সকাল ১১:৩০:০০
| মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ২৮ দিনে, বছরের পর বছর ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা মায়ের এক থাপ্পড়ে অভিমান করে পাবনা থেকে ঢাকায় দুই শিশু, সাভারে উদ্ধার হতবাক পুলিশ প্রসাশন
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট: গুজব-অপতথ্য শনাক্ত থেকে ডার্ক ওয়েব নজরদারি, থাকছে এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট: গুজব-অপতথ্য শনাক্ত থেকে ডার্ক ওয়েব নজরদারি, থাকছে এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ

ডেস্ক রিপোর্ট

ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য ও সম্ভাব্য সাইবার হুমকি শনাক্ত করতে নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে কাউন্টার ন্যারেটিভ বা পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে এই ইউনিটের কার্যক্রমে।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ, ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ, ফিশিং, ম্যালওয়্যার, পরিচয় চুরি ও র‍্যানসমওয়্যারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সাইবার অপরাধের পরিবর্তিত ধরন মোকাবিলায় সদর দফতর থেকে দেশের প্রতিটি থানা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে এই বিশেষায়িত কাঠামো। অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী এতে মোট ৪ হাজার ৫৯২টি পদ রয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৬৭টি যানবাহনের চাহিদা এবং প্রায় ৪৪৮ কোটি টাকার ব্যয় পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার অপরাধের দ্রুত পরিবর্তিত বাস্তবতায় বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রয়োজন ছিল। তবে একই সঙ্গে তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, ফ্যাক্ট চেক ও কাউন্টার ন্যারেটিভ তৈরির মতো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ কার্যপদ্ধতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে বৈধ মতপ্রকাশ ও অপরাধমূলক কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

উদ্বোধন নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিটের

পুলিশ সদর দফতরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিটের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ওইদিন তিনি জানান, কয়েক মাসের পরিকল্পনার পর ইউনিটটির সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ইউনিটটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর সদর দফতর থাকবে ঢাকায়। বিভাগীয় পর্যায়ে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপাররা (এসপি) সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

নতুন কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হবে থানা পর্যায়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি থানায় পর্যায়ক্রমে ‘সাইবার ডেস্ক’ চালু করা হবে। প্রতিটি ডেস্কে দুই থেকে তিনজন প্রশিক্ষিত সাইবার তদন্ত কর্মকর্তা এবং দুই থেকে তিনজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দায়িত্ব পালন করবেন।

সাইবার অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে সাড়া দেওয়া, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্তের দায়িত্ব থাকবে এসব ডেস্কের ওপর।

মহানগর, বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও পৃথক বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট থাকবে।

৪ হাজার ৫৯২ পদ, চাওয়া হয়েছে ২ হাজারের বেশি যানবাহন

অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী নতুন ইউনিটে মোট পদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৯২টি। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৬৩টি পদ পুলিশ সদস্যদের জন্য।

এ ছাড়া বেসামরিক কারিগরি কর্মীদের জন্য ১২৫টি এবং অন্যান্য বেসামরিক পদের জন্য ১০৪টি পদ রাখা হয়েছে।

সাংগঠনিক প্রস্তাবে পুলিশের নতুন এই ইউনিটের জন্য ২ হাজার ৬৭টি যানবাহনের চাহিদা দেখানো হয়েছে।

বার্ষিক নিয়মিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৭ কোটি ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯৩৪ টাকা। এককালীন অনিয়মিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯২ টাকা। সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত ব্যয়ের পরিমাণ ৪৪৭ কোটি ৬৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৬ টাকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি

নতুন ইউনিটের আলোচিত দায়িত্বগুলোর একটি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ।

সাংগঠনিক প্রস্তাব অনুযায়ী, ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও এক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য, উসকানিমূলক প্রচারণা এবং সম্ভাব্য সাইবার হুমকি শনাক্ত করা হবে।

‘ফ্যাক্ট চেক ও কাউন্টার ন্যারেটিভ’ কার্যক্রমের আওতায় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ছড়ানো যাচাইবিহীন তথ্য ও অপতথ্য পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক তথ্য তুলে ধরে পাল্টা বক্তব্য প্রচারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি ওপেন সোর্স বা উন্মুক্ত উৎস থেকেও তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হবে।

তবে কোন ধরনের তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন করা হবে, ‘অপতথ্য’ বা ‘উসকানিমূলক’ প্রচারণা নির্ধারণের মানদণ্ড কী হবে এবং কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচারের অনুমোদন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ক্ষেত্রে স্বচ্ছ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ও অপতথ্য মোকাবিলার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাইবার পুলিশিং যেন বৈধ মতপ্রকাশ পর্যবেক্ষণের পরিবর্তে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত সাইবার অপরাধের তদন্তে কেন্দ্রীভূত থাকে। এজন্য স্বচ্ছ এসওপি, যথাযথ অনুমোদন ব্যবস্থা এবং জবাবদিহির কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ।

বদলে যাচ্ছে সাইবার অপরাধের ধরন

তানভীর হাসান জোহার মতে, বাংলাদেশের সাইবার অপরাধ এখন শুধু ফেসবুক আইডি হ্যাক, অনলাইন হয়রানি কিংবা সাধারণ প্রতারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

তার মতে, আর্থিক জালিয়াতি, ফিশিং, ম্যালওয়্যার, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, ডার্ক ওয়েবভিত্তিক অপরাধ, পরিচয় চুরি, র‍্যানসমওয়্যার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ডিপফেক ও প্রতারণার মতো অপরাধের ধরনও সামনে আসছে।

এই বাস্তবতায় নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিটকে সময়োপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

নতুন ইউনিটে মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি ব্যবহার করে প্রতারণা এবং ফিশিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক অপরাধের তদন্তে আলাদা সক্ষমতা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অনলাইন বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সিসংক্রান্ত অপরাধ এবং ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের তদন্তেও পৃথক ইউনিট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর বাইরে সাইবার টহল, ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, হুমকি বিশ্লেষণ, এথিক্যাল হ্যাকিং এবং প্রযুক্তিগত দুর্বলতা শনাক্ত করার কার্যক্রমও থাকবে।

এআই দিয়ে ভিডিও ও মুখ শনাক্ত

সাংগঠনিক পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও বিশ্লেষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এআই প্রযুক্তি ও মুখ শনাক্তকরণ সফটওয়্যার ব্যবহার করে টেলিভিশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের কথা রয়েছে।

অপরাধ শনাক্ত ও তদন্তে এ ধরনের প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি কেনা এবং সেটি নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করতে পারা এক বিষয় নয়।

এ জন্য কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের স্পষ্ট আইনি ভিত্তি, যথাযথ অনুমোদন এবং সংরক্ষিত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষ জনবল

নতুন ইউনিটের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টি সামনে আনছেন বিশেষজ্ঞরা।

তানভীর হাসান জোহার ভাষায়, ৪ হাজার ৫৯২ জনের ইউনিট তৈরি করলেই ৪ হাজার ৫৯২ জন দক্ষ সাইবার তদন্তকারী তৈরি হয় না।

তার মতে, সাইবার অপরাধের তদন্ত প্রচলিত অপরাধের তদন্তের মতো নয়। একজন দক্ষ তদন্তকারীকে আইপি লগ, ডিভাইস আর্টিফ্যাক্ট, ক্লাউডে থাকা প্রমাণ, মোবাইল ফরেনসিক, সিডিআর ও আইপিডিআর, ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনের গতিপথ, ম্যালওয়্যারের আচরণ, ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওসিন্ট এবং মেটাডাটা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, ফরেনসিক ইমেজিং, হ্যাশ ভেরিফিকেশন এবং ‘চেইন অব কাস্টডি’ রক্ষার নিয়মও জানতে হবে।

কারণ ডিজিটাল প্রমাণ খুঁজে পাওয়া এবং সেই প্রমাণ আদালতে গ্রহণযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা—দুটি আলাদা সক্ষমতা।

থানার সাইবার ডেস্কে থাকবে প্রাথমিক সাড়া

দেশব্যাপী সাইবার ডেস্ককে নতুন ইউনিটের সম্ভাবনাময় অংশ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের মতে, প্রতিটি থানাকে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক ল্যাবে পরিণত করার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়।

তানভীর হাসান জোহার মতে, থানার সাইবার ডেস্কের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত অভিযোগ গ্রহণের পর দ্রুত ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণ করা।

ডিজিটাল প্রমাণ হারিয়ে যাওয়ার আগেই ‘প্রিজারভেশন রিকোয়েস্ট’ পাঠানো, আক্রান্ত ডিভাইস সঠিক নিয়মে জব্দ করা এবং জটিল ঘটনা বিশেষায়িত ইউনিটে পাঠানো—এসব কাজকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তার মতে, একটি কার্যকর সাইবার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযোগ গ্রহণ, প্রমাণ সংরক্ষণ, অপরাধী শনাক্তকরণ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, আর্থিক লেনদেন অনুসরণ, গ্রেফতার, ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপন, বিচার কার্যক্রম এবং দণ্ড নিশ্চিতকরণের মতো ধাপ রয়েছে।

এর যেকোনো একটি ধাপ দুর্বল হলে বড় প্রযুক্তি বা বিপুল জনবল দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

দ্রুত প্রমাণ সংরক্ষণের প্রয়োজন

সাইবার তদন্তে প্রচলিত মামলার মতো দীর্ঘ সময় নিয়ে প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ সবসময় থাকে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ আইপি লগ, প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, ক্লাউড আর্টিফ্যাক্ট কিংবা ডিজিটাল লেনদেনের অনেক তথ্য নির্দিষ্ট সময় পর মুছে যেতে পারে।

তানভীর হাসান জোহা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর চিঠি পাঠানোর পদ্ধতিতে আধুনিক সাইবার অপরাধ তদন্ত করা কঠিন।

তার মতে, ২৪ ঘণ্টার প্রমাণ সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস, ব্যাংক, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে নির্ধারিত জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব

ডিকোডস ল্যাব লিমিটেডের সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ আরিফ মঈনুদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বর্তমানে যে হারে সাইবার অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে, সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট গঠনের প্রয়োজন ছিল।

তিনি উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইউনিটটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রশিক্ষিত জনবল, আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, আন্তসংস্থা সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর।

তার মতে, শুধু একবার প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্বে বসালেই হবে না। সাইবার অপরাধীরা নিয়মিত নতুন প্রযুক্তি ও নতুন কৌশল ব্যবহার করায় পুলিশ সদস্যদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

একই সঙ্গে নতুন ধরনের সাইবার জালিয়াতির কৌশল নিয়ে গবেষণা করার সক্ষমতাও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

আরিফ মঈনুদ্দীনের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম থাকার পরও জেলা ও থানা পর্যায়ে দক্ষ তদন্তকারী এবং ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ না থাকলে পুরো ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে আদালতে উপস্থাপনের উপযুক্ত ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ এবং ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে কর্মকর্তাদের জ্ঞান থাকা জরুরি।

তদন্ত, ফরেনসিক ও প্রসিকিউশনের সমন্বয়

তানভীর হাসান জোহা মনে করেন, তদন্ত শেষে শত শত পৃষ্ঠার ফরেনসিক প্রতিবেদন তৈরি করাই চূড়ান্ত সাফল্য নয়।

তার মতে, প্রসিকিউটরকে বুঝতে হবে কোন ডিজিটাল আর্টিফ্যাক্ট কোন অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত করছে। একইভাবে ফরেনসিক পরীক্ষকেরও আদালতে নিজের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা এবং সমর্থন করার সক্ষমতা থাকতে হবে।

এ কারণে বড় সাইবার অপরাধের মামলায় তদন্তকারী, ফরেনসিক পরীক্ষক ও প্রসিকিউটরের মধ্যে শুরু থেকেই সমন্বিত কৌশল থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা

নতুন ইউনিটে সিস্টেম অ্যানালিস্ট, আর্থিক তথ্য বিশ্লেষক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, ম্যালওয়্যার বিশ্লেষক, ডার্ক ওয়েব বিশ্লেষক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এসব বিশেষজ্ঞকে পৃথক বেতন কাঠামোয় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

নতুন নিয়োগের আগে বিদ্যমান পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে যত বেশি সম্ভব পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তানভীর হাসান জোহার মতে, বিশেষজ্ঞ পদের নাম সাংগঠনিক কাঠামোয় থাকাই যথেষ্ট নয়। দক্ষ ব্যক্তিদের ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক পারিশ্রমিক, দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার কাঠামো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ল্যাব ব্যবহারের সুযোগ প্রয়োজন।

অপব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন

সাইবার পুলিশের সক্ষমতা ও ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনি সুরক্ষা এবং জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরিফ মঈনুদ্দীনের মতে, আইনের ধারা অস্পষ্ট থাকলে কিংবা আইন প্রয়োগের ক্ষমতা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, প্রমাণের মানদণ্ড, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও জবাবদিহির মধ্যে না থাকলে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তার আশঙ্কা, থানা পর্যায়ে ডিজিটাল আইনকে ব্যক্তিগত বিরোধ বা ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে নিরপরাধ ব্যক্তিও হয়রানির শিকার হতে পারেন।

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, ফ্যাক্ট চেক ও কাউন্টার ন্যারেটিভ তৈরির ক্ষমতা কোন আইনি মানদণ্ডে প্রয়োগ হবে—এ বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপতথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে বৈধ মতপ্রকাশ যেন অযথা নজরদারির আওতায় না আসে, সে জন্য অনুমোদন, কার্যপদ্ধতি ও জবাবদিহির কাঠামো স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনও হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং সেখানে সাইবার অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে।

থাকবে ২৪ ঘণ্টার সাইবার সহায়তাকেন্দ্র

সরকারের পরিকল্পনায় ২৪ ঘণ্টার একটি সাইবার সহায়তাকেন্দ্র চালুর কথাও বলা হয়েছে।

শর্ট কোড, কল সেন্টার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ই-মেইলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেবা ও আইনি পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রটির হটলাইন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ভুক্তভোগীদের জন্য এই কেন্দ্র কার্যকর করা গেলে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ করা এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের সুযোগ বাড়তে পারে।

কারণ অনেক ভুক্তভোগী কোথায় অভিযোগ করবেন কিংবা ঘটনার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কীভাবে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন—তা জানেন না।

সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ দুটোই

সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার সময়ে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তবে এই ইউনিটের কার্যকারিতা শুধু জনবল, যানবাহন বা প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করবে না।

দক্ষ ও নিয়মিত প্রশিক্ষিত তদন্তকারী, আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা, দ্রুত প্রমাণ সংরক্ষণ ব্যবস্থা, আন্তসংস্থা সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আদালতে গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপনের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ও কাউন্টার ন্যারেটিভের মতো কার্যক্রম পরিচালনায় স্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা, অনুমোদন ব্যবস্থা, স্বচ্ছ এসওপি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ নতুন এই ইউনিটের সামনে যেমন সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে, তেমনি এর বিস্তৃত প্রযুক্তিগত ও নজরদারি সক্ষমতা যথাযথ আইন, প্রক্রিয়া ও জবাবদিহির মধ্যে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

 

জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য,সাহস, সংযোগ…… 

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য