সকাল ১১:৩০:০০
| শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশ সদস্য আহত, মাটিতে ফেলে পেটানোর ঘটনা মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ২৮ দিনে, বছরের পর বছর ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

ঢাকায় ১ নভেম্বর থেকে ছয় রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা, পুরোনো বাস নিয়ে সংশয়

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

ঢাকায় ১ নভেম্বর থেকে ছয় রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা, পুরোনো বাস নিয়ে সংশয়

নিজস্ব প্রতিবেদক | জেটিভি নিউজ বাংলা

ছবি সংগৃহীত

ঢাকার যানজট কমানো, বাসের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করা এবং গণপরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘এক কোম্পানি, এক রুট’ নীতির আওতায় নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে। তবে নতুন বাসের পরিবর্তে বিদ্যমান বাস মেরামত ও রং করে সেবা চালুর পরিকল্পনা থাকায় যাত্রীসেবার মান কতটা বদলাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নতুন ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত বাসসেবাকে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে আনার পাশাপাশি নির্ধারিত বাসস্টপ, কাউন্টার ও ইলেকট্রনিক টিকিটব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জিপিএসের মাধ্যমে বাসের অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত রুটে অনুমোদনহীন বাস চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও রয়েছে।

তবে আগের উদ্যোগগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শুধু বাসের রং পরিবর্তন কিংবা কোম্পানি গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। কার্যকর টিকিটব্যবস্থা, নির্ধারিত বাসস্টপ এবং বাস চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

ছয় মাসের মধ্যে পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য

গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সাত কর্মদিবসের মধ্যে দুটি রুটে বাসসেবা চালু, দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চূড়ান্ত এবং ছয় মাসের মধ্যে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ৬৬টি কোম্পানির প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাস চলাচল করে। অনুমোদিত ৪১৮টি রুটের মধ্যে বাস চলাচল করছে মাত্র ৯৮টি রুটে।

একাধিক কোম্পানির বাস একই রুটে চলাচল করায় চালকদের মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা, যানজট, অনিরাপদভাবে বাস চালানো এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যমান ৯৮টি রুটকে পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি রুটে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ডিটিসিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের যাত্রা শুরুর স্থান ও গন্তব্য সম্পর্কে ধারণা পেতে ১০ হাজারের বেশি বাসযাত্রীর ওপর জরিপ এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটের প্রায় ৭০ শতাংশ বর্তমান রুটের মতোই থাকবে। তবে কিছু যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাস পরিবর্তন করতে হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ছয় রুটে চলবে ৮১৬টি বাস

প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি রুটে মোট ৮১৬টি বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন এবং একটি রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস চলবে।

ফিটনেসবিহীন বাস বাদ দেওয়া হলে চলাচলের উপযোগী বাসের সংখ্যা কমে যেতে পারে। জরাজীর্ণ বাস মেরামত ও রং করার জন্য মালিকদের দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের তালিকা সিটি করপোরেশনগুলোর কাছে জমা দিতে হবে ডিটিসিএ ও ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি)। তিন মাসের মধ্যে এসব নির্মাণ ও মেরামতকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

ছয়টি রুটে যেভাবে চলবে বাস

প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত ছয়টি রুট ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও আশপাশের জেলাগুলোকে যুক্ত করবে। এসব রুটে একাধিক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাস একটি কোম্পানির অধীনে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

১. শিববাড়ী–গাজীপুর–মহাখালী–ঢাকেশ্বরী মন্দির রুট

এ রুটে ভিআইপি পরিবহন ও বিকাশ পরিবহনের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানির বাস চলবে।

২. মিরপুর–কেরানীগঞ্জ রুট

জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে শুরু হয়ে কমার্স কলেজ, মিরপুর-১, টেকনিক্যাল, সায়েন্স ল্যাব, প্রেস ক্লাব, ফুলবাড়িয়া ও বাবুবাজার সেতু হয়ে চুনকুটিয়া পর্যন্ত যাবে বাস। এ রুট পরিচালনার জন্য দিশারী পরিবহন, তানজিল পরিবহন ও মেট্রোলিংক মিলে একটি কোম্পানি গঠন করেছে।

৩. ১৯ নম্বর রুট

ঘাটারচর থেকে মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও রামপুরা হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বাস চলবে। এ রুট পরিচালনা করবে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ।

৪. ২৪ নম্বর রুট

ঘাটারচর থেকে শাহবাগ, পল্টন ও সাইনবোর্ড হয়ে কাঁচপুর পর্যন্ত বাস চলবে। এ রুট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ফোর স্টার বাস লাইন। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাজনীগন্ধা পরিবহন, মালঞ্চ পরিবহন, সময় পরিবহন ও মিডলাইন পরিবহন।

৫. ঘাটারচর–মিরপুর-১০–আবদুল্লাহপুর–ধৌর রুট

এ রুটে সমন্বিতভাবে বাস পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিস্থান পরিবহন ও প্রজাপতি পরিবহনকে।

৬. টঙ্গী বিমানবন্দর–আজিমপুর রুট

এ রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস চলবে। টঙ্গী বিমানবন্দর থেকে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফার্মগেট হয়ে আজিমপুর ও ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত যাবে এসব বাস।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানিয়েছেন, শুরুতে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলবে। প্রথম দিকে দুটি-তিনটি কোম্পানির বাস চললেও পরে সেগুলোকে একটি কোম্পানির অধীনে আনা হবে। নতুন কোম্পানির বাসগুলো একই ধরনের হবে এবং বাসের রং করার কাজ শুরু হয়েছে।

পুরোনো বাস, নতুন রং

নতুন ব্যবস্থায় বাস পরিচালনার নিয়মে পরিবর্তন এলেও যানবাহনের মান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান বাসগুলো যথাসম্ভব মেরামত ও রং করে চালানোর পরিকল্পনা করেছে। যেসব বাস চলাচলের অনুপযোগী, সেগুলো বাদ দেওয়ার কথা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের যুক্তি, একসঙ্গে হাজার হাজার নতুন বাস নামানো বাস্তবসম্মত নয়। তাই শুরুতেই পুরো বাসবহর বদলে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়নি।

ডিটিসিএর উপপরিবহন পরিকল্পনাবিদ ধ্রুব আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাসমালিক সমিতিগুলোকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করা।

তিনি বলেন, “যখনই কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সরকার মালিক সমিতিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে।”

এবার বাসমালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি অনুমোদনহীন বাস, রুট পারমিটবিহীন যানবাহন এবং ফিটনেস সনদ ছাড়া চলাচল করা বাসের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।

ধ্রুব আলম বলেন, সরকার যতটা সম্ভব বিদ্যমান বাসগুলো মেরামত করে চালানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হলেও জরাজীর্ণ বাসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অসুস্থ যাত্রীদের ওঠানামার দুর্ভোগ থেকে যেতে পারে। বাসে আসন না পেলে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে কিংবা ভিড়ের মধ্যে বাসের গায়ে ঝুলে যাতায়াত করার পরিস্থিতিও বদলাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বাসের কাঠামো ও মান আগের মতো থাকলে সেবার গুণগত উন্নতি কতটা হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।

অন্যদিকে, মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ২৫টি বৃত্তাকার রুটে নতুন বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আরও প্রায় দুই মাসের মধ্যে এসব বাস চলাচল শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিটিসিএ জানিয়েছে, বৃত্তাকার রুটের জন্য সম্পূর্ণ নতুন বাস আনা হবে। প্রতিটি বাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। প্রধান রুটগুলোর জন্য ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের ৫২ আসনবিশিষ্ট বাস চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আগের উদ্যোগগুলো কেন ব্যর্থ হয়েছে

ঢাকায় বাস রুট পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা নতুন নয়। ২০০৪ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় প্রথম এ ধরনের সংস্কারের কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক উদ্যোগটি নতুন করে সামনে আনেন। তবে ২০১৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর কার্যক্রমের অগ্রগতি থমকে যায়।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সময়ে ঘাটারচর–কাঁচপুর রুটে পরীক্ষামূলক বাসসেবা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বাসমালিকদের বিরোধিতার মুখে উদ্যোগটি আর বিস্তৃত করা সম্ভব হয়নি।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার গাবতলী–চাষাঢ়া রুটে সীমিত পরিসরে বাসসেবা চালুর চেষ্টা করলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। এরপর ২০২৬ সালের আগস্টে বিদ্যমান বাস রং করে নারীদের জন্য বিআরটিসির ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করা হয়। দুই মাসের মধ্যেই সেবাটি বড় ধরনের পরিচালনাগত সমস্যায় পড়ে। সেবাটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

বাসস্টপ ও টিকিটব্যবস্থার দুর্বলতাও আগের উদ্যোগগুলোর ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ডিটিসিএর ২০২৪ সালের পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকা নগর পরিবহন ও বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলক আটটি রুটে প্রায় ৪০০টি নির্ধারিত বাসস্টপের মধ্যে ১৬৫টি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

কার্যকর টিকিটব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা বাসে ওঠার পর সরাসরি ভাড়া দেওয়া শুরু করেন। এতে বাস পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়।

সর্বশেষ উদ্যোগেও একই ধরনের সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি রুটগুলোর বাসমালিকেরা এখনো ইলেকট্রনিক টিকিটব্যবস্থায় সম্মতি দেননি।

ডিটিসিএর এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, বাসের টিকিট কাউন্টার স্থাপন করতেই কর্তৃপক্ষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ইলেকট্রনিক টিকিটব্যবস্থা চালু করা আরও কঠিন। তবে শেষ পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং পুরো কার্যক্রম সফল করতে এটি অপরিহার্য বলে জানান তিনি।

নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাসস্টপ ও টিকিট কাউন্টার স্থাপনের পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল সরানোর প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে ডিটিসিএ ও ডিএমপি সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা করছে।

নির্ধারিত রুট থেকে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা সরানোর বিষয়েও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চালক-সহকারীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ

চালক ও সহকারীদের কমিশনভিত্তিক পারিশ্রমিকের পরিবর্তে মাসিক বেতনের আওতায় আনার বিষয়েও কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বেশি যাত্রী পাওয়ার আশায় চালকদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, তা কমাতেই এ উদ্যোগ।

২০২২ সাল থেকে ঢাকায় ডিজিটাল টিকিটব্যবস্থা চালুর একাধিক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বাসমালিক ও চালকদের একাংশের অনীহা এবং যথাযথ তদারকির অভাবে সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা কমে সড়ক নিরাপত্তা বাড়তে পারে বলে মনে করেন কোনো কোনো চালক। তবে তাঁদের আয় কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

সদরঘাট রুটের বাসচালক কাদির মোল্লা বলেন, একই রুটে অনেক বাস চলাচল করায় চালকেরা অনেক সময় ইচ্ছা না থাকলেও যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, “এই রুটে যদি শুধু একটি কোম্পানির বাস চলে, তাহলে যাত্রী নেওয়ার জন্য অন্য বাসের সঙ্গে আর প্রতিযোগিতা করতে হবে না।”

নতুন বাস ছাড়া সেবার উন্নতি নিয়ে সংশয়

যাত্রীকল্যাণ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা পুরোনো বাস দিয়ে নতুন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার যদি বিদ্যমান বাসগুলো শুধু রং করে এবং নতুনভাবে সাজিয়ে সেবা চালু করে, তাহলে যাত্রীসেবার মানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।

তাঁর মতে, শুরু থেকেই নতুন বাস চালু করা উচিত ছিল। এ ছাড়া পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় যাত্রী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, আগের ফ্র্যাঞ্চাইজি উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার পেছনে দুর্বল সমন্বয়, কার্যকর প্রয়োগের অভাব এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি বাসের পাশাপাশি অনুমোদনহীন বাস চলতে থাকাও দায়ী।

আগের উদ্যোগগুলোতে পুরোনো বাসে নতুন রং লাগানো হলেও পরিচালনাপদ্ধতিতে তেমন পরিবর্তন আসেনি। কার্যকর টিকিটব্যবস্থা, নির্ধারিত বাসস্টপ এবং একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনা নিশ্চিত করা না যাওয়ায় প্রতিযোগিতা অব্যাহত ছিল।

তবে আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, নির্ধারিত রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাসের পাশাপাশি অন্য বাস চলাচল বন্ধ করা গেলে এবার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, “পাশাপাশি চলা বাসসেবা বন্ধ করা গেলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

তবে বাসের মান নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে বলে জানান তিনি। ঢাকার প্রচণ্ড গরম ও বিপুলসংখ্যক যাত্রীর কথা বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস চালুর জন্য সুস্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে ভাড়া সাশ্রয়ী রাখা, নির্ধারিত বাসস্টপ পুরোপুরি চালু করা, ইলেকট্রনিক টিকিটব্যবস্থা কার্যকর করা এবং স্মার্টকার্ড চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর

সব মিলিয়ে, ১ নভেম্বর থেকে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালুর উদ্যোগ ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের নতুন চেষ্টা। তবে আগের উদ্যোগগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু কোম্পানি গঠন কিংবা বাসের রং বদলালেই সমস্যার সমাধান হবে না।

নির্ধারিত রুটে একক কোম্পানির বাস চালানো, কার্যকর টিকিটব্যবস্থা, শৃঙ্খলাপূর্ণ বাসস্টপ এবং যানবাহনের মান নিশ্চিত করা গেলে তবেই যাত্রীসেবায় পরিবর্তন আসার সুযোগ তৈরি হবে।

 

জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্যের সঙ্গে , মানুষের পাশে……

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য