সকাল ১১:৩০:০০
| রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ২৮ দিনে, বছরের পর বছর ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা মায়ের এক থাপ্পড়ে অভিমান করে পাবনা থেকে ঢাকায় দুই শিশু, সাভারে উদ্ধার হতবাক পুলিশ প্রসাশন
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

পাহাড়ে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা, সংকটে বিকাশ; প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাহাড়ে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা, সংকটে বিকাশ; প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়-পর্বত, মেঘের অপরূপ দৃশ্য, স্বচ্ছ জলরাশি, ঝরনা আর বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম। দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-দশমাংশজুড়ে বিস্তৃত রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় রয়েছে পর্যটনশিল্প বিকাশের বিপুল সম্ভাবনা। কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, সাজেকের মেঘে ঢাকা পাহাড়, সুবলং ঝরনা, নীলাচল, নীলগিরি কিংবা বগালেক—প্রকৃতির এসব অনন্য সৌন্দর্য প্রতিবছরই আকর্ষণ করে অসংখ্য ভ্রমণপিপাসুকে।

তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনশিল্প প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারছে না। নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক অস্থিরতা, অপর্যাপ্ত যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সুপেয় পানির সংকট এবং পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ এই শিল্পের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অপরিকল্পিত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত বিনোদনব্যবস্থার অভাব এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যটন থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সুবিধা সমানভাবে নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়টি।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনশিল্পকে সারা বছর সচল রাখা সম্ভব। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা, সহজ শর্তে ঋণ এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় অঞ্চল। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ ও ঝুলন্ত সেতু, খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা ও সাজেক ভ্যালি এবং বান্দরবানের নীলাচল, নীলগিরি ও বগালেক পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। পাহাড়, হ্রদ, বনভূমি, ঝরনা এবং মেঘের অপূর্ব মিতালী এ অঞ্চলকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ হিসেবে পরিচিত কাপ্তাই হ্রদ রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি, পাহাড়ঘেরা পরিবেশ, নৌভ্রমণ এবং দ্বীপকেন্দ্রিক পর্যটন দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করে। রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুও দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি দর্শনীয় স্থান।

অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালি মেঘ, পাহাড় ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্যের জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। আলুটিলা গুহা এবং আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বান্দরবানের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, নীলাচল, নীলগিরি ও বগালেক প্রকৃতিপ্রেমী এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলোর বেশিরভাগই বান্দরবানে অবস্থিত। ফলে তরুণ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের মধ্যে ট্রেকিং, হাইকিং এবং মাউন্টেন বাইকিংয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। পাহাড়ি পথ ধরে ভ্রমণ, দুর্গম এলাকায় যাত্রা এবং প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ এ অঞ্চলে অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও পর্যটনের অন্যতম সম্পদ। এ অঞ্চলে বসবাসরত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বমসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা, উৎসব, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পর্যটকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে একদিকে যেমন পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

ইতোমধ্যে পর্যটকদের কেন্দ্র করে পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, ট্যুরিস্ট বোট, হাউসবোট, টেক্সটাইল ও হস্তশিল্পের দোকানসহ নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় অনেক মানুষ। পর্যটনশিল্পের প্রসার স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যটনের বড় চ্যালেঞ্জ

পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনশিল্পের বিকাশে অন্যতম বড় বাধা নিরাপত্তা পরিস্থিতি। আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সামগ্রিক অস্থিতিশীলতার কারণে পর্যটন খাত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নির্দিষ্ট এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এসব সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল বা পরিবর্তন করতে হয়। এর প্রভাব পড়ে হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন, নৌযান, রেস্তোরাঁ এবং পর্যটননির্ভর অন্যান্য ব্যবসায়।

বিশেষ করে ছুটির মৌসুম কিংবা পর্যটনের ব্যস্ত সময়ে কোনো এলাকায় ভ্রমণ সীমিত হলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে অনেকেই বিকল্প গন্তব্য বেছে নেন। এতে পর্যটন ব্যবসার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয় এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখাও জরুরি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা গেলে এ অঞ্চলে ভ্রমণে আস্থা বাড়তে পারে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত ঘাটতিতে ব্যাহত পর্যটন

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াত থাকলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক স্থানে এখনো উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। আঁকাবাঁকা, ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পর্যটকদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

অনেক পর্যটনকেন্দ্রে সরাসরি উন্নত পরিবহনব্যবস্থা না থাকায় একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয় পর্যটকদের। এতে ভ্রমণ ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা দেখা দেয়।

বর্ষা মৌসুমে এ সংকট আরও তীব্র হয়। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে এবং অনেক সময় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে পর্যটকদের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। বিশেষ করে পাহাড়ি ঝরনা ও দুর্গম প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগ বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক সংস্কার, নিরাপদ যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করা গেলে পর্যটকদের ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। এতে নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্রের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হতে পারে।

অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পরিবেশের ওপর চাপ

পর্যটনশিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ি পরিবেশের ওপর চাপও বাড়ছে। অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, নির্বিচারে পাহাড় কাটা, বনভূমি ধ্বংস এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও সব জায়গায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে পর্যটনকেন্দ্র, সড়কের পাশ, পাহাড়ি ঝরনা এবং জলাশয়ের আশপাশে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ এবং বনভূমি কমে যাওয়ার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাতের সময় পাহাড়ধসের ঝুঁকি পর্যটনকেন্দ্র ও যোগাযোগব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পর্যটন খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলের পর্যটন আকর্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই পরিবেশের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ প্রয়োজন।

মৌসুমি পানির সংকট ও কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা

পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনে মৌসুমি পানির পরিবর্তনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু মাসের পর মাস পানিতে ডুবে থাকে। এতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় এই স্থানে স্বাভাবিকভাবে ভ্রমণ ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে, শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ের অনেক এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে পানি সংগ্রহ করা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি পর্যটকদের জন্যও এটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট ও অন্যান্য আবাসন প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকলে পর্যটকদের সেবা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

পানির এই সংকট শুধু পর্যটনশিল্পের ওপর প্রভাব ফেলে না, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকেও দুর্বিষহ করে তোলে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পানির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়াও জরুরি।

পর্যটন বাড়লেও সুফল পৌঁছাচ্ছে না সবার কাছে

পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটনশিল্পের প্রসার ঘটলেও এর অর্থনৈতিক সুফল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়লেও অনেক এলাকায় স্থানীয় জনগণের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি।

স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প এবং খাবারকে পর্যটনের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে স্থানীয় মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পর্যটনের আয় এলাকার অর্থনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটন বা কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজমকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যবস্থায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী পর্যটন কার্যক্রমের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারে।

বিনোদনকেন্দ্রের অভাবে পর্যটক হারাচ্ছে রাঙামাটি?

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ রাঙামাটিতে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো অনেক স্থান থাকলেও শহরকেন্দ্রিক নতুন বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠায় পর্যটকদের একটি অংশ প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

তাদের মতে, সাজেক ভ্যালিতে সারা বছর পর্যটকদের উপস্থিতি থাকলেও রাঙামাটির পর্যটন খাতকে সারা বছর সমানভাবে সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ঈদ, সরকারি ছুটি এবং বিশেষ অবকাশের সময়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও বছরের অন্যান্য সময়ে পর্যটকের সংখ্যা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

পর্যটন উদ্যোক্তাদের মতে, রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত বিনোদনব্যবস্থা, উন্নত পর্যটনসেবা এবং নতুন নতুন আকর্ষণ তৈরি করা গেলে পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য জেলা পরিষদ, পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে নতুন উদ্যোক্তারাও এ খাতে এগিয়ে আসতে পারবেন।

পর্যটন উদ্যোক্তা নূর তালুকদার মুন্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ছুটির দিন ও শীতের মৌসুমে পাহাড়ে ভ্রমণকারী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তি থাকে। আশার বিষয় হলো, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ট্রেকিং ও অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। তবে সেভাবে বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।”

তার বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণদের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও সেই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যাপ্ত বিনোদন ও পর্যটনসুবিধা গড়ে ওঠেনি। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ঝরনা, রিসোর্ট ও হাউসবোট ঘিরে নতুন সম্ভাবনা

রাঙামাটির পর্যটনশিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে রিসোর্ট ও হাউসবোটকেন্দ্রিক পর্যটন। আগে পর্যটকদের বড় একটি অংশ হোটেলে অবস্থান করলেও বর্তমানে অনেকে প্রকৃতির কাছাকাছি রিসোর্ট কিংবা কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান হাউসবোটে থাকার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

কাপ্তাই হ্রদের বুকে অবস্থিত মায়াবী দ্বীপ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক হেফাজত সবুজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় অনেক ঝরনা আছে; শুধু সড়ক যোগাযোগ উন্নত করা গেলে বর্ষা মৌসুমে রাঙামাটির প্রাকৃতিক ঝরনাগুলোতে পর্যটকদের সমাগম বাড়ত। এখন পর্যটকরা হোটেলে থাকার চেয়ে রিসোর্ট ও হাউসবোটগুলোতে বেশি থাকতে চান। তাদের জন্য আমরাও চেষ্টা করছি বিনোদনের।”

তিনি বলেন, রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক ঝরনাগুলো পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হতে পারে। তবে এসব স্থানে যাতায়াতের জন্য উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ প্রয়োজন। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা গেলে বর্ষা মৌসুমেও পর্যটকেরা ঝরনাকেন্দ্রিক ভ্রমণে আগ্রহী হবেন।

হোটেলের পাশাপাশি রিসোর্ট ও হাউসবোটে থাকার প্রবণতা বাড়ায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী আবাসন, বিনোদন এবং ভ্রমণসেবা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা।

পর্যটন ঘিরে কর্মসংস্থান, প্রয়োজন শৃঙ্খলা

রাঙামাটিতে পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। টেক্সটাইল ও পোশাকের দোকান, ট্যুরিস্ট বোট, ভাসমান দোকান, রেস্তোরাঁ এবং আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। ঈদ কিংবা বিভিন্ন ছুটির দিনে পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে রাঙামাটি শহর ও আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝরনা, সাজেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে আসেন দেশের নানা প্রান্তের মানুষ। পর্যটকদের এই আগমন স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি সঞ্চার করে।

তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকদের ভোগান্তি ও হয়রানি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সেবার মানে অসংগতি কিংবা ব্যবস্থাপনার ঘাটতির মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা গেলে রাঙামাটিতে সারা বছর পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে পারে।

দরকার কমিউনিটিভিত্তিক ট্যুরিজম

পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনশিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, খাবার ও জীবনধারাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে।

রাঙামাটি রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুবেধ চাকমা বলেন, “স্থানীয় সংস্কৃতি ও হস্তশিল্পকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে কমিউনিটিভিত্তিক ট্যুরিজম গড়ে তোলা হলে রাঙামাটিতে সারা বছর পর্যটক আসবে।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে ঋণ দিলে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হতো। রাঙামাটিতে যেসব রিসোর্ট বা হাউসবোট আছে, সেগুলো ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি। এভাবে বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না, যদি না সহযোগিতা পাওয়া যায়। এজন্য সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন আছে।”

সুবেধ চাকমার মতে, বর্তমানে রাঙামাটিতে যেসব রিসোর্ট ও হাউসবোট পরিচালিত হচ্ছে, তার অনেকগুলোই ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে। উদ্যোক্তাদের পক্ষে এককভাবে বড় পরিসরে পর্যটন অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়ন করা কঠিন। এ জন্য সরকারি সহযোগিতা, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ এবং নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া গেলে নতুন রিসোর্ট, হাউসবোট, পর্যটনসেবা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গড়ে উঠতে পারে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি হবে।

পর্যটন উন্নয়নে কাজ করছে জেলা পরিষদ

রাঙামাটির পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার।

তিনি বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পর্যটনশিল্পকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়, সে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। জেলা পরিষদ, রিসোর্ট মালিক ও ব্যাংকগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই আমরা, যাতে নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে পারি।”

তার বক্তব্য অনুযায়ী, পর্যটন খাতের উন্নয়নে জেলা পরিষদ, রিসোর্ট মালিক এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা হলে নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া সহজ হবে। এতে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

টেকসই পর্যটনে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পকে টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যাপ্ত বিনোদনসুবিধা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে।

পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবার মান নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে দুর্গম এলাকার ঝরনা, পাহাড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে আরও সহজলভ্য হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও হস্তশিল্পকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় বাড়বে এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের জন্য এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশ রক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটনশিল্প শুধু পর্যটকদের আকর্ষণই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখতে পারবে।

 

জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য,সাহস, সংযোগ……

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য