শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের এক বছর আজ, ১৪ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | জেটিভি নিউজ বাংলা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর)। গত বছরের এই দিনে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় হাজার কোটি টাকার পণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথি। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন আমদানিকারকেরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কাজ করে। অগ্নিকাণ্ডের পর বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা সুপারিশ করা হলেও এক বছর পরও কার্গো ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আমদানিকারকেরা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৪ দফা সুপারিশের বেশির ভাগই বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। নিরাপত্তা তদারকি, নিয়মিত টহল, অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আমদানিকারকদের অভিযোগ, কার্গো ব্যবস্থাপনায় এখনও ঝুঁকি রয়েছে। নতুন কার্গো কমপ্লেক্সও পুরোপুরি চালু হয়নি।
গত বছরের ১৮ অক্টোবর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
গত বছরের ১৮ অক্টোবর দুপুর সোয়া ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করে। তাদের সঙ্গে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অংশ নেয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবি।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ওই দিন রাত ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে পরদিন ১৯ অক্টোবর বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে। অর্থাৎ আগুন নেভানোর কার্যক্রম চলে প্রায় ২৭ ঘণ্টা।
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জন আনসার সদস্যসহ মোট ৩৫ জন আহত হন। আগুনে পুড়ে যায় হাজার কোটি টাকার পণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথি। এতে আমদানিকারকদের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয় এবং বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটি, দেওয়া হয় ১৪ দফা সুপারিশ
ছবি সংগৃহীত
ঘটনার পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কার্গো এলাকা ছাড়াও পুরো বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারের জন্য ১৪টি সুপারিশ করে।
সুপারিশগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো, আগুন শনাক্ত করার ব্যবস্থা উন্নত করা, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সাড়া নিশ্চিত করা।
সুপারিশের মধ্যে ছিল অস্থায়ী ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন, ফায়ার হাইড্রেন্ট ও স্প্রিংকলার ব্যবস্থা চালু, জরুরি সংকেত স্থাপন, ফায়ার বক্সসহ হোস পাইপ বসানো, অচল ফায়ার হাইড্রেন্ট মেরামত এবং স্থায়ী ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া। পাশাপাশি বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা অবকাঠামো ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সুপারিশে যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল
১. অস্থায়ী ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন: জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্থায়ী ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
২. ফায়ার হাইড্রেন্ট ও স্প্রিংকলার ব্যবস্থা চালু: আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণ এবং আগুন ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে ফায়ার হাইড্রেন্ট ও স্প্রিংকলার ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা বলা হয়।
৩. জরুরি সংকেত স্থাপন: আগুন বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য জরুরি সংকেতব্যবস্থা স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
৪. ফায়ার বক্সসহ হোস পাইপ বসানো: প্রয়োজনের সময় দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ফায়ার বক্স ও হোস পাইপ স্থাপনের কথা বলা হয়।
৫. অচল ফায়ার হাইড্রেন্ট মেরামত: বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে অকার্যকর ফায়ার হাইড্রেন্ট মেরামত করে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকে সচল রাখার সুপারিশ করা হয়।
৬. স্থায়ী ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ: বিমানবন্দরে আগুন লাগলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার জন্য স্থায়ী ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।
৭. অগ্নিনিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন: বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিনিরাপত্তার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
৮. জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি: অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৯. ফায়ার ক্রুদের প্রশিক্ষণ: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ফায়ার ক্রুদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়, যাতে তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারেন।
১০. ভূমি অধিগ্রহণের দলিল সংগ্রহ: বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ভূমি অধিগ্রহণের দলিল সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়।
১১. বিমানবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি আধুনিকায়ন: বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে বিমানবাহিনীর সঙ্গে করা চুক্তি আধুনিকায়নের কথা বলা হয়।
১২. কেন্দ্রীয় ফুয়েল শেডের প্রকল্প বাস্তবায়ন: কেন্দ্রীয় ফুয়েল শেড-সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
১৩. জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন: এই কমপ্লেক্সে ফায়ার হাইড্রেন্ট, স্প্রিংকলার ও ডিটেকশন সিস্টেম স্থাপনের সুপারিশ করা হয়, যাতে আগুন শনাক্ত করা এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়।
১৪. নির্দিষ্ট স্থানে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন: এমটিপুল, সেমসু ও সিএটিসির চারটি পয়েন্টে ফায়ার বক্সসহ হোস পাইপ বসানো, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাতটি অচল ফায়ার হাইড্রেন্ট মেরামত এবং ফায়ার সার্ভিসের অস্থায়ী স্টেশনে গাড়ি রাখার শেড নির্মাণের সুপারিশ করা হয়।
এগুলো ছাড়াও তদন্ত কমিটির সুপারিশে অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আমদানিকারকদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি
শাহজালাল বিমানবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল আলম ভূঁইয়া মিঠু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আমদানিকারকদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এমনকি ওই ঘটনার পর এ বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারপরও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমদানিকারকেরা পণ্য আমদানি করছেন।
