ত হবে।
অর্থাৎ র্যাবের নাম ও সংশ্লিষ্ট আগের আইনি কাঠামো বিলুপ্ত হলেও বিদ্যমান সাংগঠনিক সম্পদ, জনবল ও প্রশাসনিক দায়দায়িত্বের বড় অংশ এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
বহাল থাকবে আগের কিছু কার্যক্রম
গেজেট অনুযায়ী, র্যাব গঠনের জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯-এ সংযোজিত সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো রহিত হবে। তবে র্যাবের কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা বিধিমালা, ২০০৫ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে ওই বিধিমালা বা অন্য কোনো আইনের অধীনে র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে থেকে শুরু হওয়া বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও আদালতের কার্যক্রমও বহাল থাকবে।
সদস্যদের সঙ্গে মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনা
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসআরবি সদর দফতরে সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা এসআরবির সব ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ভিডিও কনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে এতে যুক্ত হন।
এ সময় মহাপরিচালক নতুন আইনের আলোকে এসআরবির সব ধরনের অভিযানিক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরবি ফোর্সের শুভযাত্রা ঘোষণা করেন তিনি।
আহসান হাবীব পলাশ এসআরবির সদস্যদের ন্যায়-নিষ্ঠা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পরিবর্তন আসছে লোগো, পতাকা ও পোশাকে
নতুন আইনের আলোকে এসআরবির লোগো, পতাকা, মনোগ্রাম ও পোশাক পরিবর্তনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর এসব পরিবর্তন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে, র্যাবের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নতুন পরিচয়ের প্রতিফলন দেখা গেছে। র্যাবের ফেসবুক পেজগুলোর নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করা হয়েছে এবং প্রোফাইল ছবিতে নতুন লোগোর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
লোগো নিয়ে নতুন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া
নতুন নাম চালুর পর বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ‘র্যাব’ শব্দের পরিবর্তে ‘এসআরবি’ ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে নতুন লোগো, পতাকা ও পোশাকের পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন এখনও প্রক্রিয়াধীন এবং সরকারের অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত
এসআরবির আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে বুধবার বাদ আসর সদর দফতরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নবগঠিত বাহিনীর সার্বিক মঙ্গল, সাফল্য এবং দেশের সেবায় নিয়োজিত থেকে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা কামনা করা হয়।
র্যাব থেকে এসআরবি
২০০৩ সালে আইনি ভিত্তি পাওয়ার পর ২০০৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব। দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর নতুন আইনি কাঠামোয় সেই ইউনিটের পরিবর্তে এসআরবি গঠিত হলো।
র্যাবের কার্যক্রম নিয়ে অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।
এর আগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং বাহিনীটির কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
সবশেষে ১৫ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে র্যাবের বিলুপ্তি কার্যকর এবং নতুন আইনি কাঠামোয় এসআরবির যাত্রা নিশ্চিত হয়। আর ১৬ সেপ্টেম্বর সদস্যদের উদ্দেশে মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় নতুন বাহিনীর কার্যক্রম। এখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পেশাদারিত্ব ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দিয়ে জননিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছে এসআরবি।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য, সাহস, সংযোগ….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম