সকাল ১১:৩০:০০
| রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ২৮ দিনে, বছরের পর বছর ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা মায়ের এক থাপ্পড়ে অভিমান করে পাবনা থেকে ঢাকায় দুই শিশু, সাভারে উদ্ধার হতবাক পুলিশ প্রসাশন
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

পর্যটনকেন্দ্রে নারী পর্যটক বাড়লেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পর্যটনকেন্দ্রে নারী পর্যটক বাড়লেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কক্সবাজার থেকে সাজেক, সেন্টমার্টিন থেকে সিলেট—নিরাপত্তা নিশ্চিতে দরকার কার্যকর ব্যবস্থা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ছুটে যান হাজারো নারী। সমুদ্রের বিশালতা দেখতে কক্সবাজার, দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেন্টমার্টিন, পাহাড় আর মেঘের মিতালী দেখতে সাজেক, সূর্যাস্ত উপভোগ করতে কুয়াকাটা কিংবা পাহাড়-ঝরনার টানে সিলেট—দেশের প্রায় সব জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রেই বাড়ছে নারী পর্যটকের উপস্থিতি।

ভ্রমণ এখন অনেক নারীর কাছে শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি হয়ে উঠেছে মানসিক প্রশান্তি, প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া, নতুন জায়গা দেখা এবং নিজের মতো করে সময় কাটানোর একটি মাধ্যম। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউ একাই ছুটছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

তবে ভ্রমণের এই আনন্দের পাশাপাশি সামনে আসছে নিরাপত্তার বিষয়টিও। বিশেষ করে নারী পর্যটকদের ক্ষেত্রে হয়রানি, নির্জন এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা, রাতে চলাচলের ঝুঁকি এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটন পুলিশের উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা কিংবা বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এসব ব্যবস্থা নারী পর্যটকদের জন্য বাস্তবে কতটা কার্যকর?

জনপরিসরে হয়রানি বড় উদ্বেগ

বাংলাদেশে নারী ও মেয়েদের জন্য জনপরিসরে হয়রানি একটি বিস্তৃত সমস্যা। এর প্রভাব শুধু শহরের রাস্তা, গণপরিবহন কিংবা কর্মক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; পর্যটনকেন্দ্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের বাংলাদেশবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের একটি বিশ্লেষণে ৮৪ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে যৌন হয়রানির মুখোমুখি হওয়ার কথা উঠে আসে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই পরিসংখ্যান সরাসরি পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণকারী নারী পর্যটকদের ওপর পরিচালিত কোনো জরিপের ফল নয়। অর্থাৎ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নারী পর্যটকদের নিরাপত্তার পরিস্থিতি বোঝাতে এটি জনপরিসরে নারীদের হয়রানির একটি বৃহত্তর চিত্র তুলে ধরে, সরাসরি পর্যটন খাতের পরিসংখ্যান নয়।

কক্সবাজারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন

পর্যটনকেন্দ্রে নারীদের নিরাপত্তার বাস্তব চিত্রের একটি উদাহরণ পাওয়া যায় দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও লালদীঘি এলাকায় কয়েকজন নারীকে হয়রানি ও মারধরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

দেশের সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে অন্তত সাতটি ভিডিওর কথা উঠে আসে। এসব ভিডিওকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল—একজন নারীকে রাতে সমুদ্রসৈকত থেকে চলে যেতে বাধ্য করা এবং অন্য কয়েকজন নারীকে মারধর করা।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে এবং এ ঘটনায় মামলা হয়।

এই ঘটনাগুলো শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধের অভিযোগ হিসেবে নয়, পর্যটনকেন্দ্রে নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে—সে প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।

প্রশ্ন ওঠে—জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশ কিংবা নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি থাকলেই কি নারী পর্যটক নিরাপদ? নাকি নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা প্রয়োজন?

নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে, তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে

পর্যটকদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশে ট্যুরিস্ট পুলিশের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী অভিযান, নিখোঁজ পর্যটক উদ্ধারে সহায়তা এবং স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করা তাদের দায়িত্বের অংশ।

অর্থাৎ পর্যটন এলাকায় কোনো পর্যটক বিপদে পড়লে বা কোনো ধরনের অপরাধের শিকার হলে সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষায়িত পুলিশি কাঠামো রয়েছে।

কক্সবাজারেও রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যালয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অফিস লাবণী পয়েন্টে অবস্থিত। সেখানে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং সরকারি তথ্য ও সেবা ৩৩৩-এর তথ্যও দেওয়া হয়েছে।

তবে নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে না।

একটি পর্যটনকেন্দ্র কতটা নিরাপদ, তা নির্ভর করে সেখানে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা আছে কি না, সিসিটিভি কার্যকর কি না, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে কি না, নারী পুলিশ বা প্রশিক্ষিত নারী নিরাপত্তাকর্মী আছেন কি না, জরুরি অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ করা হয় কি না এবং কোনো নির্জন এলাকায় বিপদে পড়লে সেখানে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব কি না—এসব বিষয়ের ওপরও।

রাতের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

নারী পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাতের সময়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দিনের ব্যস্ত সময়ে পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকলেও সন্ধ্যার পর অনেক স্থান তুলনামূলকভাবে ফাঁকা হয়ে যায়। ফলে নির্জন এলাকা, সৈকতের নির্দিষ্ট অংশ, পাহাড়ি পথ কিংবা কম আলোযুক্ত স্থানে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যুক্তরাজ্যের বর্তমান বাংলাদেশ ভ্রমণ-নির্দেশনায় নারী ভ্রমণকারীদের মৌখিক ও শারীরিক হয়রানির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্জন এলাকা এড়িয়ে চলা এবং রাতে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ-নির্দেশনা দেখায়, বাংলাদেশে নারী ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার বিষয়টি শুধু স্থানীয় পর্যায়েই আলোচিত নয়; বিদেশি পর্যটকদের জন্যও এটি ভ্রমণ-নিরাপত্তার একটি বিবেচ্য বিষয়।

কক্সবাজারে শুধু হয়রানি নয়, সমুদ্রও ঝুঁকির কারণ

কক্সবাজারের মতো সমুদ্রসৈকতে নারী পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু হয়রানি বা অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে রয়েছে সমুদ্রের স্বাভাবিক ঝুঁকিও।

২০২৪ সালের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

একই সময়ে প্রায় ৭০০ পর্যটককে ঝুঁকিপূর্ণ পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

তখন সমুদ্রসৈকতে ২৭ জন লাইফগার্ড ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছিলেন। তবে সংশ্লিষ্টরা পর্যটকের তুলনায় এই জনবলকে অপর্যাপ্ত বলে জানিয়েছিলেন।

এর অর্থ হলো, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর দিলেই হবে না। সমুদ্রসৈকতে পানির গভীরতা, জোয়ার-ভাটা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ, লাইফগার্ডের সংখ্যা এবং দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পাহাড়, যানবাহন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও আছে

বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি বড় অংশ পাহাড়, বন, নদী কিংবা সমুদ্রঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত।

সাজেক কিংবা পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যেমন পাহাড়ি রাস্তা ও দুর্গম এলাকার ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি সিলেটের পাহাড়-ঝরনা এলাকায় রয়েছে পিচ্ছিল পাথর, পানির স্রোত কিংবা দুর্গম পথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

অন্যদিকে কক্সবাজার ও কুয়াকাটার মতো সমুদ্রঘেঁষা এলাকায় রয়েছে পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে যানবাহন দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা।

তাই নারী পর্যটকের নিরাপত্তা বলতে শুধু অপরাধ থেকে সুরক্ষা বোঝালে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। সমুদ্র, পাহাড়, যানবাহন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব ধরনের ঝুঁকিকেই পর্যটন নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হয়।

একা ভ্রমণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন

নারীদের একা ভ্রমণের প্রবণতা বাড়লেও দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সব জায়গায় একা নারী পর্যটকদের জন্য সমান নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা নেই।

ফলে একা ভ্রমণকারী নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দিষ্ট জাতীয় পরিসংখ্যানের ঘাটতি রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ-নির্দেশনায় বাংলাদেশে একা নারীদের রাতে গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ পরামর্শে বাস, রিকশা, ট্যাক্সি ও ট্রেনে বিশেষ করে রাতে একা চলাচলের ক্ষেত্রে অপরাধের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে নিরাপদ নারী পর্যটন নিশ্চিত করার বিষয়টি শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে সেখানেই শেষ হওয়ার নয়। একজন নারী পর্যটক বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর যে পরিবহন ব্যবহার করছেন, হোটেলে যাচ্ছেন, পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছেন এবং রাতে আবার ফিরে আসছেন—পুরো যাত্রাপথের নিরাপত্তাকেই বিবেচনায় নিতে হবে।

নিরাপদ যাতায়াতও পর্যটন নিরাপত্তার অংশ

একজন নারী পর্যটক যদি কোনো পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপদে পৌঁছাতেও পারেন, কিন্তু সেখানে যাতায়াতের জন্য নিরাপদ পরিবহন না থাকে, তাহলে তার পুরো ভ্রমণ নিরাপদ বলা যায় না।

বিশেষ করে রাতে বাস, রিকশা, ট্যাক্সি কিংবা অন্যান্য পরিবহনে একা চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ।

তাই পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা, চালকদের আচরণ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, আলোকসজ্জা এবং জরুরি প্রয়োজনে পরিবহন শনাক্ত করার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কী চান নারী পর্যটকরা?

নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • প্রকাশ্য স্থানে পর্যাপ্ত ও কার্যকর আলোকসজ্জা;
  • পর্যটনকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা;
  • দৃশ্যমান পুলিশ ও নিরাপত্তা টহল;
  • পর্যাপ্ত নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি;
  • প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী;
  • দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ;
  • জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সক্ষমতা;
  • নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন;
  • হোটেল ও রেস্তোরাঁয় যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা।

একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রে কোনো নারী হয়রানির শিকার হলে তাকে দোষারোপ না করে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়াও জরুরি।

কারণ কোনো নারী পর্যটক নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতার পর যদি অভিযোগ করতে ভয় পান বা অভিযোগ করার পর উল্টো সামাজিক চাপের মুখে পড়েন, তাহলে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তার সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

পর্যটন পুলিশের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ

পর্যটনকেন্দ্রে সাধারণ পুলিশি ব্যবস্থার পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পর্যটন পুলিশের কাজ শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়; অপরাধ প্রতিরোধ, পর্যটকদের সহায়তা এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করাও তাদের দায়িত্বের অংশ।

পর্যটনকেন্দ্রে নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হোটেল-রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

বিশেষ করে কোনো পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে সেই অনুপাতে নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা, সিসিটিভি, উদ্ধারকর্মী ও জরুরি সেবার সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন।

নিরাপদ পর্যটনই টেকসই পর্যটনের শর্ত

বাংলাদেশে পর্যটনের সম্ভাবনা বাড়লেও নিরাপত্তার প্রশ্নটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এবং পর্যটন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণাটি পর্যটন পুলিশের নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা-ধারণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবসে তাই আলোচনার বিষয়টি শুধু কত মানুষ পর্যটনকেন্দ্রে যাচ্ছে—সেটি হওয়া উচিত নয়।

প্রশ্ন হওয়া দরকার—নারী, শিশু, একা ভ্রমণকারী এবং সব ধরনের পর্যটকের জন্য সেই পর্যটনকেন্দ্র কতটা নিরাপদ?

কারণ একটি পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেই পর্যটন খাতের সাফল্য নিশ্চিত হয় না। পর্যটক সেখানে নিরাপদ বোধ করছেন কি না, বিপদে পড়লে দ্রুত সহায়তা পাচ্ছেন কি না এবং ভ্রমণ শেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন কি না—এসব বিষয়ও পর্যটনের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটন শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং নারীদের স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগও আরও বিস্তৃত হতে পারে।

জরুরি প্রয়োজনে কী করবেন?

কোনো পর্যটনকেন্দ্রে বিপদে পড়লে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং সরকারি তথ্য ও সেবা ৩৩৩-এ যোগাযোগ করা যায়।

এ ছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের স্থানীয় যোগাযোগ নম্বরও সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে দেওয়া রয়েছে।

নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটকদের নিজেদের সতর্কতার পাশাপাশি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কারণ নিরাপদ পর্যটন শুধু পর্যটকের ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয় নয়; এটি একটি পর্যটনকেন্দ্রের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার মানের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

 

জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য, সাহস, সংযোগ.………

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য