তিনি বলেন, নতুন কার্গো কমপ্লেক্স এখনও চালু হয়নি। অত্যাধুনিক এই কমপ্লেক্স চালু হলে শেডের ভেতরে ও বাইরে মালামাল পড়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এভাবে মালামাল পড়ে থাকলে পণ্যের ক্ষতির পাশাপাশি অগ্নিঝুঁকিও থাকে।
খায়রুল আলমের মতে, কার্গো ব্যবস্থাপনায় পণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও দ্রুত খালাস করা গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে শেডের ভেতরে ও বাইরে পড়ে থাকলে ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে পণ্যের ক্ষতি এবং অগ্নিঝুঁকির আশঙ্কাও থেকে যায়।
এক বছরে অগ্নিনিরাপত্তায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, অভিযোগ আমদানিকারকদের
অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে গত এক বছরে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন খায়রুল আলম ভূঁইয়া মিঠু।
তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিজেদের দিক থেকে যেসব কাজ করেছে, সেগুলো হয়তো তাদের বিবেচনায় ঠিক আছে। তবে কার্গো ব্যবস্থাপনায় এখনও ঝুঁকি রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
আমদানিকারকদের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তা জোরদারে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে নতুন কার্গো কমপ্লেক্স পুরোপুরি চালু না হওয়ায় পণ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলছে, কার্গো ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হয়েছে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (কার্গো, অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাশিদুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পুরো এলাকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলেও বেশ কিছু বিষয়ে উন্নতি হয়েছে।
তিনি জানান, কয়েকটি গেট তৈরি করা হয়েছে। এসব গেট দিয়ে দ্রুত মালামাল খালাস করা যাচ্ছে। এ ছাড়া কার্গো কমপ্লেক্সের একটি অংশ ব্যবহার শুরু হয়েছে।
রাশিদুল করিম বলেন, অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে নেওয়া ব্যবস্থাগুলো ভালো। সামনে এ বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন মালামাল খালাসে আগের মতো সময় লাগছে না। সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে মালামাল সরবরাহ করছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুরো অবকাঠামো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলেও নতুন গেট তৈরি এবং কার্গো কমপ্লেক্সের একটি অংশ ব্যবহার শুরু হওয়ায় মালামাল খালাসের ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে।
১৪ দফা সুপারিশের বেশির ভাগ বাস্তবায়নের পথে, দাবি বেবিচকের
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (প্ল্যানিং অ্যান্ড অপারেশনস) মেহবুব খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত বছরের অগ্নিকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছিল। ওই বৈঠকের প্রায় সব সুপারিশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
তিনি বলেন, কার্গো এলাকার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো দেখভাল করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। বেবিচক তাদের জায়গা লিজ দিয়েছে। তারা নিজেদের দুর্বলতা দূর না করলে দুর্ঘটনার দায়ও তাদের বহন করতে হবে।
বেবিচকের এই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কার্গো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। জায়গা লিজ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে হবে।
বৈদ্যুতিক তার ও শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি যাচাই
বেবিচকের ফায়ার সেফটি বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভয়াবহ ওই ঘটনার পর অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি অফিসের বৈদ্যুতিক তার ঢিলা রয়েছে কি না এবং শর্ট সার্কিট হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ফায়ার সেফটি প্ল্যান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই পরিকল্পনায় স্মোক ডিটেক্টর ও অ্যালার্মিং সিস্টেম রয়েছে। কোনো ধরনের ধোঁয়া শনাক্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে।
তিনি জানান, বিমানবন্দরে প্রতিদিন ভোর, সকাল ও রাতে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট
বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর এলাকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা বাড়াতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে সহায়তা করবে।
কাওছার মাহমুদ বলেন, অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে বিভিন্ন অফিসে নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি উদ্ধার মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ১ হাজার ৯০০ জনের বেশি
বেবিচকের মুখপাত্র আরও জানান, টার্মিনাল ভবন এলাকায় কর্মরত ১ হাজার ৯০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে অগ্নিনিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগুন লাগলে কীভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কীভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করণীয়—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা তদারকি, সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এক বছর পরও প্রশ্নের মুখে কার্গো এলাকার নিরাপত্তা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলেও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
একদিকে বেবিচক ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরছেন। তাঁদের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট স্থাপন, ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট বাড়ানো, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা, স্মোক ডিটেক্টর ও অ্যালার্মিং সিস্টেমের পরিকল্পনা, নিয়মিত টহল এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আমদানিকারকদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি, নতুন কার্গো কমপ্লেক্স পুরোপুরি চালু হয়নি এবং কার্গো ব্যবস্থাপনায় এখনও ঝুঁকি রয়েছে। পণ্য শেডের ভেতরে ও বাইরে পড়ে থাকার কারণে পণ্যের ক্ষতি এবং অগ্নিঝুঁকির আশঙ্কাও কাটেনি বলে তাঁদের অভিযোগ।
সব মিলিয়ে, অগ্নিকাণ্ডের এক বছর পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি কার্গো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব কার্যকারিতা, নতুন কমপ্লেক্সের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এবং পণ্য ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি দূর করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম