সকাল ১১:৩০:০০
| রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশ সদস্য আহত, মাটিতে ফেলে পেটানোর ঘটনা মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ২৮ দিনে, বছরের পর বছর ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

কিশোর গ্যাংয়ের দাপট বাড়ছেই: অপরাধী চক্রে ২০ বছরের কম বয়সী ৫৩ শতাংশ!

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

কিশোর গ্যাংয়ের দাপট বাড়ছেই: অপরাধী চক্রে ২০ বছরের কম বয়সী ৫৩ শতাংশ!

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক 

কুমিল্লায় ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে কিশোর গ্যাং। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে প্রতিদিনই শত শত কিশোর ও তরুণকে আটক কিংবা গ্রেফতারের তথ্য সামনে আসছে। শুধু কুমিল্লাতেই কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযানে আটক-গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ৬৭২ জনকে। রাজধানীতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ডিএমপির অপরাধী চক্রের তালিকায় থাকা ৮৯৩ জনের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের ৫৩ শতাংশের বয়স ২০ বছর বা তার কম। এর মধ্যে ১৫২ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে।**

বিগত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা নামে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। শুরুতে স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার কিংবা ছোটখাটো অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও সময়ের সঙ্গে অনেক কিশোর জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, হামলা এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার নতুন মাত্রা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজ খুলে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হুমকি এবং হামলার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কুমিল্লার অপ্রতিমের মৃত্যু, এরপরই ধারাবাহিক অভিযান

চলতি মাসের ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আবারও আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করে। প্রায় প্রতিদিনই এসব অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আটক কিংবা গ্রেফতারের কথা জানানো হচ্ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু কুমিল্লাতেই ‘কিশোর গ্যাং’ ও ‘বখাটেদের’ বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে মোট ১ হাজার ৬৭২ জনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধারাবাহিক অভিযান কিশোর অপরাধের বিস্তৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—কিশোররা কীভাবে অপরাধী চক্রে ঢুকছে, তাদের পেছনে কারা রয়েছে এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবার ও রাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা কার্যকর?

ঢাকার অপরাধী চক্রে ৫৩ শতাংশের বয়স ২০ বা কম

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধী চক্রের তথ্য বিশ্লেষণে।

ডিএমপির তালিকায় রাজধানীতে সক্রিয় ১২২টি অপরাধী চক্রের তথ্য রয়েছে। এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত ৮৯৩ জনের বয়সের তথ্যও পুলিশের কাছে রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ৫৩ শতাংশের বয়স ২০ বছর বা তার কম।

এর মধ্যে ১৫২ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত মোট ব্যক্তির ১৭ শতাংশ এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি।

অন্যদিকে ৩২২ জনের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। এই সংখ্যা মোট তালিকাভুক্ত ব্যক্তির ৩৬ শতাংশ।

১৮ বছরের নিচে থাকা ১৫২ জন এবং ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী ৩২২ জনকে একত্র করলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭৪ জন।

অর্থাৎ ডিএমপির তালিকায় থাকা ৮৯৩ জনের মধ্যে ৪৭৪ জনের বয়স ২০ বছর বা তার কম—যা মোটের ৫৩ শতাংশ।

এ তথ্য কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ কীভাবে অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে, সেই চিত্র সামনে আনছে।

মিরপুরে চক্র বেশি, সহিংসতায় এগিয়ে মোহাম্মদপুর

ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজধানীতে সক্রিয় ১২২টি অপরাধী চক্রের তথ্য পুলিশের তালিকায় রয়েছে।

তালিকায় মিরপুর শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে সহিংসতার ঘটনায় মোহাম্মদপুর এগিয়ে।

এসব চক্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা এবং অর্থের বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব অপরাধী চক্র রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং কুখ্যাত অপরাধীদের সহায়তা পেয়ে থাকে।

শুধু আধিপত্য নয়, চাঁদাবাজি থেকে হত্যাকাণ্ডেও জড়াচ্ছে কিশোররা

বিগত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচিত্র নামে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা চলছে।

এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে।

কিছু ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাকে আরও বিস্তৃত করছে। বিভিন্ন গ্রুপ পেজ খুলে ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরদের বেপরোয়া আচরণকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী ও এলাকার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।

মাদক ব্যবসা, দখলবাজি এবং নানা ধরনের অপকর্মে কিশোরদের কাজে লাগানো হচ্ছে। এলাকার কিংবা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে চপলমতি কিশোরদের একটি অংশ নিজেদের ক্ষমতা দেখাতেও উৎসাহী হয়ে উঠছে। একপর্যায়ে তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা আইনের জটিলতা

পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রধানত তিনটি বড় বাধা রয়েছে।

এসব হলো—আইনের জটিলতা, জনবলের অভাব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী ১৮ বছর বা এর কম বয়সী অপরাধীদের উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যায় না। সাধারণ আদালতেও তাদের বিচার করা যায় না এবং জেলেও রাখা যায় না।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শিশু বা কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অন্যত্র বদলি করা হয়।

আবার একই থানায় থাকলেও তাকে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বেশিরভাগ সময় তা কার্যকর করা সম্ভব হয় না।

‘পরিবার থেকেই সুশিক্ষা দিতে হবে’

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গনি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বুধবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা না যাওয়ার প্রধান কারণ পারিবারিক শিক্ষা।

তিনি বলেন, সন্তান সন্ধ্যার পর বাসা থেকে কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে। অভিভাবক সচেতন হলে কিশোর অপরাধ ধীরে ধীরে কমে আসবে।

মোহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, শিশু-কিশোররা অপরাধ করলে মোবাইল কোর্ট করা, সাধারণ আদালতে বিচার করা এবং জেলেও রাখা যায় না। অর্থাৎ তাদের প্রতি কঠোর হওয়ার সুযোগ নেই।

তাই কিশোর অপরাধ দমনে পরিবারকে দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবার থেকেই সুশিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা

কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতায় রাজধানীর অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।

ইকবাল রোডে মোহাম্মদ প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া জামান। তার মা শিরিন আক্তার প্রতিদিন ছেলেকে স্কুলে নিয়ে আসেন এবং ছুটির পর বাসায় নিয়ে যান।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

মোহাম্মদপুরে থাকার কারণে ভয়টা আরও বেশি বলে জানান তিনি। ছেলে বখে যায় কি না, সেই আশঙ্কায় সংসারের অন্য কাজ ফেলে সারাদিন ছেলের স্কুল ও টিউশনের পেছনে ছুটতে হয়।

শিরিন আক্তার বলেন, কিশোর অপরাধ বেড়েই চলছে। সরকারের উচিত শিশুদের বাঁচাতে এগিয়ে আসা। শিশু অপরাধ দমন করতে না পারলে আমাদের সব আয়োজন ব্যর্থ হবে।

‘খারাপ ছেলেদের বন্ধু না হয়, সেদিকে নজর রাখি’

ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. আব্দুল্লাহর মা আফরিন বেগম জানান, ছেলেদের নিয়ে এখন খুব ভয় হয়।

এ কারণে তিনি সারাক্ষণ ছেলেকে চোখে চোখে রাখেন। ছেলে যেন খারাপ ছেলেদের বন্ধু না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকেন।

তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর ভয় আরও বেড়েছে। বাবা-মায়ের আরও সচেতন হওয়া উচিত।

সন্তান কার সঙ্গে যাচ্ছে, কে তার বন্ধু—এসব বিষয়ে বাবা-মাকে সতর্ক থাকতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

মাদকের বিষে নীল কিশোর-তরুণ

কিশোর অপরাধের সঙ্গে মাদকের সম্পর্কও গভীর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৫ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ লাখ।

মাদকাসক্তদের বেশির ভাগই পুরুষ। তবে নারী ও শিশুদের মধ্যেও মাদকাসক্তি রয়েছে।

ডিএনসির সমীক্ষা অনুযায়ী, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৭৭ লাখ ৬০ হাজার এবং নারী ২ লাখ ৮৫ হাজার।

এর বাইরে ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু-কিশোর মাদকে আসক্ত।

শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক বহনে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়, চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ)-এর উপপরিচালক ও গবেষক মো. মানজুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শিশু-কিশোরদের পেটে ইয়াবা বহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তার মতে, শিশুদের কেউ সহজে সন্দেহ করে না। ফলে মাদক বহনের কাজে তাদের ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া কম মজুরিতে তাদের ব্যবহার করা যায়। মাদকের ক্যারিয়ার হওয়ার পর অনেক শিশু মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।

মানজুরুল ইসলাম বলেন, অনেক অভিভাবক আছেন, যারা পেটে মাদক বহন করা ও পাচারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে শিশুদের সঙ্গে রাখেন।

তখন থেকে ধীরে ধীরে শিশুরা মাদকের পরিবেশ দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং পরে নেশায় জড়িয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, কিশোর অপরাধ অপ্রতিরোধ্য হওয়ার আরেকটি বড় কারণ মাদক।

এ ছাড়া আইনে শিশুদের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না থাকায় এই সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে।

দারিদ্র্য, মাদক ও পৃষ্ঠপোষকতা—নেপথ্যে একাধিক কারণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, দারিদ্র্য, পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা এবং মাদকের কারণে কিশোর গ্যাং অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

তার মতে, এই প্রবণতা শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই; সারাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ড. তৌহিদুল হক বলেন, শুধু পুলিশি অভিযান চালিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের অপরাধী নেটওয়ার্কে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অর্থদাতা, মাদকচক্র ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা যারা করছে, তাদের আগে আইনের আওতায় আনতে হবে।

পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

‘অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযান জরুরি’

ড. তৌহিদুল হক বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশ মাঠে তেমন সক্রিয় হতে পারেনি। কোথাও অভিযানে গেলেও তাদের ওপর হামলা হচ্ছে।

তার মতে, কিশোর গ্যাং ও সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া রাজনীতিবিদদেরও দেশ বাঁচাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। পুলিশের পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাও এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

‘অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী’

এদিকে মঙ্গলবার পুলিশ সদরদফতরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির বলেছেন, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী।

তিনি মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন পুলিশপ্রধান।

মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘শূন্য সহনশীলতা’র অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির।

তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

অর্থাৎ মাদক ও কিশোর অপরাধ দমনে শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, শিক্ষা, মাদক, সামাজিক পরিবেশ, অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতার মতো একাধিক বিষয়।

একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কিশোর ও তরুণদের আটক-গ্রেফতার করছে, অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কিশোরদের ধরলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করছে যারা, তাদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর অপরাধী চক্রের তালিকায় থাকা ৮৯৩ জনের মধ্যে ৪৭৪ জনের বয়স ২০ বছর বা তার কম। এর মধ্যে ১৫২ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

আর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযানে ১ হাজার ৬৭২ জনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যানই দেখিয়ে দিচ্ছে—কিশোরদের একটি অংশ ক্রমেই অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

তাই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে একদিকে যেমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন, অন্যদিকে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কিশোরদের অপরাধে ঠেলে দেওয়া মাদকচক্র, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ সামাজিক ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাও এখন সময়ের বড় দাবি।

 

জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য, সাহস, সংযোগ…… 

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য