এক মাসের মধ্যে ফেল করা বিষয়ে আবার পরীক্ষা, সুযোগ পাচ্ছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থীকে শুধু যে বিষয়গুলোতে অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব বিষয়েই পুনরায় পরীক্ষা দিতে হবে। ফলে একটি বা দুটি বিষয়ে ফেল করার কারণে পরবর্তী বছরের পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না তাদের। সরকারের এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি দীর্ঘ অপেক্ষা ও মানসিক চাপও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগের বিষয়টি জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়গুলোতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত পরীক্ষার জন্য প্রায় এক বছর অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবে না।
আগে দুই ও তিন মাসের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল
এর আগে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্বর্তী পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে সময় জানানো হয়েছিল, দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া দুই মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে তিন বা তার বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ওই সময় আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন।
তিনি জানিয়েছিলেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এক মাস পুনর্নিরীক্ষণের কার্যক্রম চলবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হবে। এরপর পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আরও জানিয়েছিলেন, দুই বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব। তবে তিন বা তার বেশি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন হলে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এক বছর অপেক্ষার নিয়মে পরিবর্তনের উদ্যোগ
সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান।
তবে প্রচলিত এ ব্যবস্থায় একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণেও শিক্ষার্থীদের প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপের মুখেও পড়ে।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা এর আগেই জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগের কথা জানানো হলো।
১১ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট।
এবার সারা দেশে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র। এ ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৪৩৯টি।
এই বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। তাদের জন্য এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি এবারের ফল প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বছরের পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন তারা। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অকৃতকার্য হওয়ার কারণে এক বছর পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্যের সঙ্গে, মানুষের পাশে…….
পাঠকদের মতামত ০টি
মডারেটেড ফোরাম