বাসের সামনের সিট নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে আহত ১০
ককটেল বিস্ফোরণ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, প্রায় ২০ দোকান ভাঙচুর
জেটিভি নিউজ বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদারীপুরের কালকিনি ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুই পক্ষের মধ্যে বাসের সিট নিয়ে বিরোধের জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভূরঘাটা এলাকার প্রায় ২০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
পরে একপর্যায়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলে মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে একটি বাসের সামনের সিট চাওয়া নিয়ে এ বিরোধের সূত্রপাত। এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই দফায় বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সামনের সিট চাওয়া নিয়ে বিরোধের শুরু
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের সেলিম ঘরামীর ছেলে এমারত ঘরামী বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান।
এমারত অসুস্থ থাকায় বাসের সামনের একটি সিট চান। তবে কাউন্টারের সুপারভাইজার তাকে ওই সিট দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে এমারতের সঙ্গে কাউন্টার কর্তৃপক্ষের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের সঙ্গে এমারত ঘরামীর কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় সবুজ ফকিরের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে সেখানে এসে এমারতকে মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রথম দিনের ওই ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি।
স্থানীয়দের উপস্থিতিতেও থামেনি বিরোধ
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এমারত ঘরামী ওই বাস কাউন্টারে যান। সেখানে আগের ঘটনার বিষয় নিয়ে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে সেখানে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুই পক্ষকে শান্ত করেন। তখন বিষয়টি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও পরদিন শুক্রবার আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষ
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে ভূরঘাটা সেতু ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় ভূরঘাটা এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে প্রায় ২০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, যান চলাচল বন্ধ
সংঘর্ষের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কেও। একপর্যায়ে মহাসড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
হঠাৎ সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় যানবাহনের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহত অন্তত ১০
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
সংঘর্ষের খবর পেয়ে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কয়েক দিনের পুরোনো বাসের সিট নিয়ে বিরোধ কীভাবে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, দোকানপাট ভাঙচুর এবং মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় রূপ নিল, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস, সংযোগ……
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম