জাপান সফরে অর্থনীতি ও বিনিয়োগে গুরুত্ব, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইতিবাচকভাবে বিবেচনায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণকে অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।
সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্ব
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুবিধাজনক সময়ে তিনি রিয়াদ সফর করবেন। অন্যদিকে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে শুধু শ্রম অভিবাসন ও রেমিট্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের পরিসর আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘সেই ভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি আমাদের আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ সীমা হতে পারে না।’
প্রযুক্তি, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে যৌথ বিনিয়োগের আলোচনা
হুমায়ুন কবির জানান, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে যৌথ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
আলোচনায় থাকা খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর, লজিস্টিকস, কৃষি, মৎস্য, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধশিল্প।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে দুই দেশের জন্যই নতুন বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় গড়ে তোলা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
দক্ষ কর্মী পাঠানো ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্ব
সৌদি আরবে আরও দক্ষ ও পেশাদার বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সৌদি আরবের পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে হবে।
একই সঙ্গে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে বলে জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় শুধু পরিমাণগত সম্প্রসারণের পরিবর্তে গুণগত মান তৈরির মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। অর্থাৎ, শ্রম অভিবাসন ও রেমিট্যান্সের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক) ড. মো. নজরুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিজওয়ানুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের পরিচালক অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম হক সেমিনারে সূচনা বক্তব্য দেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রাজনৈতিক বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজের সমন্বয়ক ড. সেলিম রেজা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ উজ জামান সেমিনারের প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে…..
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম