শ্রমিক আন্দোলনে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উসকানির অভিযোগ রিজভীর, ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদ পুনরুত্থানের চেষ্টার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক | জেটিভি নিউজ বাংলা
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে আত্মগোপনে থাকা পলাতক শক্তির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকদেরও ভূমিকা রয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রস্তুতি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক আন্দোলনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পলাতক শক্তিও আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকদেরও এই অরাজকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ করেন তিনি।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মাধ্যমে উসকানি দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি বিরোধী দলের সংহতি প্রকাশের প্রসঙ্গেও কঠোর বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি বিরোধী দলের সংহতি প্রকাশ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাদের গোপন সম্পর্কের প্রমাণ। তাঁর দাবি, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার ইতোমধ্যে নিরসন হয়েছে। কিন্তু সংকট নিরসনের পরও যেসব কর্মকাণ্ড চলছে, সেগুলো ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।
রিজভী আরও বলেন, উসকানি দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে কেউ লাভবান হতে পারবে না। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এমন অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার ও জনগণ সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ নেই। কেউ পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে জনগণই তা প্রতিহত করবে।
আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচির নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি জানান, দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণই ভূমিকা রাখবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির সাত দিনের কর্মসূচি
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করবে দলটি।
তিনি বলেন, শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা বা র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা
বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এদিকে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে একই দিনে শোভাযাত্রা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান রিজভী। সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করবে বিএনপি।
শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার অভিযোগ, বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে রিজভীর মন্তব্য এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি—সব মিলিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে……...
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম