দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় গাফিলতি নয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী টুকু
জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক:
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, যানজট নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং বিসর্জন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এর মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হচ্ছে।
এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে দেশের সব নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, এ দেশে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু হিসেবে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই; আমরা সবাই বাংলাদেশি। দেশপ্রেমকে ধারণ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
জেলা ও মহানগরে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
পূজা শুরু হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও মহড়া জোরদার করার নির্দেশনার কথা জানান তিনি। বিশেষ করে ভোররাতে নিরাপত্তা ও পাহারা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূজার আগে থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
পূজা কমিটিকে নিজস্ব নিরাপত্তায় দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিজ নিজ মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে।
অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব
পূজামণ্ডপে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষের চলাচল ব্যবস্থাপনায় পৃথক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ, নিরাপত্তায় আনসার
পূজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতে পারে। এ কারণে যানজট নিরসন ও জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয় সভায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার সদস্যদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা থাকবে। পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক জনসমাগম ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন শেষ করার নির্দেশনা
শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ পর্ব বিসর্জনকে কেন্দ্র করেও বিশেষ সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ করে বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনসহ কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন বার্তাও দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ কারণে পূজার আগে থেকেই প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পূজা উদ্যাপন কমিটিকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১-এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
সভায় ঢাকা জেলা ও মহানগর প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, নারী-পুরুষের নিরাপদ চলাচল, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য, সাহস, সংযোগ…..
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম