ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ কারাগারে চরম চাপ
৩৬ বর্গফুটের জায়গায় থাকছেন দুই-তিনজন, ব্যাহত হচ্ছে বন্দিদের পৃথক রাখার ব্যবস্থা
জেটিভি নিউজ বাংলা
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি থাকায় চরম চাপের মধ্যে রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এসব কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা সাত হাজার ৮৫০ জন হলেও বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ১৯ হাজার ৯৬৬ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ১২ হাজার ১১৬ জন বেশি বন্দি রয়েছেন।
অতিরিক্ত বন্দির চাপে কারাবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বন্দিকে পৃথক রাখার ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন অপরাধ ও মামলায় আটক বন্দিদের অনেক ক্ষেত্রেই একই সঙ্গে রাখতে হচ্ছে। এতে কারাগারের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা, বন্দিদের নির্ধারিত জায়গা এবং শ্রেণিভেদে আলাদা রাখার নিয়ম বাস্তবায়নে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে পুরুষ বন্দির ধারণক্ষমতা সাত হাজার ৪৭৯ জন এবং নারী বন্দির ধারণক্ষমতা ৪১৩ জন। এর বিপরীতে বর্তমানে পুরুষ বন্দি রয়েছেন ১৯ হাজার ২২২ জন এবং নারী বন্দি ৭৪৪ জন।
হিসাব অনুযায়ী, পুরুষ বন্দির সংখ্যা নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ। একইভাবে নারী বন্দির সংখ্যাও নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।
যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিও শত শত
চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন এক হাজার ১৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৬৮ জন এবং নারী ৬৩ জন।
এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ২৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪০ জন এবং নারী ১৭ জন।
অন্যদিকে মাদক মামলায় আটক বন্দির সংখ্যা চার হাজার ২৬৮ জন।
কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারাগারে বিভিন্ন শ্রেণি ও অপরাধের বন্দিদের পৃথক রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকায় বাস্তবে সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফলে বিভিন্ন মামলার আসামি, বিচারাধীন বন্দি, সাজাপ্রাপ্ত বন্দি এবং বিভিন্ন অপরাধে আটক ব্যক্তিদের অনেক ক্ষেত্রেই একই স্থানে রাখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামাল দিতে গিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সবচেয়ে বেশি চাপ
দুই হাজার ২৪৯ জনের ধারণক্ষমতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ছয় হাজার ৯০৩ জন। অর্থাৎ নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বন্দি এখানে অবস্থান করছেন।
এ কারাগারে মাদক মামলার আসামি রয়েছেন ৯০৯ জন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ২২৬ জন। এর মধ্যে নারী ১৬ জন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ৪৯৫ জন এবং নারী ২২ জন।
কারাগারটিতে পুরুষ হাজতি পাঁচ হাজার ৪৯১ জন এবং নারী হাজতি ১৬৯ জন। পুরুষ কয়েদি ৪৯৫ জন এবং নারী কয়েদি ২৩ জন।
এছাড়া বিদেশি বন্দি আছেন ৭৬ জন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়েও কারা কর্তৃপক্ষ নতুন অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। বিভাগীয় কারা কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামে নতুন কারাগার নির্মাণের প্রস্তাবও দিয়েছে।
কুমিল্লা কারাগারেও ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ বন্দি
এক হাজার ৭৪২ জনের ধারণক্ষমতার কুমিল্লা কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন তিন হাজার ১৮০ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি দুই হাজার ১২৭ জন ও নারী হাজতি ১০৬ জন। পুরুষ কয়েদি ৭১৩ জন এবং নারী কয়েদি ১৬ জন।
এ কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন তিনজন পুরুষ।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ১৯৮ জন ও নারী ১৫ জন।
মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৮৩৩ জন।
কক্সবাজার কারাগারে তিনগুণের কাছাকাছি বন্দি
৮৩০ জনের ধারণক্ষমতার কক্সবাজার কারাগারে বন্দি আছেন দুই হাজার ৮৮৫ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি দুই হাজার ৭৪১ জন এবং নারী হাজতি ১৪৪ জন। পুরুষ কয়েদি ২৮৪ জন এবং নারী কয়েদি সাত জন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন চার জন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ১৬২ জন ও নারী চার জন।
বন্দিদের মধ্যে ৮৮৪ জন মাদক মামলার আসামি।
অতিরিক্ত বন্দির কারণে কক্সবাজারের কারাগারেও পৃথকভাবে বন্দি রাখার ব্যবস্থা নিয়ে চাপ রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা কর্তৃপক্ষ মাদক মামলার বন্দি এবং রোহিঙ্গা বন্দিদের আলাদা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে ২ হাজার ১৯১ বন্দি
৭৮০ জনের ধারণক্ষমতার ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে বন্দি আছেন দুই হাজার ১৯১ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি এক হাজার ৫১৫ জন ও নারী ৩১ জন। পুরুষ কয়েদি ৫৩১ জন এবং নারী কয়েদি ৫৬ জন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন দুই জন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ৩৮ জন ও নারী পাঁচ জন।
মাদক মামলার আসামি আছেন ৬৮০ জন।
এ কারাগারে বিদেশি বন্দি রয়েছেন একজন।
নোয়াখালী কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি
৫০০ জনের ধারণক্ষমতার নোয়াখালী কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন এক হাজার ৯০ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৮৬৪ জন ও নারী হাজতি ২৯ জন। পুরুষ কয়েদি ১২৯ জন এবং নারী কয়েদি পাঁচ জন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ছয় জন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ৫৫ জন ও নারী দুই জন।
মাদক মামলায় বন্দি আছেন ২০১ জন।
চাঁদপুর কারাগারেও অতিরিক্ত বন্দির চাপ
৪৭৫ জনের ধারণক্ষমতার চাঁদপুর কারাগারে বর্তমানে বন্দি এক হাজার ৮৬ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৮০১ জন এবং নারী হাজতি ২৮ জন। পুরুষ কয়েদি ২০৭ জন এবং নারী কয়েদি চার জন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন একজন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ৪০ জন ও নারী চার জন।
মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৪৪৬ জন।
ফেনী-১ কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে কম বন্দি
চট্টগ্রাম বিভাগের অন্য কারাগারগুলোর তুলনায় ফেনী-১ কারাগারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।
৫৬৪ জনের ধারণক্ষমতার ফেনী-১ কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ৫২৬ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৩৯৫ জন ও নারী হাজতি ১৮ জন। পুরুষ কয়েদি ৫৯ জন এবং নারী কয়েদি চার জন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ১২ জন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ২৮ জন ও নারী তিন জন।
মাদক মামলায় বন্দি আছেন ১৩ জন।
বিদেশি বন্দি রয়েছেন তিন জন।
ফেনী-২ কারাগারে ৭২ জনের জায়গায় ৪৬৪ বন্দি
ফেনী-২ কারাগারে ধারণক্ষমতা মাত্র ৭২ জন। অথচ বর্তমানে বন্দি আছেন ৪৬৪ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ১৭০ জন।
পুরুষ কয়েদি আছেন ২৮১ জন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ১২ জন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ১৩ জন পুরুষ।
মাত্র ৭২ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে ৪৬৪ জন বন্দি থাকায় এ কারাগারটি অতিরিক্ত বন্দির চাপের অন্যতম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লক্ষ্মীপুর কারাগারে ৬৬৩ বন্দি
২৯৫ জনের ধারণক্ষমতার লক্ষ্মীপুর কারাগারে বন্দি আছেন ৬৬৩ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৪৪৯ জন ও নারী হাজতি নয় জন। পুরুষ কয়েদি ১৫৩ জন এবং নারী কয়েদি চার জন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন দুই জন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ৪৬ জন পুরুষ।
মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৬৩ জন।
রাঙামাটি কারাগারে দ্বিগুণের কাছাকাছি বন্দি
১৪৮ জনের ধারণক্ষমতার রাঙামাটি কারাগারে বন্দি আছেন ২৬৯ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ২১১ জন ও নারী পাঁচ জন। পুরুষ কয়েদি ৪৬ জন এবং নারী কয়েদি দুই জন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পাঁচ জন পুরুষ।
মাদক মামলায় বন্দি আছেন ১০৮ জন।
বিদেশি বন্দি রয়েছেন দুই জন।
বান্দরবান কারাগারে ১১৪ জনের জায়গায় ৪৪১ বন্দি
১১৪ জনের ধারণক্ষমতার বান্দরবান কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ৪৪১ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৩৪৬ জন ও নারী আট জন। পুরুষ কয়েদি ৬২ জন এবং নারী কয়েদি তিন জন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন পুরুষ ১৮ জন এবং নারী একজন।
মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৮৪ জন।
বিদেশি বন্দি রয়েছেন ৪৫ জন।
খাগড়াছড়ি কারাগারে ধারণক্ষমতার তিনগুণের বেশি বন্দি
৮১ জনের ধারণক্ষমতার খাগড়াছড়ি কারাগারে বন্দি আছেন ২৬৮ জন।
এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ২১৮ জন ও নারী দুই জন। পুরুষ কয়েদি ৪৪ জন এবং নারী কয়েদি একজন।
মাদক মামলায় বন্দি আছেন ২১ জন।
৩৬ বর্গফুটের জায়গায় দুই-তিনজন
কারাগার সূত্র জানিয়েছে, জেল কোড অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দিকে ৩৬ বর্গফুটের জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার কথা। কিন্তু চট্টগ্রাম বিভাগের কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দির চাপের কারণে সেই মান বজায় রাখা যাচ্ছে না।
কারাগার সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে একজনের জন্য নির্ধারিত জায়গায় দুই থেকে তিনজন বন্দিকে রাখতে হচ্ছে।
ফলে বন্দিদের স্বাভাবিক চলাফেরা, বিশ্রাম, ঘুম এবং নির্ধারিত আবাসন ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি ও মামলার বন্দিদের আলাদা রাখার বিধানও বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
‘কারাগার শুধু শাস্তির স্থান নয়’
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজন চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, ‘কারাগারের মূল স্লোগান হচ্ছে—“রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ”। তাই কারাগার শুধু শাস্তি দেওয়ার স্থান নয়, এটি একটি সংশোধনাগারও। বন্দিদের মানবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কারাবিধি অনুযায়ী একজন বন্দি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, তা তাকে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি অপরাধী—এমনটি মনে করার সুযোগ নেই। অনেকেই মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এমন মামলায় আটক ব্যক্তিদের আদালত থেকে খালাস পাওয়ার ঘটনাও আমরা দেখেছি। তাই বিচারাধীন বন্দিদেরও মানবিক মর্যাদা ও কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
আখতার কবীর চৌধুরী আরও বলেন, ‘আধুনিক সমাজে কারাগারগুলো সংশোধনাগার হওয়ার পরিবর্তে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। শুনছি, অনেক মামলার আসামির জামিননামা কারাগারে পৌঁছানোর পরও তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। নতুন মামলা দেওয়ার কথা বলে কিংবা থানা-পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দেওয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। বিষয়টি অমানবিক, অগ্রহণযোগ্য।’
যা বলছে কারা কর্তৃপক্ষ
অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. ছগির মিয়া।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা ২০ হাজার। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি কারাগারে বন্দির সংখ্যা কিছুটা বেশি।’
তিনি জানান, চট্টগ্রামে নতুন একটি কারাগারের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
তবে বন্দিদের যত্নে কোনো প্রকার সমস্যা হচ্ছে না দাবি করে ডিআইজি প্রিজন বলেন, ‘বন্দিদের যত্নে কোনও প্রকার সমস্যা হচ্ছে না। তবে বেশি বন্দির কারণে কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই।’
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে নতুন কারাগার এবং পৃথক বন্দি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রস্তাবনায় চট্টগ্রামে নতুন কারাগার নির্মাণ এবং বিভিন্ন শ্রেণির বন্দিদের পৃথক রাখার জন্য বিশেষায়িত অবকাঠামোর কথাও উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত ১২ হাজারেরও বেশি বন্দি থাকায় কারা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে অতিরিক্ত বন্দির আবাসন নিশ্চিত করা, অন্যদিকে কারাবিধি অনুযায়ী পৃথক শ্রেণির বন্দিদের আলাদা রাখা—দুই দিক সামলাতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস,সংযোগ……..
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম