মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক | জেটিভি নিউজ বাংলা
ছবি ঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে থেকে সংগৃহীত
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রকৃত সুস্থতা শুধু শারীরিকভাবে রোগমুক্ত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকাই সুস্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ রূপ। তাই মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বাণীতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব, এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।
এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’। প্রতিপাদ্যটির মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হবে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়; এটি মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা, পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মানসিক অসুস্থতা নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবহেলা বা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কার্যকর পরিবর্তন আনতে হলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে সম্মান জানাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন সমান গুরুত্ব পাবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তবে সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব, সীমিত সেবার সুযোগ এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা, গুণগত মান ও সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষণ, সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বাণীতে তুলে ধরা হয়।
গর্ভবতী মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু-কিশোরদের মানসিক সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারেক রহমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা এবং সহজে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বাণী।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে……
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম