তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগ
দয়াময়ী মোড়ে সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দাবি
জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর পৌরসভার দয়াময়ী মোড় এলাকায় কথিত অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে হেনস্তা, হুমকি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় সাংবাদিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এস এম সায়েম হোসেন। তার অভিযোগ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দয়াময়ী মোড় সংলগ্ন লোহানী মেডিকেলে কথিত অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান তিনি।
সাংবাদিক সায়েম হোসেনের দাবি, তথ্য সংগ্রহের সময় দোকানের স্বত্বাধিকারী রাসেল লোহানী তার কাজে বাধা দেন। এ সময় তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোবাইল উদ্ধারের সময় মারধরের অভিযোগ
সায়েম হোসেনের অভিযোগ, মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানের ভেতরে তাকে হুমকি ও হেনস্তা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। তথ্য সংগ্রহের সময় তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
থানায় সাধারণ ডায়েরি
ঘটনার পর আইনগত প্রতিকার চেয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর জামালপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক এস এম সায়েম হোসেন।
জিডির নম্বর ১২০৪।

জিডিতে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, ঘটনার সময় লোহানী মেডিকেল ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা চালু ছিল। ফলে ঘটনার আগে-পরে সেখানে কী ঘটেছিল, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং সাংবাদিকের সঙ্গে কী ধরনের ঘটনা ঘটেছে—এসব বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
তবে সায়েম হোসেন অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর দোকানের সিসিটিভি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এ কারণে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার আশপাশের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে দোকানে ব্যবহৃত সিসিটিভির রেকর্ডিং ডিভাইস এবং মেমোরি সংক্রান্ত তথ্যও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
তার দাবি, সময়মতো সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডিং ডিভাইস পরীক্ষা করা হলে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
কথিত অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগ
সাংবাদিক এস এম সায়েম হোসেনের আরও অভিযোগ, লোহানী মেডিকেলে দীর্ঘদিন ধরে কথিত অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি হয়ে আসছে। এ অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।
তবে ওই দোকানে অবৈধ ওষুধ বিক্রির অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি—এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দোকানটির বৈধ কাগজপত্র, সেখানে বিক্রি করা ওষুধের ধরন, এসব ওষুধের অনুমোদন, এবং সেগুলো বিক্রির বৈধতা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করলে দোকানে বিক্রি হওয়া ওষুধের প্রকৃতি, অনুমোদন এবং বিক্রির বৈধতা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়ার আহ্বান
ঘটনার সময় দোকান ও আশপাশের এলাকায় যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের বক্তব্য নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক সায়েম হোসেন।
তার দাবি, ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বক্তব্য নেওয়া হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, রেকর্ডিং ডিভাইস ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে ঘটনার ধারাবাহিকতা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাসেল লোহানীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে লোহানী মেডিকেলের স্বত্বাধিকারী রাসেল লোহানীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ফলে সাংবাদিককে হেনস্তা, হুমকি, মারধর ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রাসেল লোহানীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সিসিটিভি সরিয়ে ফেলার অভিযোগ এবং কথিত অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগের বিষয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দ্রুত তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এস এম সায়েম হোসেনের দাবি, ১৮ সেপ্টেম্বর করা জিডির ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক।
একই সঙ্গে তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পরীক্ষা, দোকানের রেকর্ডিং ডিভাইস ও মেমোরি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং দোকানে বিক্রি হওয়া কথিত যৌন উত্তেজক ওষুধের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
তার আরও দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ঘটনাটি নিয়ে এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল এবং অভিযোগগুলোর কতটুকু সত্যতা রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস, সংযোগ…….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম