ব্যাগে স্কচটেপে মোড়ানো স্বর্ণের পেস্ট, প্যান্টের পকেটে ৩৫ অলংকার
পেস্ট গলাতেই বেরিয়ে এলো ২৪ ক্যারেট স্বর্ণপিণ্ড, মাসকাটফেরত যাত্রীর কাছ থেকে ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাসকাটফেরত এক যাত্রীর কাছ থেকে ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)। আটক স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে বিশেষ কৌশলে ব্যাগেজে লুকিয়ে রাখা পেস্ট আকারের স্বর্ণসদৃশ বস্তু থেকে পাওয়া ৪২৫ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট স্বর্ণপিণ্ড এবং যাত্রীর প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করা ১০৬ গ্রাম ওজনের ৩৫ পিস বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত যাত্রীদের ওপর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (SAIA), চট্টগ্রামে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের CIID Team, SAIA এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
মাসকাট থেকে আসা যাত্রীকে তল্লাশি
মাসকাট থেকে আসা SalamAir-এর ফ্লাইটের যাত্রী Mohammad Hasan Murad শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর কাস্টমস গোয়েন্দা সদস্যদের নজরদারিতে আসেন।
পরে তাকে কাস্টমস হলরুমে নিয়ে তার ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে তার ব্যাগেজের ভেতরে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো পেস্ট আকারের স্বর্ণসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পাওয়া যায়। সন্দেহ হওয়ায় সেটি উদ্ধার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
পেস্ট প্রক্রিয়াজাত করতেই মিলল ২৪ ক্যারেট স্বর্ণপিণ্ড
উদ্ধার করা পেস্ট আকারের স্বর্ণসদৃশ বস্তুটি স্বর্ণ কারিগরের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রক্রিয়াকরণের পর ওই পেস্ট থেকে ৪২৫ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট স্বর্ণপিণ্ড পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, যাত্রীর ব্যাগেজে সাধারণ স্বর্ণপিণ্ডের পরিবর্তে বিশেষ কৌশলে পেস্ট আকারে স্বর্ণসদৃশ বস্তু লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তল্লাশিতে সেটি উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সেখান থেকে স্বর্ণপিণ্ড পাওয়া যায়।
ব্যাগেজের পর প্যান্টের পকেটেও স্বর্ণ
ব্যাগেজ তল্লাশির পর যাত্রীর দেহ তল্লাশি করা হলে তার প্যান্টের পকেট থেকে আরও স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়।
সেখানে ১০৬ গ্রাম ওজনের ৩৫ পিস বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার ছিল। এসব স্বর্ণালংকারও কাস্টমস গোয়েন্দা সদস্যরা আটক করেন।
পেস্ট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া ৪২৫ গ্রাম ২৪ ক্যারেট স্বর্ণপিণ্ড এবং প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করা ১০৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার মিলিয়ে আটক স্বর্ণের মোট ওজন দাঁড়ায় ৫৩১ গ্রাম।
শুল্ক-করসহ মূল্য এক কোটি টাকার বেশি
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, আটক করা স্বর্ণের শুল্ক-করাদিসহ আনুমানিক মোট মূল্য ১,০০,৪১,৫৫৫ টাকা।
অর্থাৎ, শুল্ক ও করসহ উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৪১ হাজার ৫৫৫ টাকা।
বিশেষ কৌশলে স্বর্ণ লুকানোর অভিযোগ
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীর ব্যাগেজের ভেতরে স্বর্ণসদৃশ পেস্ট বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। পরে সেটি প্রক্রিয়াজাত করে স্বর্ণপিণ্ড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এ ছাড়া দেহ তল্লাশির সময় প্যান্টের পকেট থেকে একসঙ্গে ৩৫ পিস বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার হওয়ায় পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি
বিশেষ কৌশলে স্বর্ণ লুকিয়ে আনার ঘটনায় আটক Mohammad Hasan Murad-এর বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বলছে, ঘটনাটি শুধু একজন যাত্রীর মাধ্যমে স্বর্ণ বহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
নেপথ্যে চক্র আছে কি না, খতিয়ে দেখবে CIID
স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি অথবা সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করবে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
একই সঙ্গে উদ্ধার করা স্বর্ণের উৎস কোথায়, এর গন্তব্য কোথায় ছিল এবং দেশে কার কাছে বা কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া স্বর্ণগুলো দেশে আনার সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, থাকলে তাদের পরিচয় কী এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন—সেসব তথ্যও অনুসন্ধান করা হবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিমানবন্দরে নজরদারি অব্যাহত
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান ও অবৈধভাবে মূল্যবান সামগ্রী আনা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও কাস্টমস সংস্থাগুলোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধি বা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রী ও তাদের ব্যাগেজ তল্লাশি করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ সেপ্টেম্বরের অভিযানে মাসকাটফেরত ওই যাত্রীর কাছ থেকে পেস্ট আকারে লুকানো স্বর্ণ এবং প্যান্টের পকেটে থাকা স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়।
ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন এবং স্বর্ণের উৎস, গন্তব্য ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস, সংযোগ….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম