বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই
জেটিভি নিউজ বাংলা, ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
দেশের অনলাইন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, তৌফিক ইমরোজ খালিদী কিছু দিন আগে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। সেখানে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে একটি হোটেল কক্ষে অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান।
পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটে। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বিডিনিউজের সিনিয়র রিপোর্টার সুমন মাহমুদের বরাতে বলা হয়েছে, স্ট্রোকের পর তৌফিক ইমরোজ খালিদীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়েছিল এবং এরপর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। একই সংবাদমাধ্যমকে বিডিনিউজের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান জাহেদুল আই খান জানান, ছেলের সঙ্গে দেখা করতে তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন এবং কয়েক দিনের মধ্যে তার দেশে ফেরার কথা ছিল।
দীর্ঘদিন বিডিনিউজের নেতৃত্বে
তৌফিক ইমরোজ খালিদী বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে তিনি নিজ মালিকানাধীন বাংলাদেশি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
২০০৬ সালে বিডিনিউজের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পর তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ব্যবস্থাপনায় নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে। বিডিনিউজের নিজস্ব প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত বার্তা সংস্থার কাঠামো থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটভিত্তিক সার্বক্ষণিক সংবাদমাধ্যম হিসেবে নতুনভাবে পথচলা শুরু করে।
তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। সম্প্রচার, প্রিন্ট ও ডিজিটাল—তিন ধরনের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ছিল তার। ব্যবসা, রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।
বিবিসিতে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তৌফিক ইমরোজ খালিদী বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্রডশিট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিতে কাজ করেন। সেখানে তিনি উপস্থাপক, প্রযোজক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে ঢাকা ও লন্ডনসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন তিনি।
গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিলেন। অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশের সময় তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অনলাইন সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
বাংলাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের বিকাশের সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যাত্রার সঙ্গে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর ভূমিকা সরাসরি যুক্ত ছিল।
বিডিনিউজের একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির শুরুর ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের প্রথমার্ধে বিডিনিউজ অন্যান্য বার্তা সংস্থার মতো সংবাদমাধ্যমগুলোকে খবর সরবরাহ করত। পরে ২০০৬ সালে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পর তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কাঠামো ও কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আসে।
এরপর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ২৪ ঘণ্টার অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে কাজ শুরু করে। বাংলাদেশের সংবাদকে দ্রুত ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির এই পরিবর্তন অনলাইন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।
জাতীয় আইসিটি পুরস্কার অর্জন
সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল গণমাধ্যমে অবদানের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উন্নয়নে বিশেষ স্বীকৃতি ও সম্মাননা হিসেবে তিনি জাতীয় আইসিটি পুরস্কার অর্জন করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও বাংলাদেশে সংবাদসেবাকে অনলাইনভিত্তিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকতা জীবনের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতা জীবন ছিল দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। বাংলাদেশের ব্রডশিট পত্রিকায় কাজ করার পাশাপাশি তিনি বিবিসিতে উপস্থাপক, প্রযোজক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নেতৃত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদকীয় কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তার সময়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে।
মৃত্যুর খবরে গণমাধ্যম অঙ্গনে শোক
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।
শুক্রবার রাতেই তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এ ছাড়া এলজিআরডি মন্ত্রী মঈন খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি শোক জানিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেষ হয়ে গেল একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের
বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় প্রিন্ট, সম্প্রচার ও ডিজিটাল—তিন মাধ্যমেই কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। বিশেষ করে দেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিকাশের সময় তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যাত্রা তাকে গণমাধ্যম অঙ্গনে আলাদা পরিচিতি দেয়।
২০০৬ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ এই সময়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তন, অনলাইন সাংবাদিকতার বিস্তার এবং ডিজিটাল সংবাদ পরিবেশনের সঙ্গে তার কর্মজীবন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে ছিল।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনে একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে জেটিভি নিউজ বাংলা পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য,সাহস, সংযোগ..….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম