সকাল ১১:৩০:০০
| সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোড হচ্ছে...
নামাজ লোড...
বিজ্ঞাপন

হেডার বিজ্ঞাপন স্লট

728×90 Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
নোটিশ
নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা। নোটিশ স্বাগতম! jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা-এ যুক্ত হতে ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার জরুরি নোট বা নোটিশ প্রকাশ করুন। আপডেট সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় jtvnewsbangla.com জেটিভি নিউজ বাংলা।
ব্রেকিং নিউজ
মিরপুরজুড়ে আতঙ্ক, তিন দিন ধরে পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত জনজীবন মিরপুরে তৃতীয় দিনের মতো পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ রাজধানীতে আজ শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এলপিজির বাজারে আবারও আগুন! ১২ কেজির সিলিন্ডারে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি, নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, কাভার্ডভ্যানে আগুন পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন, জড়িত শিল্পমালিকদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ২৮ দিনে, বছরের পর বছর ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা মায়ের এক থাপ্পড়ে অভিমান করে পাবনা থেকে ঢাকায় দুই শিশু, সাভারে উদ্ধার হতবাক পুলিশ প্রসাশন
জেলা-উপজেলা:

দৈনিক ইনফো ও সেটিংস

আজকের তারিখ ও পঞ্জিকা

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া ও নামাজের সময়

লোড হচ্ছে...

নামাজ লোড...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

📍 জেলা ও উপজেলা ফিল্টার

সাংবাদিক থেকে অভিনেতা, গায়ক থেকে সাহিত্যিক—খ্যাতি, প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের নেপথ্যে কী?

বিজ্ঞাপন

শীর্ষ ব্যানার বিজ্ঞাপন

৪১২×৯০ Leaderboard | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

আলোর পেশায় এত অন্ধকার কেন?

সাংবাদিক থেকে অভিনেতা, গায়ক থেকে সাহিত্যিক—খ্যাতি, প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের নেপথ্যে কী?

জেটিভি নিউজ বাংলা | বিশেষ ফিচার

সাংবাদিক মানুষের সামনে তুলে ধরেন সমাজের সত্য ও অসংগতি। অভিনেতা মানুষের গল্পকে জীবন্ত করে তোলেন পর্দায়। গায়ক মানুষের অনুভূতিকে সুরে প্রকাশ করেন। কবি ও সাহিত্যিক শব্দের মাধ্যমে মানুষের চিন্তা ও আবেগকে নাড়া দেন। নাট্যকার সমাজের নানা বাস্তবতাকে মঞ্চে তুলে ধরেন।

এই মানুষগুলোর কাছেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটু বেশি।

কারণ তাঁরা শুধু একটি পেশার মানুষ নন—তাঁরা সমাজের চিন্তা, সংস্কৃতি ও জনমতকে প্রভাবিত করেন। ফলে সাধারণ মানুষের মনে একটি স্বাভাবিক প্রত্যাশা তৈরি হয়, যাঁরা অন্যকে মানবিকতার কথা বলেন, তাঁদের নিজেদের মধ্যেও হয়তো থাকবে সহমর্মিতা, উদারতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।

কিন্তু বাস্তবতার চিত্র সবসময় এত সরল নয়।

মিডিয়া ও সংস্কৃতিজগতের বিভিন্ন অঙ্গনে মাঝেমধ্যেই সামনে আসে পারস্পরিক বিরোধ, পেশাগত প্রতিযোগিতা, একে অপরকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য কিংবা দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত দূরত্বের ঘটনা।

তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—মানুষকে মানবিকতার শিক্ষা দেওয়া এই পেশাগুলোর ভেতরেই এত দ্বন্দ্ব কেন?

কেন একজন সহকর্মীর সাফল্য আরেকজনের কাছে কখনো কখনো আনন্দের বিষয় না হয়ে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়?

কেন পেশাগত প্রতিযোগিতা অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্কের সংঘাতে পরিণত হয়?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মিডিয়া ও সৃজনশীল পেশার মানুষ কি সত্যিই অন্য পেশার মানুষের তুলনায় বেশি প্রতিহিংসাপরায়ণ, নাকি এই পেশার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে দ্বন্দ্বগুলো শুধু বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে?

পেশার মধ্যেই যখন প্রতিযোগিতা

মিডিয়া ও সৃজনশীল জগতের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হচ্ছে মানুষের মনোযোগ।

একজন সাংবাদিক চান তাঁর প্রতিবেদন আগে প্রকাশিত হোক। একজন টেলিভিশন উপস্থাপক চান তাঁর অনুষ্ঠান বেশি দর্শক দেখুক। একজন অভিনেতা চান গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটি তাঁর হাতে আসুক। একজন গায়ক চান তাঁর গান বেশি মানুষ শুনুক। একজন লেখক চান তাঁর বই বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছাক।

অর্থাৎ একই সময়ে একই সুযোগের জন্য অনেক মানুষ প্রতিযোগিতা করেন।

একটি ভালো সংবাদ সবার জন্য একসঙ্গে ‘এক্সক্লুসিভ’ হতে পারে না। একটি সিনেমার প্রধান চরিত্রে একই সময়ে অনেক অভিনেতা অভিনয় করতে পারেন না। একটি বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে একজনকে বেছে নেওয়া হলে অন্যরা সেই সুযোগটি পান না।

এই সীমিত সুযোগই তৈরি করে প্রতিযোগিতা।

আর প্রতিযোগিতা যখন সুস্থ থাকে, তখন সেটি পেশার মান বাড়ায়। কিন্তু যখন প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যক্তিগত অহং, অনিরাপত্তা কিংবা ক্ষমতার হিসাব, তখন সেটি ধীরে ধীরে রেষারেষিতে রূপ নিতে পারে।

সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্র নিয়ে গবেষণায়ও newsroom-এর কাঠামো ও পেশাগত কাজের ধরনকে সংঘাত তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৪০ জন স্প্যানিশ সাংবাদিকের সাক্ষাৎকারভিত্তিক গবেষণায় ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক—দুই ধরনের কারণেই newsroom conflict তৈরি হওয়ার কথা উঠে এসেছে।

সহকর্মীর সাফল্য কেন অস্বস্তির কারণ হয়?

একজন মানুষের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যখন তাঁর পেশাগত পরিচয় গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়, তখন কর্মক্ষেত্রে অন্যের সাফল্য কখনো কখনো নিজের অবস্থানের সঙ্গে তুলনা তৈরি করতে পারে।

‘সে এগিয়ে যাচ্ছে, আমি পিছিয়ে পড়ছি।’

‘ও বেশি সুযোগ পাচ্ছে, আমি পাচ্ছি না।’

‘ওর জনপ্রিয়তা বাড়ছে, আমার কমছে।’

এই তুলনা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সহকর্মীর সাফল্যকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে যেসব পেশায় জনপ্রিয়তা ও দৃশ্যমানতা সাফল্যের বড় অংশ, সেখানে এই তুলনা আরও তীব্র হতে পারে।

একজন শিল্পীর জনপ্রিয়তা মাপা হয় দর্শক, অনুসারী, ভিউ, বক্স অফিস, গান শোনার সংখ্যা কিংবা গণমাধ্যমে উপস্থিতির মাধ্যমে। একজন সাংবাদিকের ক্ষেত্রেও পাঠকসংখ্যা, দর্শক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার পরিমাণ কিংবা এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন পেশাগত পরিচিতির অংশ হয়ে উঠতে পারে।

ফলে পেশাগত অর্জন ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত মর্যাদার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

খ্যাতি যত বেশি, প্রতিযোগিতাও তত দৃশ্যমান

সাধারণ কোনো অফিসে দুই সহকর্মীর মধ্যে বিরোধ হলে সেটি সাধারণত সেই অফিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

কিন্তু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা বা সাংবাদিকের সঙ্গে আরেকজনের বিরোধ হলে সেটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে যেতে পারে।

কারণ মিডিয়া পেশার মানুষের কাজই হলো মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

তাঁদের ব্যক্তিগত বক্তব্য, পোশাক, সম্পর্ক, মন্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—সবকিছুই জনসাধারণের নজরে থাকে।

ফলে একটি ব্যক্তিগত বিরোধও অনেক সময় জনসমক্ষে চলে আসে।

এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

আগে একজন শিল্পী হয়তো কোনো সহকর্মীর সঙ্গে বিরোধের কথা কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মানুষের কাছে বলতেন। এখন একটি ফেসবুক পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যকে ঘিরে শুরু হতে পারে আলোচনা। এরপর শুরু হয় মন্তব্য, পাল্টা মন্তব্য, ভিডিও, লাইভ এবং অনুসারীদের বিতর্ক।

দুই ব্যক্তির বিরোধ তখন আর দুই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘দর্শক’ দ্বন্দ্বকে আরও বড় করে

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মানুষ শুধু বক্তব্য দেয় না; একই সঙ্গে প্রতিক্রিয়াও পায়।

কেউ একজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন। তাঁর অনুসারীরা এক পক্ষ নিলেন। অন্য পক্ষের অনুসারীরা পাল্টা বক্তব্য দিলেন।

ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি সমস্যা পরিণত হতে পারে ‘দুই পক্ষের’ লড়াইয়ে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তারকাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্ক ও নেতিবাচক বক্তব্য নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাতেও দেখা হয়েছে, কীভাবে তারকাদের ঘিরে online scandal ও hate speech দর্শকের ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিরোধ ভাইরাল হয়েছে মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বাস্তব জীবনে দীর্ঘদিনের শত্রুতা আছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়।

কারণ অনলাইনে অসম্পূর্ণ তথ্য, ভুল ব্যাখ্যা এবং অনুসারীদের অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়াও একটি ঘটনাকে বড় করে তুলতে পারে।

সৃজনশীল পেশায় অনিশ্চয়তা বড় কারণ

সাংবাদিকতা, অভিনয়, সংগীত, সাহিত্য ও অন্যান্য সৃজনশীল পেশার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে সবার জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে না।

আজ একজন শিল্পী জনপ্রিয়, কাল নতুন কেউ এসে সেই জায়গা দখল করতে পারেন।

আজ যে সাংবাদিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন হলে তাঁর ভূমিকা বদলে যেতে পারে।

আজ যে গায়ক সর্বত্র আলোচিত, নতুন গান বা নতুন শিল্পীর জনপ্রিয়তায় তাঁর উপস্থিতি কমে যেতে পারে।

এই অনিশ্চয়তা মানুষকে নিজের জায়গা নিয়ে উদ্বিগ্ন করতে পারে।

সৃজনশীল শিল্প নিয়ে ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি PLOS ONE গবেষণায় ৬১১ জন শিল্প ও সংগীতের শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় সৃজনশীল পরিবেশে hostile behaviour-এর অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় এবং গবেষকেরা এর পেছনে অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক, অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও অনিরাপদ চাকরি, সময়ের চাপ এবং ক্ষমতার অসম সম্পর্কের মতো কাঠামোগত বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনা করেছেন।

অর্থাৎ শুধু ব্যক্তির চরিত্র দিয়ে সবকিছু ব্যাখ্যা করা যায় না।

পেশার কাঠামোও মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।

ক্ষমতার সম্পর্কও কি ভূমিকা রাখে?

মিডিয়া ও বিনোদন জগতে শুধু সহকর্মী নয়—সম্পাদক, মালিক, প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, সাংবাদিক, ব্যবস্থাপক এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে ক্ষমতার সম্পর্কও থাকে।

যাঁর হাতে কাজ দেওয়ার ক্ষমতা বেশি, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক অনেক সময় অন্যদের পেশাগত ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এখানেই তৈরি হতে পারে নির্ভরশীলতা।

কেউ সুযোগ পাওয়ার জন্য সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। কেউ আবার মনে করেন, যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই অনুভূতি থেকে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।

সাংবাদিকতার কর্মক্ষেত্র নিয়ে গবেষণায় পেশাগত কাঠামো, সাংগঠনিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত কারণের সমন্বয়ে newsroom conflict তৈরির বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার পরিবর্তে অনানুষ্ঠানিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করা হয়।

যখন মতপার্থক্য ব্যক্তিগত শত্রুতায় রূপ নেয়

মতপার্থক্য থাকা কোনো সমস্যা নয়।

বরং সাংবাদিকতা ও সৃজনশীলতার জন্য মতপার্থক্য প্রয়োজন।

একজন সাংবাদিক অন্য সাংবাদিকের প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। একজন সাহিত্যিক অন্য সাহিত্যিকের লেখার সমালোচনা করতে পারেন। একজন পরিচালক কোনো অভিনেতার অভিনয় পছন্দ নাও করতে পারেন।

এগুলো স্বাভাবিক পেশাগত পার্থক্য।

সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ব্যক্তি ও কাজের পার্থক্য করা হয় না।

কাজের সমালোচনা গিয়ে দাঁড়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণে।

পেশাগত মতবিরোধ গিয়ে দাঁড়ায় সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘটনায়।

আর কখনো কখনো ব্যক্তিগত বিষয়কে সামনে এনে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতাও দেখা যায়।

এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; পুরো পেশার ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের মিডিয়া অঙ্গনে চাপের বাস্তবতাও কম নয়

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ নিয়েও সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।

২০২৫ সালে পরিচালিত ৩৩৯ সাংবাদিকের একটি জরিপে ১৫ শতাংশ সাংবাদিক কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একই জরিপে নারী সাংবাদিকদের মধ্যে মৌখিক ও অনলাইন হয়রানির হার পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে। গবেষণাটি World Association of News Publishers এবং BBC Media Action-এর অংশীদারত্বে পরিচালিত হয়।

আরেকটি ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে WAN-IFRA Women in News, City St George’s University of London এবং BBC Media Action-এর গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে ৩৩৯ সাংবাদিকের মধ্যে ১৭ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের হয়রানির কথা জানিয়েছেন। নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে মৌখিক ও অনলাইন হয়রানির হার পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

এগুলো সরাসরি ‘সহকর্মীদের মধ্যে প্রতিহিংসা’র পরিমাপ নয়। তবে এগুলো দেখায় যে সংবাদমাধ্যমের কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য, নিরাপত্তা, হয়রানি ও সাংগঠনিক সংস্কৃতি নিয়ে বাস্তব সমস্যা রয়েছে।

সাংবাদিকরাও সবসময় একে অপরের প্রতিপক্ষ নন

এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

মিডিয়ায় দ্বন্দ্ব যেমন আছে, তেমনি পারস্পরিক সহযোগিতাও আছে।

একজন সাংবাদিক বিপদে পড়লে অন্য সাংবাদিকরা পাশে দাঁড়ান। কোনো সংবাদ অনুসন্ধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক তথ্য ভাগাভাগি করেন। বড় দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় সাংবাদিকেরা অনেক সময় দলগতভাবে কাজ করেন।

অর্থাৎ পুরো মিডিয়া পেশাকে ‘রেষারেষির পেশা’ হিসেবে দেখা বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র নয়।

বরং একই পেশার মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতা—দুই বাস্তবতাই পাশাপাশি রয়েছে।

তাহলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এত বেশি কেন?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে মিডিয়ার সামাজিক ভূমিকার মধ্যে।

একজন সাংবাদিক যখন দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করেন, মানুষ আশা করেন তিনি নিজেও ন্যায়বোধসম্পন্ন।

একজন অভিনেতা যখন পর্দায় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ান, দর্শক তাঁর কাছেও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করেন।

একজন কবি যখন ভালোবাসা ও সহমর্মিতার কবিতা লেখেন, পাঠক তাঁর ব্যক্তিজীবনেও একই ধরনের সংবেদনশীলতা দেখতে চান।

কিন্তু শিল্প বা পেশাগত কাজ এবং ব্যক্তিগত আচরণ একই বিষয় নয়।

একজন মানুষ অসাধারণ শিল্পী হতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর আচরণ নিখুঁত নাও হতে পারে।

আবার কোনো ব্যক্তি সাধারণ মানুষের কাছে অপরিচিত হয়েও অসাধারণ মানবিক হতে পারেন।

তাই পেশাগত পরিচয় দিয়ে পুরো ব্যক্তিত্ব বিচার করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি কয়েকজনের আচরণ দিয়ে পুরো পেশাকে বিচার করাও ঠিক নয়।

অন্য পেশায় কি দ্বন্দ্ব নেই?

অবশ্যই আছে।

ব্যবসা, রাজনীতি, চিকিৎসা, আইন, শিক্ষা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান—প্রায় সব কর্মক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত বিরোধ দেখা যেতে পারে।

তবে মিডিয়া পেশার মানুষের একটি বড় পার্থক্য হলো—তাঁদের বিরোধও অনেক সময় সংবাদ হয়ে যায়।

একজন ব্যবসায়ীর অফিসের দ্বন্দ্ব হয়তো সংবাদে আসে না।

একজন অভিনেতার সঙ্গে আরেকজন অভিনেতার বিরোধ হলে সেটি বিনোদন সংবাদ হতে পারে।

একজন সাংবাদিকের সঙ্গে আরেক সাংবাদিকের বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একজন গায়কের বক্তব্যকে ঘিরে হাজার মানুষের আলোচনা শুরু হতে পারে।

অর্থাৎ দ্বন্দ্বের পাশাপাশি তার দৃশ্যমানতাও এই পেশায় বেশি।

জনপ্রিয়তার সঙ্গে আসে আলাদা ধরনের চাপ

খ্যাতি শুধু সুবিধা নিয়ে আসে না; চাপও নিয়ে আসে।

একজন জনপ্রিয় মানুষকে সবসময় নিজের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে হয়।

তাঁর একটি মন্তব্যের ব্যাখ্যা হতে পারে বহু রকম।

একটি ছবি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

একটি পুরোনো বক্তব্য নতুন করে ভাইরাল হতে পারে।

একজন সহকর্মীর সঙ্গে সাধারণ মতবিরোধও ‘বিরোধ’ হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে।

এই অতিরিক্ত দৃশ্যমানতার কারণে মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত সম্পর্কও অনেক সময় সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি আলোচনায় আসে।

দ্বন্দ্ব কমাতে প্রয়োজন পেশাগত সংস্কৃতির পরিবর্তন

প্রতিযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয় এবং সেটি প্রয়োজনও নেই।

প্রয়োজন হলো প্রতিযোগিতাকে স্বাস্থ্যকর রাখা।

একজনের সাফল্য যেন অন্যজনের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখা না হয়।

কাজের সমালোচনা যেন ব্যক্তিগত অপমান না হয়।

মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন ব্যক্তিগত আক্রমণের হাতিয়ার না হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলোরও প্রয়োজন স্পষ্ট আচরণবিধি, অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

কারণ একজন মানুষ শুধু ব্যক্তিগত চরিত্র দিয়ে কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি বদলাতে পারেন না; প্রতিষ্ঠানের কাঠামোও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ।

আলো ছড়ানোর পেশায় অন্ধকারের জায়গা কোথায়?

সাংবাদিকতা, অভিনয়, সংগীত, সাহিত্য ও নাটক—এসব পেশা সমাজের মানুষের চিন্তা ও অনুভূতিকে প্রভাবিত করে।

তাই এসব পেশার মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু প্রতিযোগিতা যখন অন্যকে হারানোর চেয়ে অন্যকে ছোট করার চেষ্টায় পরিণত হয়, তখন সেটি আর সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকে না।

একজন সাংবাদিকের বড় পরিচয় তাঁর সহকর্মীকে হারানো নয়—তাঁর কাজের মান।

একজন অভিনেতার সাফল্য অন্য অভিনেতার ব্যর্থতা নয়।

একজন গায়কের জনপ্রিয়তা অন্য গায়কের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে না।

একজন কবির ভালো লেখা অন্য কবির কলমকে থামিয়ে দেয় না।

বরং একই অঙ্গনে একাধিক মানুষের ভালো কাজ পুরো ক্ষেত্রকেই সমৃদ্ধ করতে পারে।

মিডিয়া ও সংস্কৃতিজগতের দ্বন্দ্বের গল্প তাই শুধু কয়েকজন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুযোগের সীমাবদ্ধতা, জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা, পেশাগত অনিশ্চয়তা, ক্ষমতার কাঠামো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মানুষের স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

আর এখানেই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকে যায়—মানুষের সামনে মানবিকতার গল্প বলা পেশাগুলো নিজেদের ভেতরের প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্যকে কতটা পেশাদারিত্ব, সম্মান ও মানবিকতার সঙ্গে সামলাতে পারছে?

 

জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য,সাহস, সংযোগ…..

বিজ্ঞাপন

ইন-আর্টিকেল বিজ্ঞাপন

In-Article Ad Slot | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন
রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

রুমন জোয়ার্দ্দার জনি

সম্পাদক ও প্রকাশক

তৃণমূলের উন্নয়ন, গণমানুষের অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বিজ্ঞাপন

নিচের ব্যানার বিজ্ঞাপন

মন্তব্য বিভাগের আগে | আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য এক বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

পাঠকদের মতামত ০টি

মডারেটেড ফোরাম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন

খবর অনুসন্ধান করুন

জনপ্রিয় সার্চ: অগ্নিঘটনা অন্যান্য... অপরাধ অর্থনীতি ও বানিজ্য